বাবলু-টুম্পার আনন্দঘন বিয়ের অনুষ্ঠান যে ভাবে সম্পন্ন হল

Print
আন্দনঘন পরিবেশে জাতীয় পার্টির সাবেক মহাসচিব জিয়াউদ্দিন বাবলু এমপি এবং বেসরকারি একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের  শিক্ষক মেহেজেবুননেছা রহমান টুম্পার বিবাহত্তোর সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত হয়েছে। অনেকটা পারিবারিকভাবে বিয়ের অনুষ্ঠান হলেও সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে নব বধু ও বরকে দোয়া করতে হাজির হয়েছিলেন দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনের বর্ষীয়ান থেকে শুরু করে ব্যবসায়ী, সাংবাদিক, শিক্ষক, বন্ধু এবং উভয় পরিবারের ঘনিষ্ঠজনরা।

রাজধানীর খিলখেতের একটি পাঁচ তারকা হোটেলে আয়োজিত এ বিবাহোত্তর সংবর্ধনা উপলক্ষ্যে সন্ধ্যা ৭টার আগেই অনুষ্ঠানস্থলে এসে উপস্থিত হন মেহেজেবুননেছা রহমান টুম্পার মামা, জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান, সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ। ধীরে ধীরে আমন্ত্রিত অতিথিরা আসতে শুরু করেন। সন্ধ্যা ৭টা ৪২ মিনিটে বর-কনে অনুষ্ঠানস্থলে এসে পৌঁছালে তাদের স্বাগত জানান এরশাদ। এসময় জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য ও পানিসম্পদ মন্ত্রী আনিসুল হক এরশাদকে উদ্দেশ্য করে ইংরেজিতে বলেন, ‘ইউ হেভ ডান ইট, স্যার।’ এরশাদও প্রতিউত্তরে বলে উঠেন, ‘ইট ওয়াস মাই ডিউটি।’ এসময় উপস্থিত সবাই হেসে উঠেন।

জিয়া উদ্দিন বাবলু এবং মেহেজেবুননেছা রহমান (টুম্পা)র নতুন জীবন সুখের ও শান্তিময় হবে এই কামনা করে হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ বলেন, আমার ভাগ্নি বলে নয়, টুম্পা অনেক লক্ষী একটা মেয়ে। বাবলুকে তো বহু বছর ধরে চিনি। দুজন আশা করছি ভবিষ্যতে খুব ভালো থাকবে।

বাণিজ্য মন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামন্ডলীর সদস্য তোফায়েল আহমেদ বলেন, আমি এসেছি বাবলু এবং টুম্পার নতুন জীবনকে স্বাগত জানাতে। ভবিষ্যতে তারা দুজনই অনেক অনেক ভালো থাকবে এই আশা করছি।

বিএনপি নেতা ও সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোরশেদ খান বলেন, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ হিসাবে আমরা বাইরে অনেক কথাই বলি। কিন্তু আমরা যারা রাজনীতি করি তারা সবাই একই পরিবারের মানুষ। জিয়া উদ্দিন বাবলু এবং মেহেজেবুননেছা রহমান টুম্পার বিয়ের অনুষ্ঠানে এসে আমার খুব ভালো লাগছে। বিশেষ করে এ বয়সে তারা যে চমৎকার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তাতে আমি ভীষণ খুশি। তাদের সুন্দর ভবিষ্যত কামনা করছি।

পানিসম্পদ মন্ত্রী আনিসুল হক বলেন, এই দম্পত্তির সামনে অফুরন্ত সুসময় অপেক্ষা করছে। আমি ব্যক্তিগতভাবে তাদের পারিবারিক জীবনের সুখ ও শান্তি কামনা করতে এবং দোয়া করতেই এখানে এসেছি।

জাতীয় পার্টির কো-চেয়ারপারসন জি এম কাদের বলেন, বাবলু এবং টুম্পার বিয়ে হওয়াতে বাবলুর সঙ্গে আত্নীয়তা হলো। এটা নতুন একটা পরিচয়। আশা করছি দুজনের নতুন জীবন খুব সুখের হবে।

জাতীয় পার্টির মহাসচিব রুহুল আমিন হাওলাদার বলেন, জাতীয় পার্টি একটা পরিবারের মতো। এ পরিবারে আজ আনন্দের দিন। নতুন জীবনে জিয়াউদ্দিন বাবলু এবং টুম্পা সুখে শান্তিতে থাকবে এটাই আমরা বিশ্বাস করি।

বিবাহোত্তর সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে সবাইকে স্বাগত জানাতে ব্যস্ত সময় পার করেন জিয়া উদ্দিন বাবলুর শ্বাশুড়ি সংসদ সদস্য মেরিনা ইয়াসমিন। তিনি শুধু সৃষ্টিকর্তার কাছে এই নতুন দম্পত্তির জন্য দোয়া চেয়েছেন যেন তারা ভালো থাকতে পারেন।

এর আগে শুক্রবার সকালে জিয়া উদ্দিন বাবলু এবং মেহেজেবুননেছা রহমান টুম্পার বিয়ে সম্পন্ন হয়। বাবলুর স্ত্রী মেহেজেবুননেছা রহমান (টুম্পা) পেশায় একজন শিক্ষক। তিনি সাউথ ইস্ট ইউনিভার্সিটির বিবিএ বিভাগের প্রোগ্রাম ডিরেক্টর। টুম্পার প্রথম সংসারে এক মেয়ে ও এক ছেলে রয়েছে। বাবলুর শাশুড়ি মেরিনা রহমান। জাপা থেকে সংরক্ষিত আসনে নির্বাচিত এমপি মেরিনা সম্পর্কে এরশাদের আপন বোন। এরশাদের একান্ত আগ্রহ ও উদ্যোগেই জিয়াউদ্দিন বাবলু সাথে টুম্পার বিয়ে হয়েছে।

এর আগে ২০০৫ সালে জিয়াউদ্দিন বাবলুর প্রথম স্ত্রী ফরিদা সরকার ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে  মারা যান। ফরিদা নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক ছিলেন। বাবলু ফরিদা দম্পতির ঘরে এক সন্তান রয়েছে। পুত্র আশিক আহমেদকে নিয়ে আছেন জিয়াউদ্দিন বাবলু। ছেলে এমবিএ শেষ করে ব্যবসা করছেন, বিয়েও করেছেন।

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 1075 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ