বাড়ছেই চালের দাম

Print

বেড়েই চলেছে চালের দাম। দেশের মোকামগুলোতে চালের দামে অস্থিরতা বিরাজ করছে। পর্যাপ্ত মজুদ থাকার পরও কেজিতে দাম বেড়েছে ২ থেকে ৩ টাকা পর্যন্ত। আর আগামী পহেলা বৈশাখের আগে এ দাম কমার সুযোগ নেই বলে জানিয়েছেন আড়ৎদাররা। দাম বাড়ার কারণ হিসেবে উল্টো তারা দায়ী করছেন মিল মালিকদের। বাজার পর্যালোচনা করে দেখা যায়, পর্যাপ্ত মজুদ থাকার পরও দফায় দফায় বাড়ছে চালের দাম।
আড়ৎদারদের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, সব ধরনের চালেই গত একবছরে খুচরায় গড়ে দাম বেড়েছে কেজিতে আট থেকে ১০ টাকার মতো। স্বর্ণা চাল ২০১৬ সালের এই সময় বিক্রি হতো ২৪ থেকে ২৫ টাকা দরে, সেই চাল এখন বিক্রি হচ্ছে ৩৬ থেকে ৩৭ টাকায়। পারিজা বিক্রি হতো ২৮ টাকায়, এখন বিক্রি হচ্ছে ৩৮ টাকায়। মিনিকেট ৩৮ টাকায় বিক্রি হলেও এখন বিক্রি হচ্ছে ৪৭ টাকা আর ৪৩ টাকার নাজির শাইল কিনতে হচ্ছে ৪৯ টাকায়। গেলো সপ্তাহের চাইতেও সব ধরনের চালে দাম বেড়েছে ২ থেকে ৩ টাকা পর্যন্ত। পহেলা বৈশাখে নতুন চাল উঠার আগে দাম কমার সম্ভাবনা নেই বলেও জানিয়েছেন চাল বিক্রেতারা।

রাজধানীর পাইকারী বাজার ঘুরে দেখা যায়, গত এক থেকে দেড় সপ্তাহের ব্যবধানে বাজারে মোটা চালের দাম কেজিপ্রতি দুই থেকে আড়াই টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, এ বছর বোরো মৌসুমে মোটা ও মাঝারি মোটা ধানের আবাদ কম হওয়ায় মিল মালিকরা আগেই দাম বাড়িয়ে দিচ্ছেন।
রাজধানীর পুরান ঢাকার বাবুবাজার ও বাদামতলী এলাকার পাইকারী চাল ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, গত দেড় সপ্তাহ আগে তাদের বাজারে প্রতি কেজি মোটা চালের দাম ছিল ৩৩ থেকে ৩৩ টাকা ৫০ পয়সা। গতকাল শনিবার তা ৩৬ টাকায় বিক্রি হয়েছে। একই সঙ্গে মিনিকেট চালের দামও কেজিপ্রতি ৫০ পয়সা বেড়েছে। আগে প্রতি কেজি মিনিকেট চালের দাম ছিল ৪৯ টাকা। গতকাল সেই চাল ৪৯ টাকা ৫০ পয়সায় বিক্রি হয়েছে।
রাষ্ট্রায়ত্ত বিপণন সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) হিসাব অনুযায়ী, বর্তমানে প্রতি কেজি মোটা চাল ৩৭-৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। যা এক বছর আগে ছিল ৩২-৩৪ টাকা। এ বছরের ব্যবধানে মোটা চালের দাম কেজিপ্রতি দাম বেড়েছে ১৬ দশমিক ৬৭ শতাংশ।
বাংলাদেশ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর বোরো মৌসুমে ৪৮ লাখ হেক্টর জমিতে চাষাবাদ হয়। এতে ১ কোটি ৯০ লাখ টন চাল উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। গত আমন মৌসুমে ৫৬ লাখ ৯৩ হাজার হেক্টর জমিতে ১ কোটি ৩৫ লাখ টন চাল উৎপাদনের লক্ষমাত্রা নির্ধারণ করা হয়।
মিল মালিক ও কৃষকদের কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে জানা গেছে, এ বছর বোরো মৌসুমে মোটা ও মাঝারি মানের চালের আবাদ কম হয়েছে। এ হিসাব বড় বড় মিল মালিকদের কাছে চলে আসায় তারা আগে থেকেই দাম বাড়িয়ে রাখার চেষ্টা করছেন। তবে যাদের কাছে পর্যাপ্ত টাকা ও ধান মজুদের জায়গা রয়েছে তারাই মূলত দাম বাড়াচ্ছেন।
সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, সরকারি গুদাম, দেশের বিভিন্ন মোকাম ও পাইকারী বাজারে বিপুল পরিমাণ চাল মজুদ রয়েছে। আগামী এক মাসের মধ্যে বাজারে বোরো মৌসুমের চাল বাজারে চলে আসবে। এ অবস্থায় পুরনো মজুদ চাল বিক্রির জন্য সবাই ব্যস্ত থাকার কথা। কিন্তু কতিপয় মিল মালিকের কারসাজিতে বাজারে চালের দাম বাড়ছে। তাদের ধারণা, বাজারকে ঊর্ধ্বমখী রাখা গেলে আগামী মৌসুমেও দাম ধরে রাখা যাবে।
চালের পাইকারী ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মোটা চাল তৈরির ধান এখন অটোমিল মালিকদের কব্জায় রয়েছে। তারা বলেন, দাম কমা বা বাড়া অনেকটাই নিয়ন্ত্রণ করেন মিল মালিকরা। তাই নজরদারি প্রয়োজন মিল মালিক পর্যায়ে। মালিকদের ওপর। কারণ হিসেবে তারা বলেন, উচ্চ শুল্কায়নের কারণে বর্তমানে ভারত থেকে চাল আমদানি বন্ধ রয়েছে। এছাড়া চলতি বোরো মৌসুমে আবাদ কম হয়েছে। এসব বিষয় মাথায় রেখে অটোমিলারেরা দাম বাড়িয়ে বিক্রি করছেন। তবে হাসকিন মিল মালিকদের কাছে ধান নেই। তাদের রোজকার চাহিদা অনুযায়ী ধান সংগ্রহ করে তা থেকে চাল তৈরি করছেন। কারওয়ান বাজারের চালের পাইকারী বিক্রেতা আব্দুল হক বলেন, সিজনের শেষ সময়ে চালের দাম বাড়ানো হয়। অবশ্য এবার দাম বেড়েছে একটু বেশিই। তবে চালের দাম বাড়লেও কৃষকরা এর সুফল ভোগ করতে পারে না বলে উল্লেখ করেন তিনি।
নওগাঁ ধান-চাল আড়তদার সমিতির সভাপতি নিরোধ চন্দ্র সাহা বলেন, আগামী এক-দেড় মাসের মধ্যে বাজারে বোরো মৌসুমের নতুন চাল বাজারে আসবে। চিরাচরিত নিয়ম অনুযায়ী মৌসুমের শেষে দাম একটু বাড়ে। এ বছরও তার ব্যতিক্রম হয়নি। তবে এ বছর মোটা ও মাঝারি মোটা ধানের আবাদ কম হওয়ায় দাম আগে থেকেই বাড়ছে। গত দুইদিনের ব্যবধানে তাদের এলাকায় কেজিপ্রতি ১ টাকা থেকে ১ টাকা ২৫ পয়সা পর্যন্ত বেড়েছে।

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 155 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ