বিমানে কোন কিছু হলেই মৃত্যুদণ্ড,আতঙ্কিত পাইলটরা

Print

বেসামরিক বিমান চলাচল আইন ২০১৭-এর খসড়া মন্ত্রিসভায় অনুমোদনের পর দেশের বিমান চালকরা (ককপিট ক্রু) আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন। নতুন আইনে বিমান চলাচলে কেউ বাধা সৃষ্টি করলে বা কারও অবহেলা প্রমাণিত হলে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড অথবা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বা পাঁচ কোটি টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডের বিধান রাখার বিষয়টি তাদের আতঙ্কের কারণ বলে জানা গেছে।
সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আইনটি এখনও পরিষ্কার নয়। এটি যদি পাইলটদের মুক্ত চলাচলে বাধার কারণ হয়ে দাঁড়ায় তবে বাংলাদেশে আর কোনো পাইলট কাজ করতে চাইবেন না।

মন্ত্রিসভায় অনুমোদিত আইনে বলা হয়েছে, সুরক্ষা ও নিরাপত্তার কারণ ছাড়া কোনো ব্যক্তি অবৈধভাবে বিমান নিয়ে বাংলাদেশের আকাশসীমায় প্রবেশ করলে শাস্তি সর্বোচ্চ সাত বছর ও সর্বনিম্ন তিন বছর কারাদণ্ড অথবা অনধিক ৫০ লাখ টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ড হতে পারে। এছাড়া বিমানের নেভিগেশনের সঠিক আলোক বা সংকেতের কার্যক্রমে হস্তক্ষেপ করলে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বা পাঁচ কোটি টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সূত্র জানায়, প্রায় ৫৬ বছর পর বেসামরিক বিমান চলাচল আইন করতে যাচ্ছে সরকার। বিমানের বর্তমান অধ্যাদেশটিও ১৯৮৫ সালের। নতুন আইনে বিমানযাত্রীদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষার বিষয়ে গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। পাশাপাশি ইন্টারন্যাশনাল সিভিল এভিয়েশন অর্গানাইজেশনের (আইকাও) প্রযোজ্য নীতিমালা অনুসরণ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স পাইলট এসোসিয়েশনের সভাপতি ক্যাপ্টেন মাহবুবুর রহমান বলেন, পৃথিবীর কোথাও এ আইন নেই। বেসামরিক বিমান চলাচল আইন ২০১৭-এর খসড়া মন্ত্রিসভায় অনুমোদনের পর আমরা পাইলট সমাজ আসলেই আতঙ্কিত। আর এটাও সত্যি আইনের বিস্তারিত এখনও জানতে পারিনি। তিনি বলেন, ‘ ককপিটে বসে কোনো পাইলটের অবহেলা করার সুযোগ থাকে না। আমরা প্রতিনিয়তই মুমূর্ষু রোগী নিয়ে ফ্লাইট পরিচালনা করি। এ সময় যদি কোনো রোগী হার্টফেল করে মারা যায় এবং এক্ষেত্রে যদি রোগীর কোনো আত্মীয় পাইলটের বিরুদ্ধে দায়িত্ব অবহেলার অভিযোগ আনে, তখন এই অবহেলার জন্য যদি পাইলটকে ফাঁসির কাষ্টে ঝুলতে হয়, এমনটি হলে কেউ এদেশে বিমান চালনার পেশায় থাকতে চাইবে না।’
এ বিষয়ে দেশের শীর্ষ এয়ারলাইন্স কোম্পানি ইউএস-বাংলা’র প্রধান নির্বাহী ইমরান আসিফ বলেন, এই আইনটি কেবল পাইলটদের জন্য নয়, এটি পাইলট ইঞ্জিনিয়ারসহ সংশ্লিষ্ট সবার জন্য প্রযোজ্য হবে। তিনি বলেন, অনিচ্ছাকৃত কোনো ভুলের শাস্তি মৃত্যুদণ্ড হতে পারে না।
বিষয়টির ভালোমন্দ জানতে চাইলে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও এম মোসাদ্দিক আহমেদ বলেন, এ আইন ইঞ্জিনিয়ার পাইলট সবার মধ্যে সচেতনতা বাড়াবে। এ ক্ষেত্রে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। আইনটি বিস্তারিত না পড়ে এর চেয়ে বেশি মন্তব্য করতে রাজি হননি তিনি।
বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটনমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন সোমবার রাতে বলেন, বেসামরিক বিমান চলাচল আইন ২০১৭-এর খসড়া মন্ত্রিসভায় অনুমোদনের কারণে এককভাবে পাইলটদের আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। এই আইন মূলত সংশ্লিষ্ট সবার জন্য প্রযোজ্য। এ ছাড়া কোনো অনিচ্ছাকৃত ভুলের জন্য এ শাস্তির বিধান করা হয়নি। সংশ্লিষ্টদের তিনি আতঙ্কিত না হয়ে যথাযথভাবে দায়িত্ব পালনের পরামর্শ দেন।
মন্ত্রী বলেন, ১৯৬০ সালের দ্য সিভিল এভিয়েশন অধ্যাদেশ প্রণয়নের পর বাংলাদেশ ছাড়াও পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে আকাশ পরিবহন খাতে ব্যাপক উন্নতি হয়েছে। অধ্যাদেশটি যুগোপযোগী করতে নতুন আইন প্রণয়ন করা হচ্ছে। কারও ভয় পাওয়ার কিছু নেই।

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 159 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ