বাবা-মা গ্রহণ করেননি, আল্লাহ কীভাবে বেহেশতে নেবেন

Print

শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেছেন, ‘যারা যুবকদেরকে জঙ্গিবাদের দিকে নিয়ে যাচ্ছে তারা ইসলামের নামে তাদের ব্রেনওয়াশ করছে। তারা যুবকদেরকে বলছে জিহাদে মারা গেলে তারা সরাসরি বেহেশতে যাবে এবং সেখানে সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা পাবে, যা এ দুনিয়ায় তারা পাচ্ছে না। হলি আর্টিজান ও শোলাকিয়ার ঘটনায় নিহত জঙ্গিদের লাশ তাদের বাবা-মা গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। যখন বাবা-মা তাদের গ্রহণ করেন না, তখন আল্লাহ তাদেরকে কীভাবে বেহেশতে নেবেন।’
‘জঙ্গিমুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান তৈরি’ শীর্ষক শিক্ষকদের এক সমাবেশে বক্তৃতাকালে শিক্ষামন্ত্রী এ কথা বলেন। চট্টগ্রামের নাসিরাবাদ গার্লস কলেজ ক্যাম্পাসে চট্টগ্রাম মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড এই সমাবেশের আয়োজন করে।
সন্ত্রাসের পথ থেকে ছাত্রদের দূরে রাখতে তাদের মধ্যে নৈতিকতা উন্নয়নে শিক্ষকদের ভূমিকার ওপর জোর দেন শিক্ষামন্ত্রী নূরুল ইসলাম নাহিদ। বুধবার ওই সমাবেশে নাহিদ বলেন, ‘আপনারা (শিক্ষক) ছাত্রদের কাছে সবচেয়ে শ্রদ্ধেয় ব্যক্তিত্ব। আপনাদের এটা নিশ্চিত করতে হবে যে, আপনারা যেসব ছাত্র তৈরি করছেন তাদের যেন নৈতিক মান বজায় থাকে। তারা যেন মানবতার প্রতি সহানুভূতিশীল চিন্তাভাবনা নিয়ে বেড়ে ওঠে।’
ছাত্ররা যাতে লেখাপড়ার প্রতি মনোযোগী হয় শ্রেণিকক্ষে সেরকম পরিবেশ তৈরি করতে তিনি শিক্ষকদের প্রতি আহ্বান জানান। স্কুলে লেখাপড়ার পাশাপাশি সাংস্কৃতিক ও অন্যান্য অনুষ্ঠানের আয়োজন বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন মন্ত্রী। ছাত্ররা যাতে ভুল পথে না যায়, সেজন্য তাদের সঠিক শিক্ষা দেওয়ার ওপরও গুরুত্ব আরোপ করেন।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘কেবল বিদ্যমান আইন দিয়ে জঙ্গিবাদ নির্মূল করা যাবে না। আমাদের এজন্য দরকার একটি সামাজিক আন্দোলন ও প্রতিরোধ। আমাদের মন্ত্রণালয় সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার জন্য কাজ করছে।’
তিনি বলেন, ‘স্থানীয় স্কুল-কলেজগুলোর কর্মকর্তাদের পাশাপাশি শিক্ষক, অভিভাবক, গণ্যমান্য ব্যক্তি, সাংস্কৃতিক কর্মী ও প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্যবৃন্দ রয়েছেন। তাই সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে জনমত সৃষ্টির জন্য আমি সবার প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।’
তিনি বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে। তাই এ দেশকে আমরা কখনও সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের স্থায়ী ঘাঁটি হতে দেবো না।’
অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর শাহেদা ইসলাম, শিক্ষা সচিব এম সোহরাব হোসেন, চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার রুহুল আমিন, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদফতরের মহাপরিচালক প্রফেসর ড. এস এম ওয়াহিদুজ্জামান, চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক শামসুল আরেফিন বক্তৃতা করেন।

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 196 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ