বেনাপোলে মাদক ব্যবসায়িরা আবার ও সক্রিয় হয়ে উঠেছে

Print

মোঃরাসেল ইসলাম,বিশেষ প্রতিনিধি
বেনাপোল পোর্ট থানার বিভিন্ন পয়েন্টে মাদক ব্যবসায়িরা আবার সক্রিয় হয়ে উঠেছে আর মাদক সেবনের পরে ঝুকে পড়েছে এলাকার উঠতি বয়সের যুবক সহ বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের নেতা কর্মীরা।
সম্প্রতি মাদক সরকারের পুলিশ বিভাগ থেকে একেবারেই নির্মুল করার জন্য ১০০ দিনের একটি কর্মসুচি দিয়ে বিভিন্ন জায়গায় সভা সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এ ছাড়া শার্শা বেনাপোল থেকে বাস ভর্তি করে সহ¯্রাধিক মাদক ব্যবসায়িদের যশোরে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীর কাছে বিশাল এক সেমিনারে আতসমার্পন করান প্রশাসনের লোকজন। কিন্তু মাত্র কয়েকদিন এরা এলাকায় এসে চুপচাপ থেকে আবার ও সক্রিয় হয়ে উঠেছে।
মাদক ব্যবসা সহ একাধিক মামলার আসামি বেনাপোল পোর্ট থানার ভবারবেড় গ্রামের সেলিম সম্প্রতি তার ব্যাবসায়িক পার্টনারের সাথে গোলযোগে বন্দুকযুদ্ধে মারা যায়। সেলিমের পরিবারকে বেনাপোলে মাদক সম্রাট পরিবার বলে সবাই জানে। সেই সেলিমের স্ত্রী আছমা খাতুন আবার ও এলাকায় মদ, গাজা, হেরোইন, ইযাবা সহ বিভিন্ন নেশাজাতিয় দ্রব্য বিক্রির কাজে তৎপর রয়েছে বলে এলাকার এক ছাত্রলীগ নেতার অভিযোগ।
এ ছাড়া বেনাপোলের মাদক ব্যাবসার স্বর্গরাজ্য ভবারবেড় ব্লাক পাড়া। সেখানকার কিছু মহিলা- পুরুষ এ পেশার সাথে যুগ যুগ ধরে যুক্ত। তারা যশোর থেকে আতœসমার্পন করে এসে কিছুদিন থমকে থাকলে ও আবার পুরাতন এ ঐতিহ্যর পেশায় নিয়োজিত হয়েছে।
বেনাপোল চেকপোষ্ট ইমিগ্রেশন সহ হাতের কাছে আশে পাশে বিভিন্ন জাতীয় মাদক পাওয়ায় ঝুকে পড়েছে স্কুল কলেজ গামি ছেলেরা। অনেকে মাদক সেবনকে বিলাশিতা বলে সেবন করে থাকে বলে জানা গেছে।
যশোর জেলা ছাত্রলীগের সহ- সভাপতি ও শার্শা উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারন সম্পাদক আকুল হোসাইন বলেন আজ মাদক বেনাপোল শার্শা দিয়ে এমন ভাবে ছড়িয়ে পড়েছে যে, অনেক ছাত্র সংগঠনের নেতা কর্র্মীরা এটা সেবন করতে দ্বিধাবোধ করছে না। তিনি বলেন সত্যি আমি খুব উদ্দিগ্ন , আজ যুবসমাজের অবক্ষয় মাদক যে ভাবে ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়েছে তাতে সমাজটা আস্তে আস্তে ধ্সং হতে চলেছে। আর যারা মাদক বিক্রি করছে তারা ও কোন না কোন নেতার সাথে সম্পৃক্ত রয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
এলাকার একটি সুত্র জানায় দিঘিরপাড় এলাকার সুফিয়া সাহিদা ভবারবেড় গ্রামের পারুল, পারভিন এ পেশা থেকে বের হয়ে আসতে পারছে না। তারা আতœসমার্পনের পর থেকে এখন নতুন কৌশলে মাদক ব্যাবসা করছে। এরা ঘরের পাশে কোন গাছের নিচে মাদক রেখে আসছে আর ক্রেতাদের নিকট থেকে টাকা নিয়ে বলে দেয় ওখানে রাখা আছে নিয়ে যাও। নিজের গাঁ বাচানোর জন্য প্রশাসনের লোকের হাতে ধরা পড়ার ভয়ে এ কৌশল অবলম্বন করছে বলে একাধিক অভিযোগ রয়েছে মাদক ব্যাবসায়িদের বিরুদ্ধে।
এ ব্যাবারে বেনাপোল পোর্ট থানার এসআই আশরাফুল আলমের সাথে আলাপ করলে তিনি বলেন কোন মাদক ব্যাবসায়ি এবং মাদক ব্যাবসায়িদের গডফাদারের সাথে আপোস নাই। যেখানে মাদক সেখানে সাথে সাথে অভিযান। তিনি পুিলশকে মাদক ব্যাবসায়িদের তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করার জন্য পরমর্শ দেন।
এলাকার একটি সুত্র জানায় বেনাপোল পোর্ট থানার পুটখালি দৌলতপুর সীমান্ত দিয়ে উঠে ফেনসিডিল সাদিপুর সীমান্ত দিয়ে ভারত থেকে আসে হেরোইম মদ ও ঘিবা সীমান্ত দিয়ে আসে শত শত কেজি গাজার বস্তা।
এ ব্যাপারে বেনাপোল পোর্ট থানার পুটখালি সীমান্ত ক্যাম্পের নায়েক সুবেদার হরে কৃষ্ণ জানান, মনে হয় বাংলাদেশে ফেনসিডিলের চাহিদা বেশী এত কড়কড়ি ভাবে সীমান্তে বিজিবি প্রহরা সত্বে ও চোরাকারবারিা ভারত থেকে মাদকদ্রব্য নিয়ে আসছে। আমরা ও ধরছি। তবে মাদক ব্যবসায়িরা থেকে যাচ্ছে ধরা ছোয়ার বাইরে। তিনি আরো বলেন তবে আগের থেকে অনেক কম হয়েছে। আমরা চেষ্টা করে যাচ্ছি মাদক সম্পুর্ন রুপে নির্মুল করার জন্য।

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 128 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ