বিদ্যুৎ দাও, নইলে মুখে বিষ দাও

Print

ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার বড়ইকান্দা গ্রামের অর্ধশতাধিক চাষি ধানের চারা হাতে নিয়ে পতিত জমির পাশে ব্যতিক্রমী মানববন্ধন, মিছিল ও জমিতে শুয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছেন।
আজ শনিবার সকালে মাওহা বড়ইকান্দা গভীর নলকূল-২ কৃষক সমবায় সমিতির উদ্যোগে ওই কর্মসূচি পালিত হয়।

কর্মসূচি চলাকালে কৃষক সমিতির কর্মকর্তারা অভিযোগ করেন, কোনো ধরণের বিল বকেয়া বা প্রশাসনিক আপত্তি না থাকলেও শুধুমাত্র ময়মনসিংহ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-৩ এর কর্মকর্তাদের খুশি করতে না পারায় ওই গভীর নলকূপে বিদ্যুৎ সংযোগ মিলছে না।
মাওহা বড়ইকান্দা গভীর নলকূল-২ কৃষক সমবায় সমিতির ম্যানেজার আব্দুল মান্নান ফকির জানান, বোরো মৌসুমে ধানের চারা রোপণের সময় প্রায় শেষ হতে চললেও বিদ্যুৎ সংযোগ না পাওয়ায় সেচ সুবিধার অভাবে চাষিরা ধানের চারা রোপণ করতে পারছেন না। বীজতলায় চারা মরে যাচ্ছে, চাষ করা জমি শুকিয়ে খা খা করছে। চাষিরা আবাদ করতে না পারায় কান্নায় ভেঙে পড়ছেন। কিন্তু বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তাদের অসহযোগিতার কারণে বিদ্যুত সংযোগ পাচ্ছেন না। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ‘বিদ্যুৎ দাও, নইলে মুখে বিষ দাও’ এ শ্লোগানে পতিত জমির পাশে ধানের চারা হাতে নিয়ে ব্যতিক্রমী মানববন্ধন ও জমিতে শুয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছেন চাষিরা।
বড়ইকান্দা গ্রামের মৃত রুস্তম আলীর পুত্র কৃষক মো: আল আমিন জানান, ওই গভীর নলকূপের অধীনেই তার আড়াই একর জমি রয়েছে। ফসল ফলাতে না পারলে অনাহারে থাকতে হবে। কৃষক আব্দুর রাজ্জাক জানান, তার প্রায় দেড় একর জমির ধানের চারা বীজতলায় লাল হয়ে মরে যাচ্ছে। কৃষক লিটন মিয়া জানান, প্রায় দুই একর জমিতে ছাই, জৈব ও রাসায়নিক সার ব্যবহার করার পরও ধানের চারা রোপণ করতে না পারায় তার প্রায় ৩৫ হাজার টাকা বিফলে যাচ্ছে।
এক পর্যায়ে কৃষকরা অবিলম্বে বিদ্যুৎ সংযোগ প্রদানের দাবিতে মাওহা বাজারে বিক্ষোভ মিছিল করে। মিছিল শেষে কৃষকরা ধানের চারা হাতে নিয়ে পতিত জমিতে শুয়ে বিক্ষোভ প্রর্দশন করে। এ সময় মাওহা বড়ইকান্দা গভীর নলকূল-২ কৃষক সমবায় সমিতির ম্যানেজার সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল মান্নান ফকিরের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল খালেক, কৃষক আব্দুর রাজ্জাক, ফজলুর রহমান, মো. আল আমিন, আব্দুস সোবহান, বাবুল মিয়া, হলুদ মিয়া, আব্দুর রশিদ, ফজলুল হক, লিটন মিয়া, গণি মিয়া, মোজাম্মেল হক প্রমুখ।
সমিতির ম্যানেজার জানান, কৃষক সমিতির সদস্য সংখ্যা ৭৫জন। সেচ সুবিধাভোগীর সংখ্যা কয়েকগুণ।
ময়মনসিংহ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-৩ এর জেনারেল ম্যানেজার চলতি দায়িত্বে থাকা ডিজিএম প্রদীশ মন্ডল সাংবাদিকদের জানান, ওই গভীর নলকূপের মালিকানা নিয়ে বিরোধ ছিল। এনিয়ে আদালতে মামলা হয়। বিষয়টি তদন্ত করে প্রতিবেদন প্রদানের জন্য বিআরডিবিকে বলা হয় এবং বিআরডিবি সুপারিশসহ প্রতিবেদন ময়মনসিংহ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-৩ কে দিয়েছেন। এখন সকল কাগজপত্র দেখে দ্রুত সময়ের মধ্যে বিদ্যুৎ সংযোগ প্রদানের উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে।

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 111 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ