বেনাপোলে তীব্র পন্যজট লেগেই আছে

Print


মোঃরাসেল ইসলাম,বিশেষ প্রতিনিধি:এশিয়া মহাদেশের ভিতর দ্বিতীয় বৃহত্তম স্থল বন্দর বেনাপোল । বছরে এখান থেকে প্রত্যাক্ষ ও পরোক্ষভাবে সরকার ১০ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব নিলে ও বন্দর অবকাঠামোর কোন উন্নতি হয়নি। চট্রগাম বন্দরের পর দেশের এই বন্দরটিতে আধুনিকতার কোন ছোয়া না লাগায় ব্যবসায়িরা হতাশা প্রকাশ করছে। আমদানি পন্য সার্বোক্ষনিক যানজট লেগেই থাকে।

বেনাপোল বন্দর নানান অনিয়মের মধ্যে খুড়িয়ে খুড়িয়ে চলছে। এতে ব্যবসায়িরা ও ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে সরকার অধিক রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। বেনাপোল বন্দর ব্যবহারকরি ব্যবসায়িরা বলছেন দির্ঘদিন বেনাপোল বন্দরের এ অবস্থা সৃষ্টির জন্য তাদের আমদানি কৃত পন্য এনে নানবিধ সমস্যায় পড়তে হচ্ছে।
অপরদিকে বেনাপোল বন্দর কর্তৃপক্ষ বলছেন বন্দরের সমস্যা দ্রুত সমাধান করার জন্য উপরিমহলকে অবগত করা হয়েছে।
দেশের ২২ টি স্থল বন্দরের ভিতর বর্তমানে ১১ টি বন্দর চালু রয়েছে। এর ভিতর গুরুত্ব পূর্ন এই বেনাপোল বন্দর। বেনাপোল বন্দরটি ১৯৭২ সালে অবস্থিত। ব্যবসা বানিজ্যর জন্য ও কোলকাতার সাথে যোগাযোগ ব্যবস্থা ও ভাল বেনাপোল বন্দরের। মাত্র ২ থেকে ৩ ঘন্টায় কোলকাতা থেকে পন্য নিয়ে আসা যায় এই বন্দরে।

স্থল বন্দর বেনাপোল এর ওয়্যারহাউজের ভিতর সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায় রাস্তাঘাট ও পন্যগারের বেহাল দশা। যেখানে ৩৬ হাজার মেট্রিক টন পন্য রাখা যায় সেখানে চাপাচাপি করে রাখতে হচ্ছে ১ লাখ টন এর উপরে। জায়গা সংকটের কারনে অপরিকল্পিত ভাবে রয়েছে পন্য। রেল লাইনের খাদে পড়ে রয়েছে আমদানিকৃত পন্য। ওয়্যারহাউজের ভিতর সামান্য পানি হলে হাটু পানি হয়ে দাঁড়ায়। কাদায় হাটা চলা যায় না। সব মিলিয়ে একটি হজবরল অবস্থা। রাতদিন বন্দর এলাকায় পন্যজট লেগে থাকে। যারফলে রাস্তায় সারাদিন যানযটের কারনে মানুষ চলাচল করতে পারে না। বন্দরে কোন সিসি ক্যামেরা না থাকায় চুরির প্রবনতা বৃদ্ধি পেয়েছে। যার ফলে আনসার সদস্য পর্যান্ত দুস্কৃতকারিদের আঘাতে নিহত হয়েছেন। এরপরও বন্দর কর্তৃপক্ষ কোন ব্যাবস্থা না নেওয়ায় জনমনে নানান প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

বেনাপোল বন্দরে জনবল সংকটের কারনে বহিরাগত দৌরাত্তা বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রতিটি শেডে দেখা যায় ষ্টোর কিপাররা একজন দুইজন করে লোক রেখে দিয়েছে তাদের কাজের সুবিধার জন্য। আর এতে করে চুরি বৃদ্ধি পাচ্ছে। বন্দরের সামনে একাধিক দোকান গড়ে উঠেছে সেখানে বন্দরের আমদানিকৃত পন্য কিনতে পাওয়া যায়। নানা ধরনের অব্যবস্থাপনার কারনে ব্যবসায়িদের লোকসান গুনতে হচ্ছে। ইতিমধ্যে অনেকে এ বন্দর ছেড়ে অন্য বন্দরে চলে গেছে। যার ফলে বেনাপোল কাষ্টমস হাউজ পর পর ৪ বছর তাদের লক্ষমাত্রা পুরুন করতে পারছে না।
অপরদিকে বেনাপোল বন্দরের উপরে ভারতের পেট্রোপোল বন্দরে বানিজ্য সম্প্রসারনের জন্য অত্যাধুনিক সিসি ক্যামেরা পুরা ওয়্যারহাউজ জুড়ে রয়েছে শীতাতাপ নিয়ন্ত্রিত।

এখানে নিচ্ছিদ্র প্রহরায় রয়েছে সীমান্ত রক্ষী বাহিনি বিএসএফ। রয়েছে চোরাচালান প্রতিরোধে সিসি ক্যামেরার পাশাপাশি অত্যাধুনিক স্কানিং মেশিন। এ সমস্থ কোন কিছুর বালাই নেই বেনাপোল বন্দর এলাকায়।

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 61 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ