বিরক্তিকর রোগ সাইনোসাইটিস ও এর প্রতিকার

Print

প্রায়ই এমন অনেক রোগী দেখা যায় যারা সব সময়ই অস্বস্তি অনুভব করেন । মাথা ব্যথা, ভারি আর নাক জ্বালা পোড়া করে কিন্তু জানেন না কেন? এ ধরনের রোগীর সাইনোসাইটিস হতে পারে, যা একেবারেই সাধারণ দীর্ঘস্থায়ী স্বাস্থ্য সমস্যা । আসুন জেনে নেই এ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য।

সাইনোসাইটিস কি?

সাইনোসাইটিস একটি অতি পরিচিত রোগ। শতকরা ২৫ ভাগ মানুষ এ রোগে আক্রান্ত হয়ে থাকেন। আমাদের নাকের চার পাশের অস্থিগুলোর পাশে বাতাসপূর্ণ কুঠরি থাকে। এদের সাইনাস বলে। সাইনাসের কাজ হল মাথাকে হালকা রাখা, মাথাকে আঘাত থেকে রক্ষা করা, কণ্ঠস্বরকে সুরেলা রাখা, দাঁত ও চোয়াল গঠনে সহায়তা করা। যদি কোনো কারণে এ সাইনাস-গুলোয় প্রদাহ সৃষ্টি হয়, তখন তাকে সাইনোসাইটিস বলে। সাইনোসাইটিস ব্যাকটেরিয়া-জনিত ইনফেকশন, অ্যালার্জি অথবা অটোইমিউন ডিজিজ ইত্যাদি কারণে হয়ে থাকে।

সাইনোসাইটিসের ব্যাপারে বাংলাদেশে ঠিক কোন পরিসংখ্যান নেই। এ রোগ নিয়ে বাংলাদেশে শক্তিশালী পরিসংখ্যান চালানো না হলেও অন্য অনেক দেশে পরিসংখ্যান চালানো হয়েছে । তাতে দেখা গেছে ১০০ জনের মধ্যে ৫ থেকে ১০ শতাংশ এই রোগে আক্রান্ত হচ্ছে । তবে ঠাণ্ডার দেশে এই রোগে আক্রান্তদের সংখ্যা আরও বৃদ্ধি পায়।

কখন হয়?

ঋতু ভেদে মানে শীতকাল বা গরমকালে অনেক রোগ বৃদ্ধি পায় । গরমকাল শেষে যখন শীত পড়তে থাকে তখন সাধারণ ভাবে ঠাণ্ডাও বেশি লাগে এবং সাইনোসাইটিসের প্রকোপও বেশি দেখা দেয় । তবে শীত পড়ে গেলে এই রোগের প্রকোপ হ্রাস পায়। কিন্তু আবার যখন ঋতু পরিবর্তনের পালা আসে অর্থাৎ গরম পড়তে আরম্ভ করে তখন এলার্জির উৎপাত বাড়ে আর একই সাথে এই রোগও বাড়তে থাকে।

সাইনোসাইটিসের প্রকারভেদ

সাইনোসাইটিসকে বিভিন্নভাবে শ্রেণী বিভাগ করা যায়। নিচে সাইনোসাইটিসের শ্রেণী বিভাগ নিয়ে আলোচনা করা হল:

1.আক্রান্ত হওয়ার সময়ের ওপর ভিত্তি করেঃ-

অ্যাকিউট সাইনোসাইটিস : সাধারণত অ্যাকিউট সাইনোসাইটিসকে শ্বাসনালীর উপরের দিকের ইনফেকশন বলা হয়। অ্যাকিউট সাইনোসাইটিস ৭-১০ দিন পর্যন্ত স্থায়ী হয়ে থাকে।
ক্রনিক সাইনোসাইটিস : তিন মাস বা তার বেশি সময় ধরে যে সাইনোসাইটিস থাকে তাকে ক্রনিক সাইনোসাইটিস বলা হয়।
2. আক্রান্ত সাইনাসের অবস্থান অনুসারেঃ-

ম্যাক্সিলারি সাইনোসাইটিস : ম্যাক্সিলারি অর্থাৎ গালের পাশে অবস্থিত সাইনাস ইনফেকশন হলে তাকে ম্যাক্সিলারি সাইনোসাইটিস বলা হয়। এর লক্ষণ হচ্ছে দাঁতব্যথা ও মাথাব্যথা।
ফ্রন্টাল সাইনোসাইটিস : কোনো কারণে চোখের ওপরে অবস্থিত ফ্রন্টাল সাইনাস গহ্বরে আঘাতপ্রাপ্ত হলে যে সাইনোসাইটিস হয় তাকে ফ্রন্টাল সাইনোসাইটিস বলে।
ইথাময়েড সাইনোসাইটিস : ইথাময়েড সাইনোসাইটিস হলে চোখ ও মাথার মধ্যে প্রদাহ শুরু হয়।
স্পেনয়েড সাইনোসাইটিস : চোখের পাশে ব্যথা শুরু হয়।
সাইনোসাইটিস রোগের সাধারণ ও প্রধান উপসর্গঃ-

ব্যথা : সাইনোসাইটিসের ব্যথা কোন সাইনাস আক্রান্ত হয়েছে মূলত তার ওপর অনেকাংশ নির্ভর করে। উদাহরণস্বরূপ বলা যেতে পারে ম্যাক্সিলারি সাইনাসের ব্যথা ও ম্যাক্সিলারি সাইনাসের অবস্থানের ওপর অর্থাৎ নাকের পাশে, গাল, দাঁত কিংবা মুখ বা মুখমণ্ডলের আশপাশে হয়ে থাকে।ফ্রন্টাল সাইনাসের ব্যথা সাধারণত কপালে, চোখে, চোখের পেছনে কিংবা মাথায় অনুভূত হয়। অনেক সময় এই ধরনের মাথা ব্যথার সঙ্গে মাথার মধ্যে হালকা শূন্যতা বা হালকা অনুভূতি জাগে। যার জন্য এ ধরনের মাথা ব্যথাকে অনেকে ‘ভ্যাকুয়াম ফ্রন্টাল হেডেক’ বলে থাকেন।আর এই ফ্রন্টালহেডেক বা ফ্রন্টাল মাথা ব্যথা প্রায়শ ঘুম থেকে জাগার পর আরম্ভ হয়। আর দিন যতো বাড়তে থাকে, মাথা ব্যথাও সেই সঙ্গে বাড়তে থাকে আবার বিকালের দিকে মাথা ব্যথার তীব্রতা আবার কমতে আপনা আপনি ভালো হয়ে যায়।ইথময়ডাল সাইনাসের ব্যথা দুচোখের মাঝে ও চোখের পেছনে সাধারণত হয়ে থাকে। এই ব্যথা মুখ ও মুখমণ্ডলে অনেকে অনুভব করেন। স্ফেনোইডাল সাইনোসাইটিসের ব্যথা কিন্তু মাথার মাঝখানে হয়। আর এই ব্যথা অনেক সময় দিকে বা চোখের পেছনে রেডিয়েট করতে পারে।
নাক বন্ধ : সাইনাস যখন প্রদাহে আক্রান্ত হয় তখন তার নিঃসৃত পুঁজজাতীয় প্রদাহ নাকের মধ্যে এসে নাকের প্রদাহের সৃষ্টি করে এবং তা ফুলে অনেক সময় নাক বন্ধের কারণ হতে পারে। কিন্তু আসলে সাইনোসাইটিসের কারণ হিসেবে যদি নাকের ও সাইনাসের স্বাভাবিক কার্যক্ষমতার জন্য নাকের মধ্যে কোনো বাধা যেমন-ডিএনএস বা নাকের মাংস বড় হয়ে (টারবিনেট বড় হয়ে) থাকে সেগুলোর জন্য হতে পারে।
নাক থেকে পুঁজ বা নিঃসৃত পদার্থ : সাইনোসাইটিসের প্রদাহজনিত কারণে নাক থেকে পুঁজ বা পুঁজজাতীয় বেরুতে থাকে আবার যেহেতু ম্যাক্সিলারি সাইনাসকে অন্য সাইনাসগুলোর মাস্টার বলা হয়ে থাকে, তাই এই সাইনাসের আক্রমণ সহসাই হয়ে থাকে। আর ম্যাক্সিলারি সাইনাসের পুঁজ দুর্গন্ধও বটে।এই সমস্ত উপসর্গ ছাড়াও শিশু-কিশোরদের সাইনোসাইটিস রোগের উপসর্গ কিছু বাড়তি ভাবে দেখা যায়। বিশেষ করে এ সময়ে তাদের চোখ ও চোখের পাতা ফোলা-ফোলা থাকে, নাক বন্ধ, মুখ হাঁ করে ঘুমানো, মুখ ও নাক থেকে দুর্গন্ধ বের হওয়া, নাকডাকা, অত্যধিক লালা পড়া যা কিনা বালিশ বা বিছানা ভিজিয়ে রাখে, ঘন কাশি, আবার কোনো সময় বমি করাও তাদের অভ্যাসে পরিণত হয়।এই স্বাভাবিক উপসর্গগুলো খতিয়ে দেখে এর চিকিৎসা করলে এই রোগের কবল থেকে যেমন মুক্তি পাওয়া যায়, তেমনি এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া থেকেও মুক্তি পাওয়া সম্ভব। তাহলে এবার দেখা যাক এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া কি হতে পারে। এই পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার ওপর ভিত্তি করেই তার উপসর্গগুলো চিহ্নিত করা হয়।
সাইনোসাইটিস রোগের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া:

সাইনোসাইটিসের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াকে নিম্ন লিখিতভাবে ভাগ করা যায়। যেমন-

ব্রেইন ও ব্রেইনের খুলির বাইরে ব্রেইন ও ব্রেইনের ঝিল্লি বা আবরণের ও সাইনোসাইটিস রোগের পর্যায়ক্রমিক আবির্ভাব।যেহেতু সাইনাসগুলো কাঠামোগত দিক থেকে ব্রেইন, ব্রেইনের আবরণ এবং চোখের অতি সন্নিকটে, তা অতি সহজেই সাইনাসের প্রদাহ ওই সমস্ত জায়গাকে আক্রান্ত করতে পারে। আর এ সমস্ত জায়গাকে আক্রান্ত করলে রোগীর অবস্থা মারাত্মক হয়, এমনকি জীবনহানির আশঙ্কাও থাকে। তাই এ সম্পর্কে সজাগ থাকা দরকার।
ব্রেইনের বা ঝিল্লির বাইরে : ফ্রন্টাল বা ম্যাক্সিলারি বোনের ক্রনিক প্রদাহ বা অস্টিওমাইলাইটিস যদিও ফ্রন্টাল বোনকে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে আক্রমণ করে।
চোখের জটিলতা : যেমন অরবিটাল সেলুলাইটিস, চোখের পাতায় সেলুলাইটিস, চোখের মধ্যে অ্যবসেস ইত্যাদি। মুখ ও মুখমণ্ডল ফুলে যাওয়া।
খুলির ভেতরে জটিলতা : ব্রেইনের ঝিল্লির প্রদাহ, ব্রেইন প্রদাহ, ব্রেইনের ভেতরে শিরা-উপশিরার রক্ত প্রবাহে বাধাদান করে।
কখন ডাক্তার দেখাবেন?

যদি মুখ ফুলে ওঠে কিংবা দৃষ্টি অস্পষ্ট হয়ে যায়, সেক্ষেত্রে আপনি হয়তো কোনো মারাত্মক অসুখে আক্রান্ত হয়েছেন।
যদি সাত দিনেও লক্ষণগুলোর কোনো উন্নতি না হয়, সেক্ষেত্রে অনতিবিলম্বে চিকিৎসার আশ্রয় নেয়া উচিত।
যদি ব্যাকটেরিয়াবাহিত সাইনাসের সংক্রমণের কোনো চিকিত্সা করা না হয়, সেক্ষেত্রে এটা হয়তো বছরের পর বছর ধরে আপনাকে ভোগাবে এবং এ সংক্রান্ত দীর্ঘস্থায়ী ব্যথায় আপনাকে আক্রান্ত করবে।
নাক দিয়ে দীর্ঘস্থায়ীভাবে সংক্রামক শ্লেষ্মার নির্গমন ব্রঙ্কাইটিস, দীর্ঘস্থায়ী কাশি, কিংবা অ্যাজমা ইত্যাদি রোগের কারণ হয়েও দাঁড়াতে পারে।
কীভাবে প্রতিরোধ করবেন?

যেহেতু অ্যালার্জি, ঠাণ্ডা এবং ইনফ্লুয়েঞ্জার মতো সমস্যাগুলো থেকে সাইনোসাইটিসের অবতরণ ঘটে, তাই এটা গুরুত্বপূর্ণ যে, সাইনোসাইটিসে আক্রান্ত হওয়ার আগেই এই সমস্যাগুলোর সমাধান করা।
আপনার যদি অ্যালার্জি থাকে সেক্ষেত্রে জেনে নিন কি থেকে আপনার অ্যালার্জি হয়। ফলে আপনি নিজের স্বাস্থ্যকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারবেন।
ধূমায়িত এবং দূষিত পরিবেশ পরিত্যাগ করে চলুন। যদি আপনি ধূমপান করেন, তবে তা পরিত্যাগ করুন।
ঘুমানোর সময় মাথা উঁচু রাখুন, যাতে সাইনাস নিজে থেকেই বেরিয়ে আসতে পারে।
নাকে খুব বেশি জোরে যাতে আঘাত না লাগে সেদিকে লক্ষ্য রাখুন।
রোগ নির্ণয় পদ্ধতিঃ-

প্রথম অবস্থায় এ রোগ ধরা বেশ কষ্টকর । সাইনোসাইটিস নির্ণয়ের জন্য একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের নিচের যে কোন পদ্ধতির সহায়তা নেওয়ার প্রয়োজন হতে পারে।

সিটিস্ক্যান
নেসাল এন্ডোসকপি
নাকের মাংসের বায়োপসি
সানুসকপি
সুইয়েট কোরাইড টেস্ট
চিকিৎসা বা আরোগ্য লাভের উপায়ঃ-

এলপ্যাথিক চিকিৎসাঃ-সাইনোসাইটিসের কারণে মাথাব্যথা হয়েছে বলে মনে হলে যতদ্রুত সম্ভব একজন নাক, কান, গলারোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ গ্রহণ করতে হবে। প্রাথমিক পর্যায়ে এ রোগের জন্য চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী এন্টিবায়োটিক, এন্টিহিস্টামিন, নাকের ড্রপ এবং ব্যথানাশক ওষুধ ব্যবহার করা হয়। যদি ওষুধপত্রে এই রোগ নিরাময় না হয় তবে সাইনাসের ওয়াশ বা আরও বড় ধরনের অপারেশনের প্রয়োজন হতে পারে।
হোমিওপ্যাথিক প্রতিবিধানঃ-বিজ্ঞানী চিকিৎসক হানেমান এর যুগান্তকারী আবিষ্কার ক্রনিক মিয়াজাম সোরার প্রভাবেই সাইনোসাইটিস বেশির ভাগ ক্ষেত্রে হয়ে থাকে। সাইনোসাইটিস রোগ অবহেলা না করে এই রোগের প্রাথমিক অবস্থায় চিকিৎসা করা, এর মারাত্মক পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া কিংবা ভোগান্তি থেকে সম্পূর্ণ রেহাই পাওয়া সম্ভব। এই রোগের লক্ষণ অনুযায়ী হোমিওপ্যাথিতে চমৎকার কার্যকরী ওষুধ আছে। সংক্ষেপে এ রোগে ব্যবহৃত ওষুধ নিম্নে প্রদত্ত হল। যথা- ১) গ্লোনিয়ন ২) বেলেডোনা ৩) সাঙ্গুইনেরিয়া ৪) স্পাইজেলিয়া ৫) নেট্রামমিউর ৬) লাইকোপোডিয়াম ৭) টিউবারকুলিনাম ৮) থুজা ৯) মেডোরিনাম ১০) সালফার উল্লেখযোগ্য। এছাড়াও আরও ফলদায়ক ওষুধ আছে। তবে চিকিৎসকের পরামর্শে ছাড়া ওষুধ সেবন করা উচিত নয়।
ঘরোয়া উপায়ে সাইনোসাইটিস মোকাবেলাঃ-

ভেষজের মাধ্যমেঃ-

রসুন : সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, রসুন অ্যান্টিবায়োটিক হিসেবে কার্যকর ভূমিকা রাখে। তাই ভাইরাল ও ব্যাকটেরিয়ার ইনফেকশনজনিত সাইনোসাইটিস প্রতিরোধে রসুন অনন্য। প্রতিদিন দুই-চার কোয়া রসুন দুই চা চামচ মধুর সাথে দিনে দুই বার সেবন করলে সাইনোসাইটিস ভালো হয়।
পেঁয়াজ : প্রতিদিন এক চা চামচ পেঁয়াজের রস এক চা চামচ মধুর সাথে সেবন করলে সাইনোসাইটিস ভালো হয়ে যাবে।
গোলমরিচ : পাঁচ গ্রাম গোলমরিচ চূর্ণ এক গ্লাস গরম দুধের সাথে সেবন করলে সাইনোসাইটিস দূর হয়ে যায়।
আদা : নিয়মিত আদার রস এক চা চামচ পরিমাণ সাথে এক চামচ মধুসহ সেবন করলে সাইনোসাইটিসজনিত মাথাব্যথা দূর হয়।
গোল্ডেনসিয়াল : দক্ষিণ আমেরিকার এ ভেষজটি অ্যান্টিবায়োটিক হিসেবে খুবই কার্যকর। এ ভেষজে বেরবেরিন এবং হাইড্রস্টিন বিদ্যমান, যা সাইনোসাইটিস প্রতিরোধে খুবই কার্যকর।
যষ্টিমধু : গবেষণায় দেখা গেছে, যষ্টিমধু অ্যান্টিবায়োটিক ও অ্যান্টিভাইরাল হিসেবে কাজ করে এবং শ্বসনতন্ত্রের প্রদাহ দূর করে। তাই যষ্টিমধু সাইনোসাইটিস প্রতিরোধে খুবই কার্যকর।
পুদিনা তেল : পুদিনার তেল সাইনোসাইটিসজনিত মাথাব্যথা, নাক ও মুখমণ্ডলের ব্যথা দূর করতে কার্যকর।
ইউক্যালিপটাস তেল : ইউক্যালিপটাস তেল খুব ভালো অ্যান্টিবায়োটিক হিসেবে কাজ করে। তাই ইউক্যালিপটাস তেল ব্যাকটেরিয়াল ইনফেকশনজনিত সাইনোসাইটিস দূর করে।
লেমন বাল্ম : সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে, অ্যান্টিভাইরাল, অ্যান্টিব্যাকটেরিয়া, অ্যান্টিহিস্টামিটিক ব্যথানাশক হিসেবে কাজ করে এবং সাইনোসাইটিস প্রতিরোধে ভালো কাজ করে।
ম্যাসাজ থেরাপিঃ-

তিলতেল: তিলতেল দিয়ে নিয়মিত ম্যাসাজ করলে সাইনোসাইটিস ভালো হয়।
চিকিৎসার জন্য যোগাযোগঃ-

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স
জেলা সদর হাসপাতাল
মেডিকেল কলেজ হাসপতাল
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়
বেসরকারি হাসপাতাল
বিভিন্ন হোমিওপ্যাথিক ও হারবাল চিকিৎসা কেন্দ্র
সাইনোসাইটিসের চিকিৎসার মূল উদ্দেশ্য সাইনাসের ছিদ্রপথ পরিষ্কার রাখা যাতে বায়ু চলাচল স্বাভাবিক এবং শ্বাস – প্রশ্বাসের নির্গমন স্বাভাবিক থাকে। চিকিৎসকরা আরও বলে থাকেন সাইনোসাইটিস থেকে ভালো থাকতে হলে নাক ও গলার প্রদাহের সময় মতো চিকিৎসা করতে হবে । এ ছাড়া নাকেও ড্রপ জাতীয় ওষুধের অপব্যবহার এড়িয়ে চলতে হবে এবং এ জাতীয় ওষুধ চিকিৎসকের অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা ঠিক হবে না ।

সাধারণ ভাবে মনে রাখতে হবে, সাইনোসাইটিসের ফলে রোগী নানা জটিল ও কঠিন রোগে আক্রান্ত হতে পারে। তাই সাইনাসের প্রদাহ বা এ জাতীয় কোনও সমস্যা দেখা মাত্রই ডাক্তারের শরণাপন্ন হওয়া উত্তম ।

তথ্যসূত্রঃ-

১। সাইনোসাইটিস, এস.এম.খোরশেদ মজুমদার, বিভাগীয় প্রফেসর, নাক কান এবং গলা, হলি ফ্যামিলি রেড ক্রিসেন্ট হাসপাতাল, ঢাকা।

২। সাইনোসাইটিস ও তার প্রতিকার , অধ্যাপক মেজর (অব.) মো. আশরাফুল ইসলাম, নাক, কান ও গলা বিশেষজ্ঞ ও বিভাগীয় প্রধান,বাংলাদেশ মেডিকেল কলেজ এন্ড হাসপাতাল।

৩। সালাম, মোহাম্মদ আব্দুস, সহজ স্বাস্থ্য সেবা, পৃষ্ঠা: ৩৪, সিএমইএস প্রকাশনা, ডিসেম্বর ২০০৬।

৪। নাথ, ডা. প্রধীর রঞ্জন, সাইনোসাইটিস নিরাময়ে হোমিওপ্যাথি, দৈনিক আজাদী, ২ জুলাই বুধবার ২০১৪ খ্রিঃ।

মুহা.উবাইদুল্লাহ, ফার্মেসী বিভাগ, ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি।

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 7357 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ