বান্দরবানের সরকারী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক সংকট, ১৮৬পদের বিপরীতে রয়েছে ৯৭জন

Print

মো: ইউছুপ মজুমদার, বান্দরবান প্রতিনিধি : বান্দরবান পার্বত্য জেলার সাত উপজেলার ৮টি সরকারী উচ্চ বিদ্যালয়ে চরম শিক্ষক সংকটে স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। শিক্ষার মান বজায় রেখে পাঠদান করতে ব্যর্থ হচ্ছে এই সরকারি বিদ্যালয় গুলো। শিক্ষক সংকটের কারণে গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস হারাতে বসেছে এই বিদ্যালয়গুলো। এসব বিদ্যালয়ে এখন মানসম্মত শিক্ষা দিতে ব্যর্থতার মূল কারণ তীব্র শিক্ষক সংকট জানিয়েছে সচেতন মহল। শিক্ষক সংকট নিয়ে কয়েকটি উপজেলায় এলাকাবাসি অসংখ্যবার মানববন্ধন ও স্মারকলিপি প্রদান করলেও কোন প্রতিকার না পেয়ে হতাশ অভিভাবকমহল ও শিক্ষার্থীরা। জানা যায়, বান্দরবান পার্বত্য জেলার আটটি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে ১৮৬জনের অনুমোদিত পদ থাকলেও বর্তমানে কর্মরত আছে মাত্র ৯৭জন শিক্ষক শূণ্য রয়েছে আরো ৮৯টি শিক্ষকের পদ। শিক্ষক সংকটে থাকা বিদ্যালয় গুলো হলো, বান্দরবান সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়। এই স্কুলে ৫২জন শিক্ষক পদ অনুমোদিত থাকলেও বর্তমানে এখানে শূন্য পদ রয়েছে ২৬টি। একজন প্রধান শিক্ষকসহ গণিতে ৩জন, ভৌতবিজ্ঞানে ৪জন, জীববিজ্ঞানে ৩জন, বাংলায় ৫জন, ব্যবসায় শিক্ষায় ২জন, সামাজিক বিজ্ঞানে ২জন, ইসলামিক শিক্ষা ও কৃষিতে ১জন করে মোট ২৬টি পদ শূন্য রয়েছে। এর পরে লামা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে ২৭জন শিক্ষকের পদ থাকলেও কর্মরত আছে মাত্র ৮জন। শূন্য পদ রয়েছে ১৯টি। এই স্কুলে বর্তমানে ১জন প্রধান শিক্ষকসহ গণিত বিভাগ, ভৌতবিজ্ঞান, জীববিজ্ঞানে ২জন করে, বাংলায় ৩জন, ইংরেজির ৪ জন, ব্যবসায় শিক্ষায় ১, সামাজিক বিজ্ঞান, ভূগোল, কৃষি ও চারুকলা বিভাগে ১জন করে মোট ১৯জন শিক্ষকের পদ খালি রয়েছে। শিক্ষক সংকটের তালিকায় রয়েছে বান্দরবান সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়। এই বিদ্যালয়ে ৫৩জন শিক্ষকের বিপরীতে কর্মরত আছে ৩৩জন। গণিত, ভৌতবিজ্ঞান, বাংলা, ইংরেজি বিষয়ের ৪জন করে এবং জীববিজ্ঞান ও পদার্থ বিষয়ে ২জন করে মোট ২০টি পদ শূন্য রয়েছে। এছাড়াও রুমা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে ১১ শিক্ষকের বিপরীতে কর্মরত আছে মাত্র ৪জন। এই বিদ্যালয়ে একজন প্রধান শিক্ষকসহ গণিত, সামাজিক বিজ্ঞান, শারীরিক শিক্ষা, ইংরেজি ও ভূগোল বিভাগে ১জন করে মোট ৭জনের পদশূন্য রয়েছে। নাইক্ষ্যংছড়ি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে ১১ শিক্ষকের পদের মধ্যে বর্তমানে কর্মরত আছে ৬জন শিক্ষক। প্রধান শিক্ষক, সহকারী প্রধান শিক্ষক, ইংরেজি, গণিত, বিজ্ঞান বিভাগে ১জন করে মোট ৫জনের পদ শূন্য রয়েছে। আলীকদম সরকারী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মৃনাল কান্তি দাশ জানান, স্কুলে ১১ শিক্ষক পদের মধ্যে ৬জন কর্মরত আছে। গণিত, ভৌতবিজ্ঞান, বাংলা, ব্যবসায় শিক্ষায় ১জন করে মোট ৫জন শিক্ষক নেই। রোয়াংছড়ি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক, গণিত, ভৌতবিজ্ঞান, বাণিজ্যিক গণিত ও পদার্থ বিভাগে ১জন করে মোট ৫জন শিক্ষকের পদ শূন্য। এই স্কুলে বর্তমানে কর্মরত আছে ৬জন শিক্ষক। থানছি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে ১০টি পদের মধ্যে কর্মরত আছে ৮জন। গণিত ও ইংরেজি বিভাগে কোন শিক্ষক নেই। জেলার এসব উপজেলার উচ্চ বিদ্যালয়গুলোতে কোনমতে জোড়াতালি দিয়ে পাঠদান করানো হচ্ছে। স্থানীয় অভিভাবকরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যালয়ে শিক্ষক সংকট থাকায় শিক্ষার্থীরা যথাযথ শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। নামেই সরকারি বিদ্যালয় কিন্তু লেখাপড়ার মানের দিক দিয়ে বেসরকারি বিদ্যালয়ের চেয়েও অনেক নিচে। উপজেলা পর্যায়ে কর্মরত একাধিক শিক্ষক এ প্রতিবেদককে জানান, শিক্ষক সংকটের কারণে স্কুলে স্বাভাবিক শিক্ষক কার্যক্রম ব্যাহত হয়। প্রতিদিন একজন শিক্ষককে পর পর একাধিক ক্লাস নিতে হয়। এতে শিক্ষার মান স্বাভাবিকভাবেই কমে যায়। যার প্রভাব পড়ে শিক্ষার্থীদের উপর। যেভাবেই হোক দ্রুত শূন্য শিক্ষকদের পদগুলো পূর্ণ করার জন্য জেলা পরিষদসহ সংশ্লিষ্ট শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতি দাবী জানান। জেলা শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, ৮টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে মোট ১৮৬জনের বিপরীতে কর্মরত শিক্ষক রয়েছে ৯৭জন। শূন্য রয়েছে ৮৯টি পদ। এদিকে পার্বত্য জেলা পরিষদের একটি সূত্রে জানা গেছে, ২০১৪ সালেল ২৬ মে সরকারের সাথে বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের মধ্যে চুক্তি সম্পাদনের মাধ্যমিক শিক্ষা ব্যবস্থা কার্যক্রম হস্তান্তরিত হয়। তৎসময়ও জেলার ৮টি সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক সংকটজনিত কারণে শিক্ষা কার্যক্রমের নাজুক পরিস্থিতি দেখা মেলে। যার কারণে ৮জন খন্ডখালীন শিক্ষক ও মাস্টাররোল ভিত্তিক ৩জন সহায়ক কর্মচারী নিয়োগ প্রদান করা হয়েছিল। কিন্তু মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তর কর্তৃক যখন তখন শিক্ষক বদলির কারণে সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় সমূহে স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে বলে মনে করছেন সচেতন মহল। বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম আঞ্চলিক উপ-পরিচালক গাজী গোলাম মাওলা বলেন, ‘শিক্ষকের পদ শূন্য থাকায় স্বাভাবিকভাবে শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হওয়া স্বাভাবিক। আমরা বিষয়টি নিয়ে ঊর্ধ্বতন মহলের সাথে বলেছি। ইতিমধ্যে কোন বিদ্যালয়ে কত পদ শূন্য রয়েছে সেই তালিকাও পাঠানো হয়েছে। বান্দরবান জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার ভারপ্রাপ্ত দায়িত্বে থাকা সোমা রাণী বড়ুয়া শিক্ষক সংকটের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ৮টি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষকের শূন্য পদ পূরণের জন্য শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ও অঞ্চলিক উপপরিচালক মহোদয় অবগত আছেন। তবে প্রতিটি স্কুলে কর্মরত শিক্ষকদের অন্তত তিন বছর বাধ্যতামূলক একই কর্মস্থলে রাখা গেলে এ সংকট কাটিয়ে উঠার সম্ভাবনা রয়েছে।

 

 

 

 

 

 

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 297 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ