বিএনপির রাজনৈতিক ফাঁদে সরকার !!

Print

গোলাম মওলা রনি : অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে সরকার খুব শীঘ্রই বিএনপির রাজনৈতিক ফাঁদে পড়তে যাচ্ছে। সরকারী দলের অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাস এবং বিরোধী দলকে তুচ্ছ তাচ্ছিল্য করার মনেবৃত্তির কারনেই হয়তো তারা ফাঁদে পড়তে পারে। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন কিংবা নির্বাচন পূর্ব রাজনৈতিক কলা কৌশলে তারা বিএনপির পাতা ফাঁদে জড়িয়ে যেতে পারে।

বিগত সংসদ নির্বাচন নিয়ে সরকারী দল আওয়ামীলীগ যতোটা কৌশলতা অবলম্বন করেছে তার চেয়েও সতর্ক কৌশল নিয়ে বিএনপি এগিয়ে যাচ্ছে। বিগত দিনের তিক্ত অভিজ্ঞতা এবং ক্ষমতা কেন্দ্রিক সৃষ্ট জটিলতা ও অজনপ্রিয়তাকে পুঁজি করে বিএনপি তাদের রাজনৈতিক কর্মকৌশল নির্ধারন করে ফেলেছে। এই মুহুর্তে তাদের প্রধান লক্ষ্য হলো যেকোন মূল্যে সরকারকে বিভ্রান্ত করে নিজেদের ইস্পিত লক্ষ্যে পৌঁছা।
বিএনপি নেতৃবৃন্দের কথাবার্তা এবং কাজকর্ম দেখে শুধু সরকারী দলই নয় বরং বিএনপির সাধারণ নেতাকর্মী এবং রাজনৈতিক বিশ্লেষকবৃন্দও বিভ্রান্ত হয়ে পড়েছেন। তারা কি আদৌ নির্বাচন করবে নাকি করবে না ? অথবা জামাতসহ অন্যান্য দল যেমন বি চৌধুরীর বিকল্প ধারা, কাদের সিদ্দিকীর কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ, ডঃ কামালের গন ফোরাম, জাসদ রব, বাসদ, সিপিবি, সাম্যবাদী দল, হেফাজত, খেলাফত মজলিস সহ অন্যান্য ইসলামী দল গুলোর সঙ্গে তাদের সাম্প্রতিক কালে কেমনতরো যোগাযোগ রয়েছে তা সরকার জানে না। বিএনপির হাল নাগাদ মতিগতি জানতে না পারাটাই সরকারের ফাঁদে পড়ার জন্য যথেষ্ট।
বিএনপি কৌশলগত কারনে নিজেদেরকে অতীব দুর্বল, নীরিহ এবং আত্মকলহে জর্জরিত একটি রাজনৈতিক দল হিসেবে প্রমানের জন্য উঠে পড়ে লেগেছে। তারা সরকার এবং সরকার সমর্থক কট্ররপন্থী সরকারী আমলাদেরকে বুদ্ধু বানানোর জন্য প্রায়ই লাগাম ছাড়া কাজকর্ম করে যাচ্ছে এবং একই তালে প্রচার প্রপাগান্ডা চালিয়ে যাচ্ছে। ফলে সরকার একবার ভাবছে হয়তো বিএনপি নির্বাচনে আসবে না অথবা তাদেরকে ছলে বলে কৌশলে বিগত ৫ই জানুয়ারীর মতো নির্বাচন থেকে বাইরে রাখা যাবে। এই লক্ষ্যে তারা যথেষ্ট চেষ্টা তদ্বিরও করে যাচ্ছে। ফলে তাদের সাংগঠনিক ক্ষমতা, নির্বাচনী যুদ্ধে লড়ার সক্ষমতা যেমন নষ্ট হচ্ছে তেমনি উপযুক্ত প্রার্থী বাছাইয়ের পথটিও রুদ্ধ হয়ে যাচ্ছে।
সরকার অবশ্য মাঝে মধ্যে বলছেন যে, এবারের নির্বাচন গতবারের মতো সহজ হবে না। কিন্তু এটা তাদের কথার কথা বলেই ধরে নিচ্ছেন দলের সুবিধাভোগী শ্রেনীটি যারা বিশৃঙ্খল অবস্থার সুযোগ নিয়ে মন্ত্রী, এমপি হয়ে বসে আছেন। দূর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য যে, সরকারী দলে অথর্ব্য, সুবিধাভোগী এবং গনধিকৃত লোকজনই ইদানিংকালে অতি মাত্রায় প্রভাবশালী হয়ে উঠেছে। বিএনপি নির্বাচনে এলে এই শ্রেনীটি কর্পূরের মতো উড়ে যাবে। নির্বাচনে জয়লাভ তো দুরের কথা – একটি সম্মানজনক প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সাহস ও শক্তি এই সুবিধাভোগী হাইব্রিড শ্রেনীটির নেই। অনেকে বলাবলি করছেন যে, প্রতিদ্বন্দ্বিতা পূর্ন নির্বাচনের পরিবেশ সৃষ্টি হলে এরা দলীয় মনোনয়ন মাঠে ফেলে কোথায় যে উধাও হয়ে যাবেন তা কেবল মাত্র মাবুদ আল্লাহই বলতে পারেন।
বিএনপি খুব ভালো করেই জানে যে, তাদের কি কি দূর্বলতা এবং কি কি সক্ষমতা রয়েছে। তাদের রয়েছে দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থেকে রাষ্ট্র পরিচালনা এবং ক্ষমতার বাইরে থেকে বাহারী ধকল সৈহ্য করার বিস্ময়কর ইতিহাস। তাদের জনপ্রিয়তা, দেশী-বিদেশী সংযোগ এবং অত্যন্ত পরিপক্ক এবং মেধাবী শ্রেনীর শীর্ষ ও মধ্যম পর্যায়ের জাতীয় নেতৃবৃন্দের সঙ্গে খোলা ময়দানে রাজনৈতিক খেলায় প্রতিযোগীতা করার সামর্থ সম্পর্কে তারা বেশ ওয়াকিব রয়েছেন। তারা জানেন যে, রাজনৈতিক সময় এবং সুযোগটাই মুখ্য। আর সেকারনেই তারা নিজেদের কর্মকৌশলের ফাঁদ রচনা করে সরকারী দলকে আটকানোর জন্য অধীর আগ্রহ নিয়ে সময় ও সুযোগের জন্য অপেক্ষা করে যাচ্ছেন।

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 503 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ