বিএনপির একমাত্র কাজ জনগণের ক্ষতি করা

Print

বিএনপির ধ্বংসাত্মক রাজনীতির কঠোর সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, এই দলটি যখন ক্ষমতায় আসে তখন দুর্নীতিতে আকুন্ঠ নিমজ্জিত হয় আর যখন বিরোধী দলে থাকে তখন মানুষ পুড়িয়ে হত্যা করে।
তিনি বলেন, ‘বিএনপি দেশের কোন উন্নতি করেনি, দলটি ক্ষমতায় আসে শুধু লুটপাট করতে এবং তাদের একমাত্র কাজ জনগণের ক্ষতি করা। এটা কোন ধরনের রাজনীতি’।

শেখ হাসিনা আজ সকালে খালিয়াজুড়ি ডিগ্রি কলেজ মাঠে বন্যা দুর্গত জনগণের মাঝে চাল এবং নগদ টাকা বিতরণের পর অনুষ্ঠিত জনসভায় একথা বলেন।
আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা বলেন, বিএনপি যখন ক্ষমতায় ছিল, তখন তারা দেশের সর্বক্ষেত্রে ব্যর্থতা দেখিয়েছে।
তিনি বলেন, ২০০১ সালের নির্বাচনের আগে আওয়ামী লীগ সরকার খাদ্য উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করে ক্ষমতা হস্তান্তর করে। কিন্তু এই বিএনপি’র দু:শাসনে দেশ আবার খাদ্য ঘাটতির দেশে পরিণত হয়।
আওয়ামী লীগ সরকার বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ালেও বিএনপি বিদ্যুৎ ঘাটতি ঘটায় উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য আমাদের সরকারের চালু করা কমিউনিাটি ক্লিনিকগুলো বিএনপি রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করতে গিয়ে বন্ধ করে দেয়। এভাবে সব সেক্টরে ব্যর্থ হয় তারা।
আন্দোলনের নামে বিএনপি-জামায়াতের সন্ত্রাস ও নৈরাজ্যর প্রসঙ্গ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তারা ২০১৩, ১৪ এবং ১৫ সালের অব্যাহত সন্ত্রাস ও নৈরাজ্যের মাধ্যমে ২৩১ জন মানুষকে হত্যা করে এবং তাদের অগ্নিসন্ত্রাসের শিকার হয় ৩২২৪ জন সাধারণ নিরীহ মানুষ।
বিএনপি-জামায়াতের সন্ত্রাসের বলি হয় ৫৫ জন গাড়িচালক, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারি বাহিনীর ২৪ জন সদস্য। ৫৮২টি স্কুলে তারা আগুন দেয়, ৭০টি সরকারি দপ্তর এবং যানবাহন, বাস, ট্রেন, সিএনজি এবং লঞ্চে অগ্নিসংযোগ করে।
শেখ হাসিনা বলেন, বিএনপি সরকার ক্ষমতায় এসেছিল একটাই লক্ষ্য নিয়ে যে, আওয়ামী লীগকে তারা চিরতরে নিশ্চিহ্ন করে দেবে। জনগণকে আবার হত দরিদ্রে পরিণত করে দেশের অগ্রযাত্রাকে আবার পেছনে ঘুরিয়ে দেবে।
সরকার প্রধান বলেন, বিএনপি নেতা-কর্মীরা কেবল দুর্নীতি এবং লুটতরাজের মাধ্যমে অবৈধ সম্পদের পাহাড় গড়ে তোলে।
এই নেত্রকোনার জনগণ সেসব সন্ত্রাস এবং জঙ্গিতৎপরতা বিশেষ করে বিএনপি’র সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবরের কর্মকাণ্ড এখনো ভুলে যায়নি উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘তার কাজই ছিল লুটতরাজ, দুর্নীতি, জঙ্গিবাদি কর্মকান্ড এবং মানুষ নির্যাতন করা। সে সময় বেগম জিয়ার নির্দেশে বাবর তার এলাকায় অমানবিক নিষ্ঠুরতার এক বিভীষিকাময় পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছিল।
শেখ হাসিনা বলেন, আওয়ামী লীগ এবং এর সহযোগী সংগঠনের ১২ জন নেতা-কর্মীকে ২০০১ থেকে ২০০৬ মেয়াদে নেত্রকোনায় বিএনপি’র সন্ত্রাসীরা হত্যা করে। বিএনপি-জামায়াতের সন্ত্রাসীরা এ সময় আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের ঘর-বাড়ি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও স্থাপনা সমুহ ভাংচুর এবং অগ্নিসংযোগ করে। এমনটি সংখ্যালঘু সম্প্রদায় এবং স্থানীয় সাংবাদিকরা পর্যন্ত বিএনপি-জামায়াতের এই নৈরাজ্য থেকে রেহাই পায়নি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে বন্যা সত্ত্বেও খাদ্যের কোনো সংকট হবে না। তিনি বলেন, একজন মানুষও যদি খাদ্যের অভাবে কষ্ট পায়, আমি তা কোনোভাবেই বরদাশত করবো না।’
তার সরকার খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমাদের পর্যাপ্ত পরিমাণ খাদ্য মজুদ রয়েছে। যেহেতু বন্যায় ফসলের ক্ষতি হয়েছে প্রয়োজনে বিদেশ থেকে খাদ্য আমদানি করা হবে। কিন্তু খাদ্যের কোনো সংকট হবে না।’
সরকার প্রধান বলেন, সরকার বন্যা দুর্গত এলাকায় পর্যাপ্ত ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করে যাচ্ছে এবং এটা অব্যাহত থাকবে।
তিনি বলেন, ‘আমার রাজনীতি সাধারণ মানুষের জন্য, আমি জাতির পিতার কন্যা। আমি এটা অন্তত নিশ্চিত করবো, কেউ অনাহারে থাকবে না।’
শেখ হাসিনা বলেন, সরকারের দুর্যোগ ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় ভিজিএফ এবং ভিজিডি চাল বিতরণের মাধ্যমে দুর্গত জনগণকে সহযোগিতা প্রদান করছে। একইসঙ্গে ওএমএস কর্মসূচির মাধ্যমে খাদ্য মন্ত্রণালয় ১০ টাকা কেজি দরেও চাল বিক্রয় অব্যাহত রখেছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, কৃষি মন্ত্রণালয় দুর্গত চাষিদের ক্ষয়-ক্ষতি পুষিয়ে ওঠার জন্য বিভিন্ন কৃষি উপকরণ যেমন সার ও বীজ বিতরণ করে যাচ্ছে।
দেশ ও জনগণের জন্য এভাবেই যেন কাজ করে যেতে পারেন সেজন্য দোয়া কামনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সবসময়ই দুর্গত মানুষের পাশে ছিল এবং আগামীতেও থাকবে।
দেশের উন্নয়ন অভিযাত্রাকে অব্যাহত রাখতে প্রধানমন্ত্রী আগামীর নির্বাচনে আওয়ামী লীগকে পুনরায় বিজয়ী করার আহবান জানিয়ে বলেন, ‘আপনারা গত নির্বাচনে আওয়ামী লীগকে ভোট দিয়েছিলেন বলেই সরকারের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে পেরেছে বলেই আজকে এতসব উন্নয়ন কর্মকান্ড সম্পাদন করা সম্ভব হয়েছে।’
প্রধানমন্ত্রী এ সময় তার সরকারের সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি এবং মাদকাসক্তি প্রতিরোধের আহবান পুনর্ব্যক্ত করে অভিভাবক, শিক্ষক, ধর্মীয় নেতৃবৃন্দ এবং শিক্ষার্থীসহ সকল শ্রেণী পেশার মানুষকে সতর্ক থাকার আহবান জানান। যাতে করে আর কেউ এই সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদ এবং মাদকাসক্তির ভূলপথে পা না বাড়ায়।
প্রধানমন্ত্রী এ সময় বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত সোনার বাংলা গড়ে তোলার দৃঢ় সংকল্প পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, এই লক্ষ্য অর্জনে তিনি যেকোন ত্যাগ স্বীকারে সব সময় প্রস্তুত আছেন।
কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী, সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, পানি সম্পদমন্ত্রী আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বীরবিক্রম, খাদ্যমন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম, স্থানীয় সংসদ সদস্য রেবেকা মমিন জনসভায় বক্তব্য দেন।
এছাড়া অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগের যুগ্মসাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল-আলম হানিফ এবং যুব ও ক্রীড়া উপমন্ত্রী আরিফ খান জয়ও এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
পরে প্রধানমন্ত্রী স্পিড বোটে চড়ে খালিয়াজুড়ি উপজেলার বল্লভপুর গ্রামে যান এবং সেখানে বন্যা দুর্গত জনগণের মাঝে চাল এবং নগদ অর্থ বিতরণ করেন।
সেখান থেকে ফিরে প্রধানমন্ত্রী খালিয়াজুড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, সরকারি কর্মকর্তা এবং এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের সাথে বৈঠক করেন।
বৈঠকের পর প্রধানমন্ত্রীকে জানানো হয়, বন্যা সত্ত্বেও উপজেলায় কোন খাদ্য সংকট নেই এবং উপজেলার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতিও স্বাভাবিক রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী এ সময় সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তাদের উপজেলায় ওয়াটার বাস সার্ভিস চালু এবং আবাসিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার নির্দেশ দেন। যাতে করে এ ধরনের বন্যা পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ার কোন বিঘ্ন না ঘটে।
এছাড়া, শেখ হাসিনা হাওর এলাকার নদ-নদীর নাব্যতা রক্ষায় নদী ও খাল খননের জন্যও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন।

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 85 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ