বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে চালু হচ্ছে অভিন্ন কারিকুলাম

Print

ইউজিসি চেয়ারম্যান প্রফেসর আবদুল মান্নান বলেন, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সিলেবাস নিয়ে রয়েছে নানা বিতর্ক। বিশেষ করে বিজ্ঞান, ইঞ্জিনিয়ারিং ও অর্থনীতিসহ বিভিন্ন বিষয়ের সিলেবাসে অনেক পরিবর্তন জরুরি। এসব বিষয়কে গুরুত্ব দিয়ে যুগোপযোগী শিক্ষাব্যবস্থা চালু করার চেষ্টায় কাজ শুরু করেছি। এগুলো বাস্তবায়নে সব বিশ্ববিদ্যালয়কে চিঠি দিয়ে জানানো হবে।

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে আসছে বড় ধরনের পরিবর্তন। নতুনভাবে সিলেবাস প্রণয়ন, সেমিস্টারের ক্রেডিট কমানো, বিজ্ঞান ও ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ে নতুন কারিকুলাম সংযোজন, অভিন্ন গ্রেডিং অনুসরণসহ বিষয়ভিত্তিক পাঠে মৌলিক বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হবে। এসব পরিবর্তনে চলতি সপ্তাহে বিশ্ববিদ্যালয় গুলোকে চিঠি দেবে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)।

সূত্র জানায়, সারাদেশে ৯৬টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে হাতেগোনা কয়েকটি ছাড়া অধিকাংশ বিশ্ববিদ্যালয় ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। সেখানে গতানুগতিক সিলেবাস দিয়ে কোর্স শেষ করা হচ্ছে। অনেক প্রতিষ্ঠান নিজেদের ইচ্ছামতো সিলেবাস প্রণয়ন করছে।

ভিন্ন ভিন্ন পদ্ধতিতে উত্তরপত্র মূল্যায়ন ও গ্রেডিং দেয়া হচ্ছে। যে কারণে এক বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রেডিং পদ্ধতিতে বড় ব্যবধান হয়ে যাচ্ছে। বিশেষায়িত বিষয় গুলোর ওপর ডিগ্রি দিলেও ডিগ্রিধারীরা বিশেষ জ্ঞানার্জন ছাড়াই সনদ নিয়ে বেকার হয়ে পড়ছে।

এসব কারণে অনুমোদিত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোও প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়ছে। ফলে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ওপর মানুষের আস্থা কমে যাচ্ছে। অন্যদিকে উচ্চশিক্ষার মান বাড়ানো সম্ভব হচ্ছে না। এ কারণে উচ্চশিক্ষার মান বাড়াতে এসব উদ্যোগ নেয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

সূত্র জানায়, এসব পরিবর্তনে ইউজিসির সদস্যদের সমন্বয়ে দেশের বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্যেষ্ঠ শিক্ষক ও শিক্ষাবিদদের নিয়ে গত চার মাসে চারটি কমিটি তৈরি করা হয়েছে। কমিটির সদস্যরা কয়েক দফা সভা করে কয়েকটি সুপারিশ তৈরি করেছেন।

সুপারিশগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো- সব বিশ্ববিদ্যালয়ের সিলেবাসে মৌলিক বিষয়ের অভিন্নতা, নির্ধারিত গ্রেডিং অনুসরণ, বিজ্ঞান বিষয়ের বিভিন্ন কোর্সে সময় কমিয়ে আনা, ক্যামিস্টি, বায়োলজি, ফিজিক্স, ইঞ্জিনিয়ারিং, অর্থনীতি বিষয়গুলোতে গবেষণা ও নতুন সিলেবাস প্রণয়নের নমুনা তৈরি প্রভৃতি। এসব সুপারিশ আগামী সোমবার ইউজিসিতে জমা দেয়ার কথা রয়েছে।

ইউজিসি চেয়ারম্যান বলেন, দীর্ঘদিন থেকেই বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো নিজেদের ইচ্ছামতো চলছে। এ কারণে একটি থেকে অন্যটির মধ্যে নানা বৈষম্য সৃষ্টি হয়েছে। বেসরকারি-সরকারি সব বিশ্ববিদ্যালয়ের মৌলিক বিষয়গুলোর মিল থাকা প্রয়োজন। সবাইকে একটি প্লাটফর্মে আনতে এ উদ্যোগ।

তিনি আরও বলেন, বিজ্ঞানের কিছু বিষয়ে অহেতুক সময়ক্ষেপণ করা হয়। ফলে অনেক মেধাবী শিক্ষার্থীর জীবন থেকে মূল্যবান সময় নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এ কারণে বিজ্ঞানের বিষয়গুলোতে সেমিস্টার কমিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। তবে এটি বাধ্য করে নয়, নিজেদের কল্যাণে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ইউজিসির সুপারিশগুলো অনুসরণ করবে। যারা এসব নির্দেশনা অমান্য করবে, মানের দিক থেকে তারা পিছিয়ে পড়বে।

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 100 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ