বিএনপিকে বাদ দিয়েই নির্বাচনের টার্গেট আ’লীগের

Print

সরকারের বিভিন্ন মামলায় জর্জড়িত সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। দুর্নীতি, সহিংসতা ও রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে বহু মামলায় তাকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। বিশেষ করে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট ও জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার কার্যক্রম খুব দ্রুততার সঙ্গে চলছে। প্রতি সপ্তাহেই খালেদা জিয়াকে বকশিবাজারের বিশেষ আদালতে হাজিরা দিতে হচ্ছে। মামলার কার্যক্রমও অনেকটা শেষের দিকে চলে আসছে। অল্প সময়ের মধ্যেই দুইটি মামলার রায় আসতে পারে।
অপরদিকে সুবিচার পাবেন না এমন আশঙ্কায় চলমান আদালতেই বচোরকের প্রতি অনাস্থা প্রকাশ করার পরেও আদালত শুনানী করায় বিএনপি, রাজনৈতিক বিশ্লেষকসহ সাধারন মানুষও এখন এই বিষয়টি নিয়ে সরব।

এদিকে, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট ও জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার কার্যক্রম যতই শেষের দিকে যাচ্ছে, বিএনপির নীতিনির্ধারক, নেতাকর্মী ও বিএনপিপন্থী চিন্তাশীল ও বুদ্ধিজীবীদের মধ্যে ততই বাড়ছে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা। রাজনীতি এবং আগামী নির্বাচন থেকে দূরে রাখতেই খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে দুইটি মামলায় সাজা হতে পারে বলে আশঙ্কা বিএনপি নেতাদের।
বিভিন্ন সভা-সমাবেশেও তারা অভিযোগ করছেন যে, সরকার পরিকল্পিতভাবে খালেদা জিয়াকে নির্বাচন থেকে দূরে রাখতেই মিথ্যা মামলায় সাজা দেয়ার চেষ্টা করছে।
জানা গেছে, সরকারের এবার টার্গেট বিএনপিকে নির্বাচনে এনে বিতর্ক এড়ানো। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং ইসিতে বসানো তাদের পছন্দের লোকদের অধীনে খালেদা জিয়া যে নির্বাচনে আসবে না সেটাও সরকার জানে।
বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ তার শরিকরা কখনো ক্ষমতায় দেখতে চায় না। তাই দুর্নীতির মামলায় সাজা দিয়ে খালেদা জিয়াকে কারান্তরীণ করতে পারলে বিএনপির বড় একটি অংশ নির্বাচনে আসবে বলে মনে করছে সরকার। তার কমপক্ষে দুই বছরের শাস্তি আদালতের মাধ্যমে করানো যায় তাহলে তাকে কারাবন্দী করা সহজ হবে সেই সঙ্গে তিনি নির্বাচনে অযোগ্য হয়ে গেলে বিএনপির নেতাদের একটি অংশকেও নির্বাচনে নেওয়া সহজ হবে। আর খালেদা ও তারেক রহমানকে আদালতের মাধ্যমে শাস্তি নিশ্চিত করে নির্বাচনের বাইরে রাখা গেলে ক্ষমতাসীন দলের আবার ক্ষমতায় আসা সহজ হবে। সেটাই সরকার করতে চাইছে বলে পর্যবেক্ষক মহলের ধারণা। তাই সরকার এই ব্যাপারে সতর্ক ভাবে কাজ করছে। তারা জনগণের কাছে তারেক রহমানের মতো খালেদা জিয়াকেও অপরাধী সাব্যস্ত করতে চায়।
আর বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে আর কখনো ক্ষমতায়ও দেখতে চায় না ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও তাদের শরিকরা।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, আগামী নির্বাচনে বিএনপির বিজয় সুনিশ্চিত এই আশঙ্কা করে আওয়ামী লীগ আরও গোঁয়ারভাবে একতরফা নির্বাচনের চেষ্টাও করতে পারে।
সরকারের এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য বেশ কয়েকজন মন্ত্রী ও ক্ষমতাসীন দলের বেশ কয়েকজন নেতা কাজ করছেন। তাদেরকে সহায়তা করছেন সরকারপন্থী বেশ কয়েকজন আইনজীবী। আর তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনুও একাধিকবার বলেছেন যে খালেদা জিয়াকে রাজনীতি থেকে মাইনাস করা হবে। তার জায়গা হবে জেলে।
তবে, বিএনপি নেতাদের দাবি সরকার মিথ্যা মামলায় দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে হয়রানি করছে।
তারা সরকারের প্রতি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছেন, খালেদা জিয়াকে বাদ দিয়ে বাংলাদেশে কোনো নির্বাচন হতে দেয়া হবে না। মিথ্যা মামলায় খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে কোনো সাজা দেয়া হলে সারাদেশে আন্দোলনের দাবানল জ্বলে উঠবে।

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 68 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ