বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রীর সঙ্গে যে লালসার বিচার নিভৃতে কাঁদে!

Print

আগেই বলে রাখি আমি ভাল কোন লেখক নই। কথার ফুলঝুরিতে আপনাদের হয়তো মন ভরিয়ে দিতে পারবো না। তবে হয়তো মনের কথাটা প্রকাশ করতে পারবো। বিষয়টা বোঝাতে পারবো তবে গল্পের মধ্যে আটকে রাখাটা হয়তো আমার পক্ষে সম্ভব নাও হতে পারে। তবে আশা করছি শেষ পর্যন্ত ধৈর্য্য নিয়ে না বলা কথাগুলো মনযোগ দিয়ে পড়বেন। মূলত সতর্কতার জন্যই আমার এই কথাগুলো শেয়ার করা। কারণ আমার জীবনে ঘটে যাওয়া কাহিনী এ পৃথিবীতে দুইজন মানুষ জানে। আমার বান্ধবী আর আমি। তার সঙ্গে শেয়ার করার কারণটা হলো দুইজনই একই পথের পথিক। যাই হোক তার গল্পটা হয়তো আরেকদিন জানা যেতে পারে।
আর ভনিতা নয়। মফস্বল এলাকার মেয়ে আমি। তাই স্বভাবতই অনেকটা লাজুক টাইপের ছিলাম। সহজেই কারো সঙ্গে মিশে যাওয়াটা আমার ডিকশনারিতে ছিল না।

মনের কথা কারো সঙ্গে শেয়ারও করতে পারতাম না।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্স পেয়েছি। তবে থাকার কোন জায়গা নেই। বাসা থেকেও কড়া নির্দেশ হলে থাকা যাবে না। সেখানে নাকি মেয়েরা নষ্ট হয়ে যায়। তাই নষ্ট হওয়া থেকে বাঁচাতে আমাকে পাঠানো হল আমার বাবার চাচাতো বোনের বাসায়। মানে আমার ফুপির বাসায়।
বলে রাখা ভালো। আমার ওই ফুপফি একটি বেসরকারি জব করেন। ফুফাও সরকারি চাকরি করেন। বিরাট বাসায় পরিচিত বলতে আর কেউ নেই। ফুফাত ভাই আমেরিকায় থাকেন। সেখানে সংসার নিয়ে বেশ ভালই কেটে যাচ্ছে তার। মাঝে মাঝে দেশে আসেন। সপ্তাহ খানেক থেকে চলে যান আমেরিকায়। ফুফাতো বোনের বিয়ে হয়েছে রাজশাহীদের সুখের সংসার তাদের।
তাই বাসায় আমি ফুপফির একান্ত আদরের হয়ে উঠলাম। গাড়িতে করে ক্লাসে যাওয়া। ক্লাস শেষে বাসায় ফেরা এই ছিল নিয়মিত রুটিন। এর বাইরে আমার আর কোন জগৎ তৈরি হয়নি। বন্ধু বলতে আমার একজনই। শিলা (ছদ্মনাম)। আমি আর শিলা একই বিভাগে পড়ি। বাসাও প্রায় কাছাকাছি। তাই আমাদের গাড়িতে সে আমার সঙ্গী হত। একারণে ঘণিষ্টতা আরও বেড়ে ওঠে তার সঙ্গে।
শিলা থাকে তার দুলাভাইয়ের বাসায়। বোনের ছোট একটা চাকরি। আর দুলাভাই ব্যবসা করে। বাসায় ছোট দুই ভাগনির সঙ্গে হেসে খেলে তার জীবন কেটে যাচ্ছে। খুব সুখেই আছে ও। আপাতত তার গল্পটা এমনই জানা ছিল।
তার গল্পটা না হয় আরেকদিন শোনা যাবে।
বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের প্রথম বর্ষটা অামার ভালই কেটেছে। বিপত্তির শুরু দ্বিতীয় বর্ষ থেকে। ফুপফির বাসায় আমি ভরসার পাত্র হয়ে উঠলাম। পড়াশোনার ফাঁকে ঘর গুছানো। রান্নায় সাহায্য করা। সন্ধ্যার পর বারান্দায় বসে চায়ের আড্ডা। লোডশেডিংয়ের সময় রবীন্দ্রনাথের গান শোনা। মাঝে মাঝে চাঁদের আলোয় অবগাহন করা। এভাবেই চলে যাচ্ছিল।
ধীরে ধীরে অনুভব করতে লাগলাম, আমি আমার ফুফার সঙ্গে একটু বেশি ঘনিষ্ট হয়ে যাচ্ছি। অবসরে একসঙ্গে বসে আড্ডা দেয়া। গান শোনা। গল্প আর খেলার ছলে অনেকটাই ফ্রি হয়ে গিয়েছিলাম। খেলার ছলে আমাকে ছুঁয়ে দেয়া। কারণে অকারণে গালে হাত দেয়া। পিঠে স্পর্শ এমন ঘটনা বাড়তে লাগলো। শুরুতে বিষয়গুলো স্বাভাবিক মনে হয়েছিল। তিনি আমার চেয়ে অনেক বড়, সম্পর্কটাও সম্মানের জায়গায় তাই অন্য কিছু চিন্তা মাথায় আসেনি।
কিন্তু ধীরে ধীরে আবিষ্কার করলাম অন্যরকম কিছু। বাবার আসনে রাখা সেই মানুষটা আর তার সম্মানের জায়গায় ঠিক থাকতে পারলেন না। ফুপফি বাসায় না থাকলে ছুটি নিয়ে বাসায় চলে আসা। সময় অসময়ে চা খেতে চাওয়া। মাথায় হাত বুলিয়ে দেয়ার বায়না। আপত্তিকর শব্দ চয়ন। ভালোবাসার কবিতা বলা। নানা ছলে বলে কাছে আসার চেষ্টা করা। অনুমতি না নিয়ে আমার রুমে প্রবেশ করা। ঘুমিয়ে থাকা অবস্থায় কারণে অকারণে ঘরে প্রবেশ করে গায়ে হাত দিয়ে ডাকাডাকি করা। পায়ে সুরসুরি দেয়া। ঘাড়ে ফু দেয়া। এমন নানা কর্ম বাড়তে লাগলো।
বলে রাখা ভালো। ফুপফি এসব বিষয় নিয়ে মাথা ঘামাতেন না। কারণ তিনি তার স্বামীকে অনেক বেশি ভালোবাসেন ও বিশ্বাস করেন। তাছাড়া প্রথম প্রথম আমি ফুফার সঙ্গে অনেক বেশি ফ্রি ছিলাম। তাই তার আচরণগুলো আমার কাছে স্বাভাবিক গার্জিয়ানসুলভ মনে হত। কিন্তু ধীরে ধীরে বিষয়টি বাড়াবাড়ির পর্যায়ে চলে যায়।
আষাঢ়ের মাঝামাঝি সময়। সকাল থেকে ঝুম বৃষ্টি। কিন্তু ক্লাস মিস দেয়া যাবে না। সামনে পরীক্ষা। তাই বৃষ্টির মাঝেও ক্লাসে গেলাম। কিন্তু উপস্থিতি নেই ক্যাম্পাসে। তাই ক্লাস হল না। দুই ঘন্টা বসে থেকে অগত্যা রিকশায় করে ফিরতে হল বাসায়। আমি একা বাইরে ঝিরি ঝিরি বৃষ্টি। বারান্দায় বসে নানা বিষয় চিন্তায় মগ্ন আমি। হঠাৎ কলিং বেল বেজে উঠল।
দরজা খুলতেই ফুফা আমার সামনে দাঁড়িয়ে। মুচকি হাসি দিয়ে বাসায় ঢুকলেন। বৃষ্টির দোহাই দিয়ে তাড়াতাড়ি বাসায় ফিরে আসলেন তিনি। সরকারি চাকরি জবাবদিহিতাও তেমন একটা নেই। এদিকে ফুফাকে দেখে কেন জানি আমার মনটা আঁতকে উঠল। ভয় ভয় করতে লাগল। তবে মনে মনে সাহস সঞ্চয় করলাম। ভাগ্যে যা আছে তাই হবে। তিনিতো আমার বাবার মত। নিশ্চই আমি যা ভাবছি তা সঠিক নয়।
ফুফা ফ্রেশ হয়ে কফি বানাতে বললেন। জানালাম কফি শেষ হয়ে গেছে। চা হলে চলবে কিনা। না সূচক জবাব দিয়ে ফুফা বাসা থেকে বের হলেন। অাধঘন্টা পর ফিরে আসলেন কফি সমেত। এবার কফির অর্ডার দিয়ে ড্রয়িং রুমে গিয়ে বসলেন তিনি। আমি রান্নাঘরে যেতে না যেতেই তিনিও আমার পিছু পিছু হাজির হলেন।
আজ আমরা দুজন মিলে কফি বানাবো। এমন অফার করে একেবারে আমার গা ঘেষে দাঁড়ালেন। ঠোটে মুচকি হাসি নিয়ে বললেন আমাকে বিশ্বাস কর। আমি তোমার বাবার মত। তুমি অনেক বড় হবে। জীবনটাকে এনজয় করতে শেখ। না হয় জীবনে পস্তাতে হবে। এমন অনেক উপদেশ বানী শোনালেন। এক পর্যায়ে আমার হাত ধরার বাহানা করলেন। কিছু বুঝে উঠার আগেই আমি রান্না ঘর থেকে বের হয়ে আসলাম ওয়াশরুমে যাওয়ার বাহানায়।
যখন ফিরলাম। দেখি ফুফা কফি সমেত আমার রুমে বসে আছেন। মনে মনে দোয়া করছিলাম। ফুপফি যদি আজ তাড়াতািড়ি বাসায় ফিরতেন।।
রুম থেকে বের হয়ে ড্রয়িং রুমের দিকে গেলাম। ফুফা দুই কাপ কফি নিয়ে সেখানে হাজির। মনযোগ অন্য দিকে আকর্ষণ করার চেষ্টা করলাম। টেলিভিশনটা অন করে ডিসকভারি চ্যানেলে গেলাম। এরই ফাঁকে ফুফা বারবার নস্টালজিয়ায় ফিরে যেতে চাইচেন। তার বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের নানা স্মৃতি নিয়ে গল্প বলা শুরু করলেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম প্রেমের গল্প শুরু করলেন। ক্লাস ও পরীক্ষা নিয়ে সিরিয়াস সেই ছেলেটা কিভাবে ভালোবাসার মায়ায় জড়ালেন তা বলতে শুরু করলেন। ভাবলাম গল্পের ছলে ছলে সময়টা যদি পার হয়ে যেত। ফুপফি বাসায় আসলে চিন্তামুক্ত হতে পারতাম। গল্পের ফাঁকে কফিতে চুমুক দিচ্ছি। কথা বলছি।
বলছি, শুনছি, বলছি, শুনছি… (গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন আমি)
ঘুম থেকে যখন জেগে উঠলাম নিজেকে আবিষ্কার করলাম আমার বেডরুমে। রাত তখন দুইটা বাজে। আমার বিছানার পাশে প্লেটে খাবার রাখা আছে। পাশে একটি চিরকুট। লিখা, মা ঘুম ভাঙলে খেয়ে নিও। ডাকাডাকি করলাম না।
প্রকৃতির ডাকে সারা দেয়ার সময় হয়েছে। প্রচণ্ড বেগ পাওয়ায় ঘুমটা ভেঙে গেল। বুঝতে পারছি না কি করবো কি করা উচিৎ। বাথরুমে ফ্রেশ হতে গেলাম। আয়নার সামনে চেহারায় অদ্ভুত একটা বিষয় লক্ষ্য করলাম। ঘাড়ের পাশে লাল দাগ। কিছু জ্বালাও করছিল। মনে হল যেন দাড়ির আচড়। কিভাবে এমনটা হল বুঝতে পারলাম না। আমার সঙ্গে কি হয়েছে বোঝার জন্য বসে থাকলাম কতক্ষন। সম্ভিত ফিরে পেলাম তলপেটের নিচে হাত দিয়ে।
বুঝতে বাকি রইলো না কী ঘটেছে আমার সঙ্গে। কী নিকৃষ্ট বর্বরতার শিকার হয়েছি আমি। ড্রয়িং রুম থেকে কে আমাকে আমার বিছানায় শুইয়ে দিয়েছে। কে আমার, অামার…
রাগে ঘৃণায় লজ্জায় অঝোরে চোখের পানি ঝরছে। নিজেকে শেষ করে ফেলতে ইচ্ছে হল। পরক্ষনে চিন্তা আসলো জীবনটা অনেক বড়। নতুন করে ভাবতে হবে আমাকে। রাতে আর ঘুম হল না। না খেয়েই সকাল হল।
আজকের সকালটা বড়ই অপরিচিত মনে হল। পৃথিবীর সবাইকে অপরিচিত মনে হল। নিজের রুমটাকেও যেন শত্রু মনে হতে লাগল। আমার কেউ নেই। পৃথিবীতে যেন আমি একা। মাথা ঘুরছে, কান্না করছি। মাঝে মাঝে হাসছি, নতুন করে বাঁচার স্বপ্ন দেখছি। আবার বালিশে মুখ গুজে কান্না করছি। এভাবেই চলছি।
পরক্ষনেই মনে হল, যা হওয়ার হয়েছে। অামার সঙ্গে যা হয়েছে তার কোন প্রমাণ নেই। কাউকে বলাও যাবে না সম্পর্কের মারাত্মক ক্ষতি হবে। সংসারে বিস্ফোরণ ঘটবে। আমি এমন বিস্ফোরণ ঘটাতে চাই না। আমার মায়ের মত ফুপফির মনে কষ্ট দিতে চাই না। স্বামীকে তিনি বিশ্বাস করেন। শ্রদ্ধা করেন। শ্রদ্ধা নষ্ট করতে চাই না।
সিদ্ধান্ত নিলাম ওই বাসায় আর একদিনও অবস্থান করা যাবে না। যা হওয়ার হয়েছে নতুন করে বাঁচতে হবে। স্বপ্ন দেখতে হবে। সামনে এগিয়ে যেতে হবে।
আজ খুব সকালে ফুফা অফিসে চলে গেছে। ফুপফি অফিসে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। আর আমি নিজেকে শান্ত রাখার চেষ্টা করছি। আমার মাথায় হাত বুলিয়ে ফুপফি অফিসে চলে গেলেন।
বাসায় অামি আবারও একা। দুপুর গড়িয়ে কখন বিকেল হয়ে গেল টের পেলাম না। আজ ফুপফি তাড়াতাড়ি চলে এসেছেন। তবে হায়েনারুপি সেই পুরুষটি বাসায় ফেরেনি। তার নাকি আসতে রাত হবে। রাত থেকে খাওয়া নেই আমার তবুও ক্ষুধা নামের বস্তুটি দেখা দিচ্ছে না।
ফুপফি আমার এ অবস্থা দেখে মাথায় হাত বুলালেন। আর আদরমাখা কণ্ঠে বললেন। কী হয়েছে মা। খাওয়া দাওয়া বন্ধ করে দিয়েছ কেন। কান্না ধরে রাখতে পারছি না। বহুকষ্টে উত্তর দিলাম। মায়ের কথা মনে পড়ছে…
তোমার বাবাকে বলি আসতে। মাথা নাড়লাম। বলতে পারলাম না কিছুই। পরদিন বাবা এসে আমাকে বাড়িতে নিয়ে গেলেন। খাওয়া দাওয়া কমে গেছে। কাউকেই বিশ্বাস করতে পারছি না। মাকে জড়িয়ে ধরে রাখতে ইচ্ছে করে সরাক্ষণ। এভাবে কেটে গেল এক সপ্তাহ। সিদ্ধান্ত নিলাম হলে উঠব। গণরুম হোক আর যাই হোক হলেই থাকতে হবে। আপাতত কোন ছাত্রী হোস্টেলে সিট ম্যানেজ করতে হবে।
হলে সিট পেয়েছি। পড়াশোনার চাপ বেড়ে গেছে তাই গ্রুপ স্টাডির জন্য হলে থাকতে হবে। না হয় রেজাল্ট খারাপ হবে। ক্লাসের এক সহপাঠীকে শিক্ষক বানিয়ে বাবার কাছে ফোন দিয়ে হলের গুরুত্ব বুজিয়ে বাড়ি থেকে অনুমতি পেলাম হলে উঠার। মিথ্যা বলে হলে সিট পেয়েছি আশ্বাস দিয়ে ছাত্রী হোস্টেলে সিট ম্যানেজ করেছি আপাতত। পরে হলে উঠার প্রস্তুতি নিয়েছি। এরই মাঝে আমার বান্ধবী একটি টিউশনিও ঠিক করে দিয়েছেন। এভাবে কেটে গেল আরও এক বছর।
ফুপফির সঙ্গে সম্পর্কটা খারাপ হয়ে গেল। কেন জানি তার সঙ্গে কথা বলতে আমার খারাপ লাগতে শুরু করলো। হলে সিট পেয়েছি। জীবন মেলে ধরতে শুরু করেছে। নিজেকে শ্রেষ্ঠ হিসেবে প্রমাণ করার স্বপ্ন দেখছি। যুক্ত হলাম ডিবেট সংগঠনে। আবৃত্তিতেও যুক্ত হলাম। সংগঠন আর পড়াশোনার ফাঁকে জীবনকে উপভোগ করতে করতে কখন যে নিজেকে ভালোবাসার জালে জড়িয়ে ফেললাম জানি না।
সুখের সংসার আমাদের। তবে মাঝে মাঝে মনে হয় আমি আমার ভালোবাসার মানুষটিকে ঠকিয়েছি। মাঝে মাঝে মনে হয় ওকে সব খুলে বলি। আবার মনে করি। এসব বলে লাভ কী। যাক না এভাবেই দিন চলে।
অভিনয় করেতো জীবনের অর্ধেক দিন চলে গেছে। বাকি সময়টা এভাবেই কেটে যাবে। তবে মানুষরূপী ওই বর্বরদের লালসার বিচার কেউ চাইতে পারবে না, করতেও পারবে না। শুধু নীরবে চোখের জল ছাড়া আর কোন অবলম্বন নেই। ওদের বিচার হবে পরপারে। কঠিন বিচার।

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 68 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ