বাংলাদেশ আই ট্রাস্ট হাসপাতাল বিনা মূল্যে চোখে অস্ত্রোপচার

Print

রায়েরবাজারে বেড়িবাঁধ–সংলগ্ন এলাকায় বাংলাদেশ আই ট্রাস্ট হাসপাতালে বিনা মূল্যে অস্ত্রোপচার হয় l টাঙ্গাইল জেলার রামদেবপুর গ্রামের নূরুল ইসলামের বয়স পঞ্চাশের ওপর। অন্যের জমিতে কাজ করে সংসার চালান। বললেন, ‘বাম চোখ দিয়ে পানি পড়ে, পুঁজও পড়ে।’ কিন্তু ভালো চিকিৎসক দেখানোর, অস্ত্রোপচার করার সামর্থ্য নেই।

b62056a4616a80e055b2d823bbee27a2-11

২৯ আগস্ট টাঙ্গাইল শহরের থানাপাড়ায় একটি চক্ষুশিবির তাঁকে আশার আলো দেখিয়েছে। শিবিরের চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা তাঁকে জানান, রাজধানীর একটি আধুনিক হাসপাতালে বিনা মূল্যে তাঁর চোখে অস্ত্রোপচার সম্ভব। নূরুল ইসলাম আসেন ঢাকায়। গতকাল মঙ্গলবার সকাল নয়টায় তাঁর সঙ্গে কথা হয় রাজধানীর রায়েরবাজার বেড়িবাঁধ বাসস্ট্যান্ডের কাছে বাংলাদেশ আই ট্রাস্ট হাসপাতালে।

জানা গেল, টাঙ্গাইল থেকে নূরুল ইসলামের মতো আরও ৪৯ জন বিভিন্ন বয়সী নারী-পুরুষ এই হাসপাতালে এসেছেন। তাঁরা প্রত্যেকেই আগের দিন চক্ষুশিবিরে অংশ নিয়েছিলেন। একটা বাসে করে সবাই এসেছেন। একসঙ্গে আসার ব্যবস্থা করেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

গত সোমবার পাবনার সুজানগরের একেন আলীর চোখের ছানির অস্ত্রোপচার হয়েছে। কালো চশমা তাঁর চোখে। তিনি বলেন, ‘বাম চোখে কিছুই দেখতাম না।’ চশমা খুলে চোখ দেখানোর চেষ্টা করে বলেন, অস্ত্রোপচারের পর চোখ ভালো হয়েছে। খরচের কথা জানতে চাইলে বলেন, ‘বিনা খরচে।’ এই হাসপাতালে সার্বক্ষণিকভাবে কাজ করেন পাঁচজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক। তাঁদের একজন আশরাফুল হক বলেন, প্রতিদিন বহির্বিভাগে গড়ে ১০০ রোগী দেখা হয়, অস্ত্রোপচার করা হয় ১৫-২০টি। আর চক্ষুশিবিরের রোগী থাকলে ৩০ থেকে ৩৫টি অস্ত্রোপচার হয়। যেমন মঙ্গলবার ৩০ জনের অস্ত্রোপচার হওয়ার কথা ছিল। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ প্রতি মাসে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ১০ থেকে ১৫টা চক্ষুশিবিরের আয়োজন করে স্থানীয় কোনো স্বেচ্ছাসেবামূলক সংস্থার সহায়তায়। এতে হাসপাতালের দুজন চিকিৎসক ও তিনজন কর্মকর্তা-কর্মচারীর একটি দল অংশ নেয়। ওই শিবির থেকে বাছাই করে রোগী ঢাকার এই হাসপাতালে আনার ব্যবস্থা করা হয়।

এত রোগীর বিনা মূল্যে চিকিৎসাসহ নানা খরচ আছে। আছে চিকিৎসক, নার্স ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা। এসবের ব্যয় নির্বাহ হয় কীভাবে? উত্তরে হাসপাতালের পরিচালক ডা. ইশতিয়াক আনোয়ার বলেন, ‘সিংহভাগ ব্যয় নির্বাহ হয় শহীদ খালেক ও মেজর সালেক বীর উত্তম ট্রাস্টের অনুদানে। আর বাকি ব্যয় বহন করে বেসরকারি বাংলাদেশ আই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।’ কর্তৃপক্ষের রাজধানীর ধানমন্ডি, শান্তিনগর, উত্তরা ছাড়াও চট্টগ্রামে চোখের চারটি হাসপাতাল আছে।

এই উদ্যোগের নেপথ্যে আছেন ট্রাস্টের চেয়ারম্যান মাহবুবুর রহমান চৌধুরী। তিনি বলেন, ‘ওই চারটি হাসপাতালে দরিদ্র রোগীদের সেবা দেওয়া সম্ভব হয় না। শুধু দরিদ্র রোগীদের সেবার জন্য এই হাসপাতাল করা হয়েছে।’

 

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 798 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ
error: ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি