বাচ্চাকে ডিসিপ্লিন শেখাবেন যেভাবে

Print

বাচ্চাকে ডিসিপ্লিন শেখাবেন যেভাবে

সন্তানকে সঠিকভাবে গড়ে তুলতে শৃঙ্খলাবোধ শেখানোর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। আর এই  শৃঙ্খলা শেখানোর দায়িত্ব বর্তায় প্রথমে মা-বাবা এর পর শিক্ষকের। সন্তানকে কী করে শেখাবেন নিয়মনীতি, জানা প্রয়োজন।

► সন্তানের কাছে নিজেকে রোলমডেল করে তুলুন। মৌখিক ইনস্ট্রাকশনের পাশাপাশি নিজেও নিয়ম মেনে চলুন। অনেক বেশি ইফেক্টিভ হবে। আপনি যদি সময়ে-অসময়ে টিভি চালিয়ে দেন বা ফোনে আড্ডা দেন, তাহলে কখনোই আশা করবেন না আপনার ছেলে-মেয়ে সময়মতো হোমওয়ার্ক শেষ করবে। নিজে সময়ের কাজ সময়ে করুন। সন্তানরা আপনাকে দেখেই শিখবে। আপনি যদি সন্তানের থেকে সম্মান আশা করেন, তাহলে আপনাকেও ওকে সম্মান করতে হবে। যত ছোটই হোক না কেন, ও যে পরিবারের একজন অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য, এই বোধটা যেন ওর ছোট থেকেই জেগে ওঠে। সন্তানের মতামতকে গুরুত্ব দিন। ওর কথা শুনুন। যদি ওর অভিমত মানার মতো না হয়, তাহলে ওকে বুঝিয়ে বলুন কেন তা মানা সম্ভব নয়। ‘আমি না বলেছি, তাই না,’ এ ধরনের মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকুন।

►সন্তানকে শাসন করার সময় আপনি ও আপনার পরিবারের সদস্যদের একটা ইউনিট হিসেবে কাজ করতে হবে। একজন খুব বকাঝকা করলেন, আরেকজন টেনে নিয়ে গিয়ে আদর করলেন—এমন করলে চলবে না। এতে বাচ্চার মধ্যে কোনো একজনকে ফেবার করার প্রবণতা তৈরি হতে পারে। বাচ্চাকে শাসন করতে গিয়ে নিজেদের মধ্যে ঝামেলা করবেন না। বাচ্চাকে বোঝাতে হবে ভুলটা ভুলই। ও যেন বুঝতে পারে অন্যায় করলে মা-বাবা দুজনেই রাগ করেন।

► বাচ্চাকে বকার প্রয়োজন হলে কখনো কোনো খারাপ শব্দ প্রয়োগ করবেন না বা অন্য কারোর সঙ্গে তুলনা করে কথা বলবেন না। এতে বাচ্চার আত্মবিশ্বাস কমে যায়। যেমন—‘তোমার মাথায় একেবারেই বুদ্ধি নেই,’ এ রকম না বলে বলতে পারেন, ‘এটা কি একটা বুদ্ধিমান ছেলের মতো কাজ হয়েছে?’

►একেকজন শিশুর চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য একেক রকম। সে অনুযায়ী আপনার পরিকল্পনা ও প্রয়োগ কৌশল তৈরি করুন। হাইপার অ্যাকটিভ বাচ্চার সঙ্গে কল্পনাপ্রবণ, শান্ত বাচ্চার একটা পার্থক্য তো থাকবেই। ও কিভাবে সময় কাটাতে ভালোবাসে, আপনার কাছ থেকে কতটা গুরুত্ব চায়, কোন সময়ে পড়তে বসতে স্বচ্ছন্দ বোধ করে। সব কিছু মাথায় রেখে দিনের রুটিন স্থির করুন। ওর মতামত নিয়ে রুটিন তৈরি করুন। তবে খেয়াল রাখবেন, রুটিন একবার তৈরি হয়ে গেলে তা যেন নড়চড় না হয়।

► খুব বেশি নিয়ম-কানুন বাচ্চাদের ওপর চাপিয়ে দেবেন না। স্কুল থেকে ফিরে অন্তত দুই ঘণ্টা যেন ছোটাছুটি করে বন্ধুদের সঙ্গে খেলতে পারে। ছবি আঁকা, স্ট্যাম্প জমানোর মতো নিজস্ব কিছু শখ থাকলে উৎসাহিত করুন।

► নিয়ম কখনোই চাপিয়ে দেবেন না। কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে ওর পছন্দ-অপছন্দকে গুরুত্ব দিন। কেন আপনি সিদ্ধান্তটা নিচ্ছেন, সেটা বুঝলে ওর কাছে নিয়ম পালনের গ্রহণযোগ্যতাও বাড়বে।

► কোনো অন্যায় করতে দেখলে প্রথমে ওয়ার্নিং দিন, বুঝিয়ে বলুন, তারপর শাস্তি দিন। শাস্তি মানে কিন্তু চেঁচামেচি বা গায়ে হাত তোলা একেবারেই নয়। কিছুদিনের জন্য ওর পছন্দের কোনো জিনিস বন্ধ করে দিন, বা ওর সঙ্গে কথা বলা থামিয়ে দিন।

► সবার সামনে ওর সমালোচনা বা নিন্দা করবেন না। এতে ওর আত্মবিশ্বাসে চিড় ধরতে পারে। কথাবার্তায়, আচার-আচরণে ইতিবাচক ইঙ্গিত থাকলে ও উৎসাহিত বোধ করবে।

► কোনো উপলক্ষ ছাড়াই ওর পছন্দমতো ছোট কোনো উপহার দিন যাতে ও বুঝতে পারে ওর ব্যবহারে এবং কাজকর্মে আপনারা খুশি।

► ওর সামনে কখনোই কোনো গুরুজনের সমালোচনা বা মিথ্যাচার করবেন না, তাহলে ও তাঁদের প্রতি শ্রদ্ধা তো হারাবেই, আপনাকেও শ্রদ্ধা করতে শিখবে না। এই অশ্রদ্ধা ওর আচার-আচরণে ফুটে উঠবে।

► বাচ্চাকে সময় দিন, যাতে আপনারা একে অপরকে ভালো করে চিনতে পারেন। এ সময়টুকুর মধ্যে সুস্থ রুচি, সামাজিকতার খুঁটিনাটি ওর মধ্যে গেঁথে দিন।

► রুটিন ভাঙার মজাটাও ওকে উপভোগ করতে দিন কোনো এক ছুটির দিনে বা স্কুল ছুটির সময়ে। কোনো নিয়মের তোয়াক্কা না করে সপরিবারে সেই বিশেষ দিনটিতে মেতে উঠুন আনন্দে।

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 384 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ