বিবেক নেমে গেছে হাঁটুর নিচে!

Print

চিত্রা ও সুন্দরবন এক্সপ্রেস ঘুরে: আর কত নিচে নামবো আমরা? দেশে শিক্ষিত ও ধনী মানুষের সংখ্যা বাড়লেও কমছে বিবেকবান মানুষের সংখ্যা। লোভেই মানুষ তার সক্রিয়তা হারাচ্ছে। হারাচ্ছে বিবেক-বুদ্ধি। স্বার্থপর এই দুনিয়ায় কিছু মানুষ দিন দিন আরও স্বার্থপর হয়ে উঠছে।

বিবেকের অভাবেই আজ ট্রেনের প্রথম শ্রেণির যাত্রীর দ্বারাই চুরি হচ্ছে বালিশ, কম্বল, বিছানার চাদর। একজন সংবাদকর্মী হিসেবে ধনী ও শিক্ষিত যাত্রীদের অবক্ষয়ের কথা শুনতে হয়েছে চিত্রা ও সুন্দরবন এক্সপ্রেসের গার্ড ও স্টেশন মাস্টারদের কাছ থেকে।

তারা জানান, চাহিদা অনুযায়ী খুলনা থেকে ঢাকাগামী চিত্রা ও সুন্দরবন এক্সেপ্রেসের কোচগুলোয় পরিবর্তন আনা হয়েছে। কোচের ভেতর ও বাইরের নান্দনিক উৎকর্ষতা আনা হয়েছে। লাল সবুজ রঙের এ কোচগুলো ভারত থেকে আমদানি করা। এসি বার্থের যাত্রীদের জন্য দেওয়া হয়েছে নতুন বিছানার চাদর, বালিশ, বালিশের কভার এবং কম্বল। এ কারণে নিরাপত্তার সঙ্গে এক ঘুমে আয়েসিভাবে ঢাকা যাওয়া ও খুলনায় আসা যাচ্ছে। তবে আরামদায়ক যাত্রীসেবা পেয়ে যাত্রীরা অনেক সময় কম্বল বালিশ নিয়ে চলে যান!

এসি বার্থের এতো দামি টিকিট কিনতে পারছেন যারা, তারা সামান্য বালিশ কম্বল চুরি করে বিবেক হাঁটুর নিচে নামিয়ে ফেলছেন বলে মন্তব্য করেন তারা।

বৃহস্পতিবার (০২ ফেব্রুয়ারি) রাতে চিত্রা এক্সপ্রেসের খ-নং বগির এসি বার্থের দায়িত্বপালনরত গার্ড মো. মামুন  বলেন, এসি বার্থের যাত্রীদের অনেক সুযোগ সুবিধা দেওয়া হয়। তার মধ্যে অন্যতম নতুন চাদর-বালিশ, বালিশের কভার, কম্বল, সব রেল কর্তৃপক্ষ সরবরাহ করে। আরাম-আয়েসের পর সম্প্রতি সময়ে কিছু যাত্রী কয়েক সেট কম্বল বালিশ চুরি করে নিয়ে গেছে।

তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা টি-বয় আব্দুল্লাহ বলেন, বড় সাহেবরাই এখানে আসেন। তারাই আবার চুরি করেন। হকার আর ভিক্ষুকরা তো আর ভেতরে আসতে পারেন না।

প্রবীণ এক টিটি বলেন, চুরির প্রবণতা থেকে আমরা বের হতে পারলাম না!

তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুর মেয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রেলের যাত্রীদের জন্য ভালো সেবা দিতে চাচ্ছেন। কিন্তু মানুষ রেলের কম্বল, বিছানার চাদর চুরি করে নিয়ে যায়! তবে কী করে হবে?

খুলনা রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার আমিরুল ইসলাম  জানান, খুলনা থেকে সকালে চিত্রা এবং রাতে সুন্দরবন এক্সেপ্রেস ঢাকায় ছেড়ে যায়। ঢাকা থেকে রাতে চিত্রা ও সকালে সুন্দরবন ছেড়ে আসে। প্রতিটি ট্রেনে ১২টি বগি থাকে এতে মোট সিট ধারণ ক্ষমতা ৮৩৪টি; এর মধ্যেই এসি বার্থ ৪৮টি, এসি চেয়ার ১৫৬টি ও শোভোন ৬৩০টি।

তিনি আরও জানান, ট্রেনের কোচগুলোতে রয়েছে অত্যাধুনিক আসন ব্যবস্থা, উন্নত টয়লেট, শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কামরা, স্পেশাল ক্যাবিনসহ নানা সুযোগ-সুবিধা। প্রতিটি বগিতে রয়েছে অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা। এতো সুযোগ সুবিধা থাকায় যাত্রী যেমন বাড়ছে তেমনি বালিশ কম্বলও চুরি বাড়ছে।

– বাংলানিউজ

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 448 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ