বেশি দামে কেনা হচ্ছে কম ক্ষমতার ইঞ্জিন

Print

এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) ঋণে প্রতি এক্সেলে ২২ দশমিক ৫ টন ভার বহনের ক্ষমতাসম্পন্ন ২৫টি ব্রডগেজ লোকোমোটিভ (ইঞ্জিন) কেনার পরিকল্পনা করেছিল রেলওয়ে। প্রতিটি ইঞ্জিনের দাম ধরা হয়েছিল ৩১ কোটি ৭৮ লাখ টাকা। পরে প্রকল্প সংশোধন করে ৩০টি ইঞ্জিন কেনার পরিকল্পনা নেওয়া হয়। নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রতি এক্সেলে ১৮ দশমিক ৫ টন ভারবাহী (এক্সেল লোড) প্রতিটি ইঞ্জিন ৩৫ কোটি ৫৬ লাখ টাকায় কেনা হবে। এ হিসাবে ভার বহন ক্ষমতা কমলেও ইঞ্জিনপ্রতি দাম বাড়ছে তিন কোটি ৭৮ লাখ টাকা। শুল্কসহ দাম পড়বে প্রায় ৪৮ কোটি ৩০ লাখ টাকা।
চলতি মাসের শুরুতে প্রকল্পের পরীক্ষণ কমিটির সভায় ব্যয় বৃদ্ধির বিষয়ে প্রশ্ন তোলে রেল মন্ত্রণালয়। রেলওয়ের মহাপরিচালক আমজাদ হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ওই সভায় প্রকল্পের ব্যয় প্রাক্কলন যৌক্তিকভাবে নির্ধারণের সিদ্ধান্ত হয়। সভায় বলা হয়, রেলের বহরে থাকা ১৮ দশমিক ৫ টন এক্সেল লোডের তিন হাজার অশ্বশক্তির ইঞ্জিনগুলো অতিরিক্ত ভার বহনে সক্ষম নয়। প্রায়ই ইঞ্জিন গরম হয়ে যায়। তাই এবার আরও বেশি অশ্বশক্তির ইঞ্জিন সংগ্রহের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। থাকছে কিছু ‘আপগ্রেড ফিচার’ও, যাতে তেল সাশ্রয় হবে। চাকার ক্ষয় কমবে। এসব যুক্তিতেই দাম বাড়ানো হচ্ছে।

অশ্বশক্তি বৃদ্ধি ও ‘আপগ্রেড’ ফিচারের কথা বলা হলেও, ভার বহন ক্ষমতা আগের মতোই থাকছে। ১৯ দশমিক ৫ টন এক্সেল লোডের ইঞ্জিন কেনার বিষয়টি আলোচিত হলেও বিদ্যমান রেললাইনের জন্য তা উপযোগী নয়_ এ যুক্তিতে ১৮ দশমিক ৫ টন এক্সেল লোডের ইঞ্জিন কেনার পরিকল্পনা নেওয়া হয়। রেল সূত্রে জানা
গেছে, ইঞ্জিন সংকট মেটাতে গত বছর ‘বাংলাদেশ রেলওয়ের জন্য ২৫টি ব্রডগেজ ডিজেল লোকোমেটিভ সংগ্রহ’ প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। ২২ দশমিক ৫ টন এক্সেল লোডের এসব ইঞ্জিন কিনতে ব্যয় ধরা হয় এক হাজার ৭২ কোটি ৪৫ লাখ ৮৪ হাজার টাকা। এ জন্য ৮৪৫ কোটি ৩১ লাখ ২০ হাজার টাকা ঋণ চাওয়া হয়েছিল এডিবির কাছে। বাকি টাকা জোগান দেবে সরকার।
তবে গত জানুয়ারিতে প্রকল্প পরীক্ষণ সভার পর প্রধান যন্ত্র প্রকৌশলী ৩০টি ইঞ্জিন সংগ্রহের জন্য উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবনা (ডিপিপি) প্রেরণ করেন। চলতি মাসে অনুষ্ঠিত প্রকল্প পরীক্ষণ সভায় জানানো হয়, ভবিষ্যৎ চাহিদা ও এডিবির ঋণের পরিমাণ বিবেচনা করে বাড়তি
পাঁচটি ইঞ্জিন কিনতে ডিপিপি প্রণয়ন করা হয়েছে। এডিবির পরামর্শকও এতে অনাপত্তি জানিয়েছে। ৩০টি ইঞ্জিন কিনতে প্রকল্পটির ব্যয় ধরা হয়েছে এক হাজার ৪৪৮ কোটি ৮৮ লাখ টাকা। যা আগের চেয়ে ১৩৫ কোটি টাকা বেশি। প্রকল্প ব্যয় মেটাতে এক হাজার ১৪২ কোটি ৫৪ লাখ টাকা ঋণ চাওয়া হবে এডিবির কাছে।
প্রকল্পের আওতায় ইঞ্জিনের জন্য যন্ত্রাংশ কেনার ব্যয়ও বেড়েছে। ২৫টি ইঞ্জিন কেনার প্রকল্পে যন্ত্রাংশ খাতে সাড়ে ১১ কোটি টাকা ব্যয়ের পরিকল্পনা ছিল। সংশোধিত ডিপিডি অনুযায়ী, যন্ত্রাংশ কেনা বাবদ ব্যয় হবে ২৫ কোটি টাকা। সব মিলিয়ে ইঞ্জিনপ্রতি ব্যয় হবে ৩৫ কোটি ৫৬ লাখ টাকা। শুল্কসহ দাম পড়বে প্রায় ৪৮ কোটি ৩০ লাখ টাকা। আগের পরিকল্পনা অনুযায়ী, শুল্কসহ দাম পড়ার কথা ছিল ৪২ কোটি ৮৯ লাখ টাকা। এ হিসাবে ইঞ্জিনপ্রতি দাম বাড়ছে ৫ কোটি ৪১ লাখ টাকা।
দাম নির্ধারণে প্রতি বছর ৮ শতাংশ মুদ্রাস্ফীতি ধরা হয়েছে। আগের পরিকল্পনা অনুযায়ী, মুদ্রাস্ফীতি ধরা হয়েছিল ৫ শতাংশ। ২০১২ সালে ভারতীয় ঋণের শর্ত অনুযায়ী দেশটি থেকে ২৬টি ব্রডগেজ ইঞ্জিন কেনা হয়। ১৮ দশমিক ৫ টন এক্সেল লোড এবং তিন হাজার ১০০ অশ্বশক্তির এসব ইঞ্জিনের প্রতিটির দাম পড়েছিল ২৪ কোটি টাকা করে। বছরে ৮ শতাংশ মুদ্রাস্ফীতি ধরে এবার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৩৫ কোটি ৫৬ লাখ টাকা। এবার তিন হাজার ২০০ থেকে তিন হাজার ৩০০ অশ্বশক্তির ইঞ্জিন কেনা হচ্ছে। এ যুক্তিতে ইঞ্জিনের দাম আগেরগুলোর চেয়ে আরও ৫ শতাংশ বেশি ধরা হয়েছে।
তবে বছরে ৮ শতাংশ মুদ্রাস্ফীতির হিসাবে আপত্তি জানিয়েছেন রেলওয়ে মহাপরিচালক। তিনি পরিসংখ্যান ব্যুরোর হিসাব অনুযায়ী মুদ্রাস্ফীতি নির্ধারণ করে ডিপিপি পুনর্গঠন করতে বলেছেন। এ বিষয়ে জানতে চাইলে রেলমন্ত্রী মুজিবুল হক বলেন, প্রতিটি ইঞ্জিন ও বগি স্বচ্ছতার সঙ্গে কেনা হয়েছে। ক্রয় সংক্রান্ত সব আইন ও নিয়ম অনুসরণ করেই ইঞ্জিন কেনা হবে।

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 208 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ