বিতর্কিত মন্ত্রীদের গায়ে আঁচড়ও লাগেনি!

Print
সরকার তার মেয়াদের শেষ বছরে এসে মন্ত্রিসভার যে রদবদল করেছে তাতে বিতর্কিত কোনো মন্ত্রীই বাদ পড়েননি। তাঁদের বহাল তবিয়তে থাকাটাকে ভালো চোখে দেখছে না সাধারণ মানুষ ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

আওয়ামী লীগের কর্মীরাই মনে করছে, এদের বোঝা নির্বাচনের আগে না নেওয়াই ভালো ছিল। তবে সরকারের নীতি নির্ধারকরা বলছেন অন্য কথা। তাঁদের মতে, নির্বাচনের আগে দুর্নীতি বা অদক্ষতার অভিযোগে কাউকে বাদ দিলে এসবের বদনাম সরকারের ঘাড়েই এসে পড়বে। এজন্যই কৌশলগত কারণে বিতর্কিতদের বাদ দেওয়া হয়নি। যে কারণেই হোক মন্ত্রিসভার রদবদল মানুষকে আশান্বিত করতে পারেনি।

খাদ্যমন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলামের মন্ত্রিসভায় একই মন্ত্রণালয়ে বহাল থাকাটা ছিল এক বড় চমক। গম কেলেঙ্কারি থেকে শুরু করে নিয়ন্ত্রণহীন চালের বাজারে মানুষের নাভিশ্বাস। খোদ সরকারের অনেক মন্ত্রীই মন্ত্রীর অদক্ষতার কথা স্বীকার করেছেন। চালের দাম সরকারের সমালোচনার এখন প্রধান ইস্যু। অথচ রদবদলে বহাল রইলেন অ্যাডভোকেট কামরুল।

ভূমি মন্ত্রীর পরিবারকে নিয়ে শুরু থেকেই বিব্রত সরকার। সর্বশেষ সাংবাদিকদের সঙ্গে অশোভন আচারণের কারণে জেলে যান ভূমিমন্ত্রী শামসুর রহমান শরীফের ছেলে। এর আগেও এলাকায় কয়েক দফা এমনটা ঘটান মন্ত্রীর পুত্র। কিন্তু মন্ত্রিসভার রদবদলে তাঁর গায়েও আঁচড় লাগেনি।

হজ কেলেঙ্কারিতে হ্যাটট্রিক করেছেন ধর্মমন্ত্রী অধ্যক্ষ মতিউর রহমান। তাঁর বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ করেছেন খোদ সচিব ও মন্ত্রণালয়ের অন্যান্য কর্মকর্তারা। কিন্তু রদবদলে তিনিও অক্ষত রয়ে গেছেন।

অদক্ষতার অভিযোগ আছে, ইমেজ সংকটে থাকা ত্রাণ ও দুর্যোগ মন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়ার বিরুদ্ধেও। কিন্তু বাদ পড়া তো দূরের কথা তাঁর মন্ত্রণালয়ও বদল হয়নি।

নৌ পরিবহন মন্ত্রী তাঁর মন্ত্রণালয়ের চেয়ে শ্রমিক কর্মচারীদের নিয়েই ব্যস্ত। নৌ পরিবহনে কেনাকাটায় অনেক দুর্নীতির কথাও গণমাধ্যমে প্রকাশিত। সর্বশেষ বাংলাদেশ ব্যাংকে গিয়ে তিনি নতুন করে বিতর্কিত হয়েছেন। আওয়ামী লীগের নেতাই তাঁকে দানব বলেছেন। কিন্তু তাঁরও মূল্যায়ন হয়নি।

অনেকদিন ধরেই বিতর্কের শীর্ষে আছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। বয়সের ভারে ন্যুজ হয়ে প্রায়ই তিনি বিতর্কিত মন্তব্য করে হাস্যরসের খোরাক হন। তাঁর প্রস্তানের বিষয়টি বিভিন্ন ভাবে আলোচনা হলেও মন্ত্রিসভার রদবদলে তিনি রয়েই গেলেন। সাম্প্রতিক সময়ে ব্যাংকিং খাতে একটি বিশৃঙ্খল অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে, এই পরিপ্রেক্ষিতে অর্থমন্ত্রণালয়ের একটি পরিবর্তন সাধারণ মানুষ কামনা করেছিল।

ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আরিফ খান জয়ের মন্ত্রণালয়ে কোনো কার্যক্রমই নেই বরং বিতর্কিত কাজেই তিনি শিরোনাম হন। উপমন্ত্রী হিসেবে তিনিও অপরিবর্তিত।

সংসদীয় গণতন্ত্রে মন্ত্রিসভার রদবদল প্রধানমন্ত্রীর এখতিয়ার। তাঁর ইচ্ছা, অনিচ্ছা, মূল্যায়নই এখানে শেষ কথা। তবে সাধারণত গণতান্ত্রিক রীতিতে জনগণের আকঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটে মন্ত্রিসভার রদবদলে। যেমন: জন অসন্তোষের মুখে আবদুল লতিফ সিদ্দিকীর পদত্যাগ।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, সম্ভবত প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনের আগে নিজেদের সমালোচনাগুলোকে আড়াল করতে চেয়েছেন। কিন্তু এতে সাধারণ মানুষের মন তিনি কতোটা জয় করতে পেরেছেন, সেটা এক বড় প্রশ্ন। কারণ এই রদবদল সাধারণ মানুষকে আশান্বিত কিংবা আশ্বস্ত কোনোটাই করতে পারেনি।

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 548 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ