বেনাপোল দিয়ে যাচ্ছে স্বর্ণ-ডলার, আসছে মাদক!

Print

বেনাপোলের বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে ভারতে পাচার হচ্ছে কোটি কোটি টাকার স্বর্ণ ও ডলার। আন্তর্জাতিক সোনা চোরাকারবারিরা বেনাপোলকেই ব্যবহার করছে নিরাপদ রুট হিসেবে। ভারতে পাচার হওয়া সোনা ও ডলারের বিনিময়ে আসছে হেরোইন, ফেনসিডিল আর গাঁজা। বিজিবি ও পুলিশের হাতে প্রায়ই সোনা, ডলার ও মাদকসহ চোরাকারবারিরা আটক হলেও থেমে নেই তাদের অবৈধ ব্যবসা। প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে অবাধে চলছে এসব ব্যবসা।
অধিক মুনাফা ও দেহে ফিটিং করে নিরাপদে এসব পণ্য এপার-ওপার করা সহজ বলে ক্রমেই এ ব্যবসার সাথে জড়িয়ে পড়ছে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। প্রশাসনের হাতে ধরা পড়ার পর এসব চোরাকারবারির আসল রূপ বেরিয়ে পড়ছে। ইতিমধ্যে সোনার বারসহ বিজিবি হাতে ধরা পড়েছে একজন গ্রাম্য ডাক্তার, কাপড় ব্যবসায়ী এবং সমাজের কিছু বিশিষ্ট ব্যক্তিও।

বেনাপোলসহ শার্শা উপজেলার প্রতিটি সীমান্তে কমবেশি চোরাচালান হলেও এখন চোরাকারবারিদের নিরাপদ রুট হিসেবে বেনাপোল, দৌলতপুর, পুটখালি, সাদীপুর এবং গাতিপাড়া সীমান্তকেই ব্যবহার করছে। গত কয়েক মাসে এসব সীমান্ত থেকে বিপুল পরিমাণ সোনার বার ও ডলার আটক হয়েছে।
বিজিবি সূত্র জানায়, ২০১৬ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর ভারতে পাচারের সময় বেনাপোলের শিকড়ি বটতলা এলাকা থেকে দেড় কেজি ওজনের ১২টি সোনার বারসহ আসানুর রহমান নামে এক চোরাকারবারিকে আটক করে বিজিবি। তিনি বেনাপোলের দৌলতপুর গ্রামের নুর ইসলামের ছেলে। ২০১৬ সালের ৩ ডিসেম্বর বেনাপোল সীমান্তবর্তী সাদিপুর গ্রাম থেকে দেড় কোটি টাকা মূল্যের এক কেজি ৫০০ গ্রাম হেরোইনসহ দুই মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করে গোয়েন্দা পুলিশ। আটক মাদক ব্যবসায়ীরা হলেন বেনাপোলের সাদিপুর গ্রামের সোবহান গাজীর ছেলে হাবিবুর রহমান ও মোহাম্মদ আলী বিশ্বাসের ছেলে শওকত আলী।

২০১৭ সালের ২ জানুয়ারি বেনাপোলের পুটখালী সীমান্ত থেকে ভারতে পাচারের সময় জব্দ করা হয়েছে হুন্ডির ১০ লাখ ভারতীয় রুপি। এ সময় পাচারকারী পালিয়ে যায়। ৬ জানুয়ারি শার্শার শিকারপুর সীমান্ত থেকে ৩০০ বোতল ফেনসিডিলসহ তিন মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করে বিজিবি। আটকদের মধ্যে মফিজুর রহমান নামে একজন ইউপি সদস্য এবং জাকির ও মজিবর নামে দুই ভারতীয় নাগরিক রয়েছেন।
বেনাপোলের রঘুনাথপুর সীমান্ত থেকে ১১ জানুয়ারি জব্দ করা হয়েছে চার মণ গাঁজা যা ভারত থেকে পাচার করে আনা হয় চোরাই পথে।
গত ১৩ ফেব্রুয়ারি বেনাপোলের গাতিপাড়া সীমান্ত ভারতে পাচারকালে এক কেজি ৮০০ গ্রাম (১৪ পিস) স্বর্ণসহ কাপড় ব্যবসায়ী বজলুর রহমানকে আটক করে বিজিবি। আটক বজলুর রহমান বেনাপোল বড়আচড়া গ্রামের নেসার আলীর ছেলে।
গত ৩ মার্চ বেনাপোলের দৌলতপুর সীমান্ত থেকে দুই কেজি ৩০০ গ্রাম (২০ পিস) সোনার বারসহ টিটু বিশ্বাস নামে এক সোনা চোরাকারবারিকে আটক করে বিজিবি। আটক টিটু বিশ্বাস বেনাপোলের গাতিপাড়া গ্রামের মৃত আলাউদ্দিন বিশ্বাসের ছেলে। তিনি পেশায় একজন পশু চিকিৎসক। একই দিনে ৩ মার্চ পুটখালি সীমান্ত থেকে ভারতে পাচারের সময় মালিকবিহীন অবস্থায় উদ্ধার করা হয় হুন্ডির ২৯ হাজার ৩০০ মার্কিন ডলার।

এদিকে সোনা পাচারকারীদের যেসব সদস্য ধরা পড়ছেন তারা বলছেন ‘আমরা বাহক মাত্র। কিছু অর্থের বিনিময়ে এসব সোনা একটি নির্দিষ্ট স্থানে পৌঁছে দেয়াই আমাদের কাজ।’তবে তাদের কাছে সোনার বারগুলো কে দিয়েছে এমন তথ্য দিতে নারাজ পাচারকারীরা। পুলিশের রিমান্ডে বেশি জোর করলে নাম বলেন ভারতীয় কোনো নাগরিকের, থাকে না কোনো সঠিক ঠিকানা। পরে প্রকৃত সোনার মালিকেরা এসব আসামিকে নেপথ্যে থেকে উচ্চ আদালত থেকে জামিন করান। আটক আসামিরা জেল থেকে ছাড়া পেয়ে পুনরায় এ ব্যবসার সাথে জড়িয়ে পড়েন।
২১ বিজিবির ব্যাটালিয়ন কমান্ডার লে, কর্নেল মো. আরিফুর রহমান বলেন, স্বর্ণ ও ডলার ব্যবসায় অধিক লাভ হওয়ায় নতুন করে অনেকেই এ ব্যবসায় ঝুঁকে পড়ছে। যারা ধরা পড়ছে তারা জামিনে এসে আবার শুরু করছে এই ব্যবসা। যারা ধরা পড়ছে তো পড়ছেই, বাকিরা প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে পাচার কাজ অব্যাহত রেখেছে।
বিজিবি কর্মকর্তা বলেন, বাইরের দেশ থেকে স্বর্ণ আমদানি করলে ভারতে ট্যাক্স অনেক বেশি তাই চোরাইপথেই সোনা পাচার হয় ভারতে। তাছাড়া বেনাপোল থেকে কলকাতার দূরত্ব মাত্র ৮০ কিলোমিটার হওয়ায় বেনাপোলই স্বর্ণ পাচারের জন্য চোরাচালানিদের প্রথম পছন্দ। আর হুন্ডির মাধ্যমে যেসব বৈদেশিক মুদ্রা পাচার হচ্ছে এর সবই গরু ও মাদক বিক্রির টাকা।

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 58 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ