বাস ভাড়ায় নৈরাজ্য আরও বাড়ল

Print

সিটিং সার্ভিসবিরোধী অভিযান ১৫ দিনের জন্য স্থগিত করার পর রাজধানীতে বাস ভাড়ায় নৈরাজ্য আরও বেড়েছে। সিটিং হিসেবে চললেও বিআরটিএর নির্ধারিত ভাড়ার বেশি আদায় করা যাবে না-এমন ঘোষণার কোনো বাস্তবায়ন নেই। বাসগুলোতে ইচ্ছেমত আদায় করা হচ্ছে ভাড়া। আর প্রতিবাদ করে লাভ হবে না জেনে চুপ যাত্রীরাও।
অবৈধ সিটিং সার্ভিস বন্ধে অভিযানের চার দিনের মাথায় যাত্রী স্বার্থকে বর্ম করে ১৫ দিনের জন্য অভিযান স্থগিত করে বিআরটিএ। সিটিং এর জন্য কে বা কারা দাবি জানিয়েছিল এই প্রশ্নের জবাব না থাকলেও পরিবহন মালিকদের সঙ্গে বুধবার বৈঠক করে তারা। ওই বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়, সিটিং সার্ভিসকে আইনের আওতায় এনেই তা চালু করা হতে পারে। আর ১৫ দিনের মধ্যে এই প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত সিটিংবিরোধী অভিযান স্থগিত থাকবে।

বৈঠকের পর সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির মহাসচিব খন্দকার এনায়েত উল্লাহ জানান, এই কয়দিন সিটিং হিসেবে চললেও বিআরটিএর নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে বেশি আদায় করা যাবে না।
কিন্তু এই ধরনের আগের বহু ঘোষণার মতই একটা অকার্যকর ঘোষণা হয়ে থাকলো এটি। একেক বাস ভাড়া আদায় করা হচ্ছে একেক রকম। যেন প্রতিটি পরিবহনই সিদ্ধান্ত গ্রহণে স্বাধীন।
কোনো বাসেই পাঁচ টাকার টিকিট নেই, যাত্রাবাড়ী থেকে রাজধানীর উত্তর ও পশ্চিম অংশে চলাচলকারী বাসগুলোতে সর্বনিম্ন ভাড়া নেয়া হচ্ছে ১০ টাকা।
চিটাগাং রোডের সাইনবোর্ড থেকে ঢাকা মেডিকেল পর্যন্ত ঠিকানা পরিবহনে ভাড়া নেয়া হচ্ছে ২০ টাকা। সাইনবোর্ড থেকে কয়েক কিলোমিটার দূরের কাজলা থেকেও নেয়া হচ্ছে একই ভাড়া।

যাত্রাবাড়ী থেকে মিরপুর-১২ পর্যন্ত চলাচলকারী খাজাবাবা পরিবহনে জয়কালী মন্দির থেকে শাহবাগ পর্যন্ত ভাড়া নেয়া হচ্ছে ১৫ টাকা। আগের দিনও যা ছিল ১০ টাকা। এত ভাড়া কেন জানতে চাইলে চালকের সহকারী হেসে দিয়ে বলেন, ‘আবার সিটিং হয়া গেছে’। সিটিং চালালেও তো নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে বেশি নেয়া যাবে না- এমন মন্তব্যের জবাবে সহকারী বলেন, ‘কে বলছে, সিটিং চালামু, তো ভাড়া তো বেশি নিমুই।’
প্রেসক্লাব থেকে ফার্মগেট পর্যন্ত কোথাও লোক তোলার কথা না। কিন্তু বাসটি মৎস্য ভবন মোড়, শাহবাগ মোড়, বঙ্গবন্ধু মেডিকেল কলেজের সামনে, শেরাটন সিগন্যাল, পরীবাগ, বাংলামোটর, কারওয়ানবাজার-প্রতিটি মোড়েই যাত্রী তোলার জন্য ডাকাডাকি করেছে। অর্থাৎ লোকাল হিসেবে চলেই বাসটি ভাড়া নিয়েছে সিটিং এর।
ওয়েলকাম পরিবহনে ফার্মগেট থেকে আমিনবাজার পর্যন্ত গেলে ভাড়া দিতে হয় ২০ টাকা। আবার কল্যাণগেটের কলেজ গেটে নামলেও নেয়া হচ্ছে একই ভাড়া।
সময় ও মঞ্জিল পরিবহনে সর্বনিম্ন ভাড়া হওয়ার কথা পাঁচ টাকা। কিন্তু তাদের টিকিটের দাম নূন্যতম ১০ টাকা।
উত্তর বাড্ডা থেকে মেরুল বাড্ডা পর্যন্ত এক কিলোমিটারের ভাড়া অনাবিল পরিবহনে নেয়া হয়েছে ১০ টাকা। আগের দিনও যা ছিল পাঁচ টাকা।
বাড়তি ভাড়ার আপত্তি করলে সহকারী বলেন, ‘টিভিতে খবর দেইখ্যা লন।’ সিটিং সার্ভিসের ভাড়া নিলেও এই বাসে যাত্রী তোলা হচ্ছে ঠেসে।
আজিমপুর থেকে থেকে গাজীপুর পর্যন্ত চলা ভিআইপি ২৭ নম্বরে সর্বনিম্ন টিকিট রাখা হচ্ছে ৩০ টাকা। যদিও যাত্রী না থাকলে প্রতিটি স্টপেজেই সেগুলো ডাকাডাকি করে।

নিউমার্কেট থেকে চলা মিরপুর-১২ পর্যন্ত চলা সেফটি পরিবহন সর্বনিম্ন ভাড়া নিচ্ছে ১০ টাকা। লোকাল হিসেবে চলা মিনিবাসেও ভাড়া নেয়া হচ্ছে সর্বনিম্ন সাত টাকা। যদিও এই ভাড়া বড় মাসের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।
মতিঝিল থেকে সাভার পর্যন্ত চলা ওয়েলকাম পরিবহনে কল্যাণপুর থেকে বাংলামোটর পর্যন্ত ভাড়া ১৫ টাকা, একই বাসে শাহবাগ নামলেই ভাড়া দিতে হবে ২৫ টাকা। এই ভাড়ায় যাওয়া যাবে মতিঝিল পর্যন্ত।
নিউ ভিশন, মিরপুর-২ নম্বর থেকে মতিঝিল পর্যন্ত ভাড়া ৩০ টাকা। কারওয়ানবাজার পর্যন্ত আসা যায় ১৫ টাকায় অথচ এক কিলোমিটার দূরে বাংলামোটর আসলেই দিতে হবে ২৫ টাকা।
ভাড়ার নৈরাজ্য ঠেকাতে বিআরটিএর কোনো চেষ্টা নেই, আছে কেবল আশ্বাস। সংস্থাটির নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জোহরা খাতুনের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘সবাইকে আইন মেনে চলতে হবে। অনেকেই অমান্য করছে, তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 163 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ
error: ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি