বিয়ানীবাজারে লিটু নিহত হওয়ার ৯ ঘন্টা পরও থানায় মামলা হয়নি

Print

বিয়ানীবাজারে লিটু নিহত হওয়ার ৯ঘন্টা পরও থানায় মামলা হয়নি আটককৃতরা  পুলিশি আওতায়

বিয়ানীবাজার প্রতিনিধিঃ
বিয়ানীবাজার সরকারি কলেজের কক্ষের ভিতরে গুলিবিদ্ধ হয়ে খালেদ আহমদ লিটু নিহত হওয়ার ঘটনার প্রায় ৯ঘন্টা অতিবাহিত হলেও এখনো থানায় মামলা দায়ের করেননি কেউ। পুলিশ হাসপাতাল থেকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য যে ৩জনকে আটক করেছিল তাদেরকে এখনো পুলিশের আওতায় থানায় রাখা হয়েছে। এ দিকে নিহত লিটুর জানাযার নামাজ রাত ১০টায় অনুষ্ঠিত হবে  পরিবারের পক্ষ থেকে ঘোষণা করা হয়েছে জানাজা শেষে তাকে পারিবারিক গোরস্থানে দাফন করা হবে উদ্বুদ্ধ পরিস্থিতিতে পৌরশহর সহ গোটা উপজেলাবাসী তথা দেশ বিদেশে অবস্থানরত বিয়ানীবাজারবাসীরা পরিবতির্ত পরিস্থিতি কোনদিকে মোড় নেয় তা নিয়ে উদ্বেগ, উৎকন্ঠা ও উৎসুক অবস্থায় রয়েছেন। তারা সর্বশেষ পরিস্থিতি জানতে বিয়ানীবাজারের কর্মরত সাংবাদিক ও সংশ্লিষ্ট মহলের দায়িত্বশীলদের কাছে আপডেট তথ্য জেনে নিচ্ছেন।
উল্লেখ্য, কলেজ ক্যাম্পাসে অবস্থানরত প্রত্যক্ষদর্শী পুলিশ ও শিক্ষার্থীদের সূত্রে জানা যায়, বিয়ানীবাজার সরকারী কলেজ ক্যাম্পাসে সকাল ১১টায় একাদশ শ্রেণীর দুই ছাত্রের মধ্যে বাকবিতন্ডা ও  হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার সাথে সম্পৃক্ত ঐ দুই শিক্ষার্থীর একজন ছাত্রলীগের বিবদমান পল্লব গ্র“প ও একজন পাভেল গ্র“পের কর্মী বলে জানা যায়। এতে করে কলেজ ক্যাম্পাসে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে ক্যাম্পাসে অবস্থানরত পুলিশ সক্রিয় হলে পরিস্থিতি শান্ত হয়ে উঠে। এ সময় পুলিশ কলেজ গেইটে অবস্থান নিয়ে বহিরাগতদের ক্যাম্পাসে ঢুকতে কড়াকড়ি আরোপ করে। ফলে কলেজ ক্যাম্পাসের পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে উঠে। এ অবস্থায় দুপুর সোয়া ১২টার দিকে হঠাৎ করে ক্যাম্পাসের পূর্ব দিকে অবস্থিত ৪তলা ভবনের নিচ তলায় ইংরেজী বিভাগের কক্ষের ভিতর বিকট শব্দে গুলি বিস্ফোরিত হয়। গুলির শব্দে ক্যাম্পাসে অবস্থানরত অনার্স প্রথম বর্ষের অর্ধবার্ষিক পরীক্ষার্থীরা আতঙ্কিত হয়ে দিকবিদিক ছুটোছুটি শুরু করে। পাশ্ববর্তী স্থানে অবস্থানরত পুলিশ ছুটে গিয়ে দেখে ঐ কক্ষের ভিতর গুলিবিদ্ধ অবস্থায় মেঝেতে পড়ে আছে যুবক লিটু। তার ডান চোখের উপর দিয়ে গুলিবিদ্ধ হয়ে মাথার পেছন দিকে ছিদ্র হয়ে বেরিয়ে গেছে। ছিদ্র দিয়ে বিচ্ছুরিত রক্তে মেঝ প্লাবিত হচ্ছে। গুলি বিস্ফোরণের পরই ওই কক্ষে থাকা একই গ্র“পের অন্যরা ছুটাছুটি করে বাহিরে বেরিয়ে পড়ে বলে পুলিশ জানায়। পরে ঐ গ্র“পের কয়েকজন ছুটে আসে এ সময় তাদের সহযোগীতায় পুলিশ রক্তাক্ত মুমূর্ষ লিটুকে বিয়ানীবাজার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। কর্তব্যরত ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
   কলেজ ক্যাম্পাসে গুলিবিদ্ধ হয়ে যুবক নিহতের ঘটনায় পৌরশহর সহ গোটা উপজেলাজুড়ে তোলপাড় শুরু হয়। শহরে আতংক ছড়িয়ে পড়ে ব্যবসায়ী ও পথচারীরা নিরাপদ অবস্থানে অবস্থান নেয়। হাসপাতালে শত শত উৎসুক লোকের ভিড় জমে। এ দিকে বেলা দেড়টার দিকে শুরু হতে যাওয়া অনার্স প্রথম বর্ষের অর্ধবার্ষিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীরা আতংকিত হয়ে কেউ কেউ ক্যাম্পাসে আবার অনেকেই ক্যাম্পাস ছেড়ে চলে আসে। উদ্বুদ্ধ পরিস্থিতিতে কলেজ প্রশাসন তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত নিয়ে আজকের পরীক্ষা স্থগিত করে কলেজ ছুটি ঘোষণা করে। পরবর্তীতে জরূরী মিটিংয়ে বসে আগামী ২২ জুলাই পর্যন্ত সকল পাঠদান বন্ধ ও অভ্যন্তরীণ সকল পরীক্ষা স্থগিত ঘোষণা করা হয়। বহিরাগত যুবক কি করে ক্যাম্পাসে ঢুকল এবং ঘটনার প্রকৃত বিষয় তদন্তের জন্য কলেজের উপাধ্যক্ষ মনজুর এ এলাহীকে প্রধান করে ৩ সদস্যের কমিটি গঠন করেছে কলেজ প্রশাসন। ঐ কমিটিকে আগামী ৭ দিনের মধ্যে রিপোর্ট পেশ করতে বলা হয়েছে।
পুলিশ ঘটনাস্থল ও হাসপাতাল পরিদর্শন করে প্রাথমিক সুরতহাল শেষে লাশ ময়নাতদন্তের জন্য সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করেছে। ঘটনার সময় ঐ কক্ষে থাকা ও আহত অবস্থায় লিটুকে নিয়ে হাসপাতালে যাওয়া  একই গ্র“পের কামরান, ফাহাদ ও এমদাদকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হাসপাতাল থেকে পুলিশ আটক করে থানায় নিয়ে যায়।
এ ঘটনার পর বিয়ানীবাজার উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুঃ আসাদুজ্জামান, পুলিশের এএসপি (সার্কেল) মোস্তাক আহমদ, বিয়ানীবাজার থানার অফিসার ইনচার্জ চন্দন কুমার চক্রবর্তী, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল হাছিব মনিয়া সহ শীর্ষ নেতৃবৃন্দ ঘটনাস্থল ও হাসপাতাল পরিদর্শন করেছেন।
বিয়ানীবাজার থানার ওসি চন্দন কুমার চক্রবর্তী বলেন, বর্তমানে পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। ঘটনার সাথে জড়িতদের সনাক্ত করতে পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে। দ্রুততম সময়ের মধ্যেই ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটন ও জড়িতদের চিহ্নিত করে তাদের আইনের আওতায় নিয়ে আসা হবে।
এ বিষয়ে বিয়ানীবাজার সরকারী কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক দ্বারকেশ চন্দ্র নাথ বলেন, এ ঘটনা যখন ঘটে তখন কলেজ ক্যাম্পাস অত্যন্ত শান্ত ছিল। কোন ধরণের সংঘর্ষ ঘটার মতো পরিবেশ তখন ছিল না। হঠাৎ করে আমরা গুলির শব্দ শুনতে পাই। সহকর্মী ক’জন শিক্ষককে নিয়ে ছুটে গিয়ে দেখি মেঝেতে ঐ যুবক রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। প্রাথমিক পর্যায়ে আমরা মনে করেছিলাম ছেলেটি আমাদের কলেজের শিক্ষার্থী কিন্তু পরবর্তীতে খোঁজ নিয়ে দেখি সে বহিরাগত যুবক। ক্যাম্পাসের গেইটে পুলিশ থাকা অবস্থায় কি করে বহিরাগত এই যুবক ঢুকল তা বোধগম্য হচ্ছে না। উদ্বুদ্ধ পরিস্থিতিতে আগামী ২২জুলাই পর্যন্ত সব ধরণের অভ্যন্তরীন পরীক্ষা স্থগিত ও পাঠদান বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। তবে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন পরীক্ষাগুলো চলবে। এ ঘটনায় প্রকৃত অর্থে কারা জড়িত এবং ক্যাম্পাসে কি করে বহিরাগত যুবক ঢুকে তা তদন্তের জন্য ৩ সদস্যের কমিটি করে দেয়া হয়েছে। তিনি বলেন, আমাদের কলেজের ইতিহাসে এই প্রথম সংগঠিত হতাহতের ঘটনায় আমরা বাকরুদ্ধ। কলেজ প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রকৃত দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবী করছি।

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 131 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ