বিশ্ববাজারে চালের দাম বাড়ার শঙ্কা

Print
কর্পোরেট রিপোর্ট : বিশ্বজুড়ে খরার কারণে চালের উৎপাদন কমে আন্তর্জাতিক বাজারে কোটি কোটি মানুষের জন্য প্রধান এই খাদ্যপণ্যের দাম বাড়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে। এল নিনোর প্রভাবে তপ্ত আবহাওয়া ও খরায় বিশ্বের প্রায় ৬০ ভাগ চাল উৎপাদনকারী দেশ ভারত, পাকিস্তান, থাইল্যান্ড এবং ভিয়েতনামে উৎপাদন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে যুক্তরাজ্যের দ্য ইন্ডিপেনডেন্টের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।এতে বলা হয়, এই দেশগুলোর শস্যভান্ডারের মজুদ দ্রæত কমছে, যা বছরের শেষে ১৯ মিলিয়ন টনে নেমে আসতে পারে। ২০১৩ সালে গড়ে এই মজুদ ছিল প্রায় ৪৩ মিলিয়ন টন। চালের সরবরাহে যে টান পড়েছে তাতে কোনো সন্দেহ নেই। যদি ভারত ও ইন্দোনেশিয়ায় মওসুম (বর্ষা) খারাপ যায় এবং ধান চাষের সময় বৃষ্টি না হয়, তাহলে বাস্তবিকই সামনে বড় সমস্যা হতে পারে বলে জানায় আন্তর্জাতিক চাল গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইআরআরআই-ইরি) । ভারতে জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বর্ষাকাল স্থায়ী হয়। এই সময় দেশটিতে সারা বছরের চার ভাগের একভাগ বৃষ্টিপাত হয়ে থাকে। বৈশ্বিক জলবায়ুর বড় পরিবর্তন ঘটাচ্ছে এল নিনো, যাতে সাধারণত প্রশান্ত মহাসাগরের উপকূলীয় অঞ্চলে প্রতি দুই থেকে সাত বছরে সমুদ্রপৃষ্ঠের উষ্ণায়ন ঘটে থাকে। এর প্রভাবে বেড়ে যায় বিশ্বের তাপমাত্রাও। এর আগে এল নিনোর প্রভাবে এশিয়ায় চাল উৎপাদন কমে যাওয়ায় ২০০৮ সালে ভারত চাল রফতানি সাময়িক বন্ধ রাখায় বিশ্ববাজারে প্রতি টন চালের মূল্য দাঁড়িয়েছিল প্রায় ১০০০ ডলারে। থাইল্যান্ডের প্রধান শস্য ধানের উৎপাদন ২০১৩ সালের সর্বোচ্চ উৎপাদনের তুলনায় এবার প্রায় অর্ধেক কমে ১৫ দশমিক ৮ মিলিয়ন টনে নেমে আসবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এর মধ্যে ভিয়েতনামের মেকং ডেলটা অঞ্চলে সাম্প্রতিক খরা ও লবণাক্ততায় প্রায় পাঁচ লাখ ৯০ হাজার একর ধানি জমি ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। ১৯৬০ সাল থেকে সেচের জন্য প্রায় ১০ লাখ কূপ খনন করা হলেও তাতে সমস্যা কমেনি; লবণাক্ততা বেড়ে শস্য উৎপাদন পরিস্থিতি আরো খারাপ হয়েছে। মজুদ বাড়িয়ে ভবিষ্যতের সংকট এড়াতে ফিলিপিন্স প্রায় অতিরিক্ত পাঁচ লাখ টন চাল আমদানির চিন্তা করছে বলেও প্রতিবেদনে বলা হয়।

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 12 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ