বিরিয়ানীর নামে কি খাচ্ছে চট্টগ্রাম মহানগরীর মানুষ ?

Print

দিনে তেমন চোখে পড়ে না, সন্ধ্যা হলেই চট্টগ্রাম মহানগরীর মোড়ে মোড়ে দেখা যায় মেজবানির ডেকে রান্না করা বিরিয়ানী বিক্রী করতে। অজানা স্বাদে এসব বিরিয়ানি খেতে চারপাশে ঘিরে বসেন সাধারণ মানুষও।

তারা জানেন না, কিভাবে তৈরী হচ্ছে এসব বিরিয়ানি। শুধুমাত্র বিরিয়ানির গন্ধ পেয়ে ছুটে যান মানুষগুলো। যে কোন অভিজাত হোটেলের চেয়ে কম দামে পাওয়া যায় বলে এসব বিরিয়ানি খান বলে অনেক সাধারণ মানুষ আলাপকালে বলেন।

সম্প্রতি চট্টগ্রাম মহানগরীর আন্দরকিল্লা জামে মসজিদের সামনে সড়কের মোড়ে মেজবানি ডেকে রান্না করা বিরিয়ানি বিক্রী করছিলেন শাহ আলম নামে এক বিক্রেতা। নিজের বিরিয়ানির প্রশংসা করছিলেন তিনি। তাতে বিরিয়ানি খেতে আসা কয়েকজন সাঁইও মেলাচ্ছেন।

বলছেন, মেরিডিয়ান, হান্ডি, ক্যান্ডি, কাশবন, এমনকি জামান হোটেলসহ নানারকম অভিজাত হোটেলের তুলনায় স্বাদে গন্ধে কম কি। তাদের কথা শুনে জানতে চাওয়া হয়, মেরিডিয়ান, হান্ডি, ক্যানডিতে কখনো বিরিয়ানি খেয়েছেন কিনা। বললেন খেয়েছি। এগুলো কোথায় প্রশ্ন করা হলে মুখবন্ধ তাদের।

বিরিয়ানির প্রেøট কত জানতে চাইলে বিক্রেতা শাহ আলম বলেন, ২০ টাকা। ২০টাকায় বিরিয়ানি! কি আছে তাতে? বিক্রেতা বললেন, মুরগির বিরিয়ানি। খেয়ে দেখেন। স্বাদ অনেক বেশি। পাশের ক্যানডি আর চৌরঙ্গি হোটেল দেখিয়ে বললেন তিনি, এ রকম ২ প্লেটের সমান বিরিয়ানি ২০০ টাকার ওপরে নেবে।

তো এত কম দামে আপনি কিভাবে বিক্রী করছেন কেন, জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমার তো হোটেল ভাড়া দিতে হয় না। কর্মচারির বেতনও দিতে হই না। তাই কম দামে বেচেও লাভ। তাই বলে এত কম দাম। আর কি রহস্য আছে বলুন তো ? এতে ক্ষেপে যান তিনি।

ততক্ষণে বিরিয়ানি খেতে আসা অনেক লোক খাওয়া বন্ধ করে রহস্য জানার পক্ষে প্রশ্ন করতে শুরু করেন বিক্রেতাকে। কিন্তু উত্তর দিতে না পেরে এক পর্যায়ে ভ্যানগাড়িতে ডেক তুলে প্রস্থান করেন তিনি। এরপরও এ নিয়ে সন্দিহান অনেকে জড়ো হন ওই এলাকায়।

উঁিক দিতে শুরু করেন পথচারীরাও। এরমধ্যে ক্যানডির বিক্রেতা আবু সায়েম এসেই জট খুলে দিলেন রহস্যের। তিনি উপস্থিত লোকজনের কাছে বললেন, ভাই, ৩০ টাকা দামে মরা মুরগি কিনে ওরা। গরুর মাংসের নামে কিনে হাড়-গুড়। এসব দিয়ে বিরিয়ানি তৈরী করে ১০ টাকায় বিক্রী করলেও লাভ।

তিনি বলেন, দেখেন না, মুরগি বলেন আর গরুর মাংস বলেন বিরিয়ানির সাথে শুধু হাড় পাওয়া যায়। মাংসের অস্তিত্ব পাওয়া যায় না। বিরিয়ানিতে ক্যামিকেল ও বিষাক্ত মসল্লা ব্যবহার করে ওরা। ফলে এতে বিরিয়ানির গন্ধ থাকে বেশি। তাই সাধারণ মানুষ না বুঝে এসব বিরিয়ানি খাই।

তিনি বলেন, শুধু আন্দরকিল্লা নয়, চট্টগ্রামের অলিগলিতে, মোড়ে-মোড়ে এসব ভাসমান বিরিয়ানির ব্যবসা জমজমাট। অনেকে বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি অফিসের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে কন্টাক্ট নিয়ে নিজের বাসা-বাড়িতে বিরিয়ানি বানায়। সাপ্লাই দেয়। যেখানে বেশিরভাগই মরা মুরগির মাংস খাওয়ানো হচ্ছে। সাথে খাওয়ানো হচ্ছে বিষাক্ত বিদেশি মসল্লা। যা জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাতœক হুমকি।

চট্টগ্রাম নগরীর জিইসির মোড়ে স্টারল্যাব ডায়াগনস্টিকসের লিভার বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক সেলিম সরোয়ার এ প্রসঙ্গে বলেন, বিরিয়ানির সাথে মরা মুরগি খাওয়ালে তা ভোক্তার জানার কথা নয়। আর না জেনে না দেখে বিশ্বাসের উপর এসব খাচ্ছে মানুষ। এরমধ্যে মরা মুরগি হারাম হলেও সবচেয়ে মারাতœক হচ্ছে ব্যবহৃত মসল্লা। যা জনস্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর।

তিনি বলেন, প্রতিদিন আমার কাছে যা রোগী আসে তাদের মধ্যে বিরিয়ানি খেয়ে পেটে ব্যাথাসহ নানা রকম জটিল রোগে আক্রান্ত রোগী আছে। বিরিয়ানির নামে এসব অখাদ্য-কুখাদ্য খেতে খেতে শরীরের লিভার, পিত্তাশয়, কিডনীজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর দিকে ধাবিত হচ্ছে অনেক সাধারণ মানুষ। এ ব্যাপারে জনসেচতনতা প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি।

এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে বিএসটিআই চট্টগ্রামের পরিদর্শক রেজাউল করিম বলেন, ভাসমান বিক্রেতারা ভেজাল বিরিয়ানি বিক্রী করে বলে দিনের বেলায় বসে না। রাতের বেলায় মোড়ে মোড়ে বসে বিরিয়ানি বিক্রী করে। তাদের আটক ও বিরিয়ানি বিক্রী বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বিরিয়ানি তৈরীর কাজে ব্যবহৃত বিদেশি বিরিয়ানির মসল্লাগুলো জব্দে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় দোকানে দোকানে অভিযান চালানোর উদ্যোগও নেওয়া হবে।

-সিটিজি টাইমস ডটকম

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 69 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ