বেড়েই চলেছে পীতজ্বরের প্রকোপ, জেনে নিন বিস্তারিত

Print

ইয়োলো ফিভার বা পীতজ্বরের প্রকোপ যেন সাম্প্রতিক সময়ের আতঙ্কে পরিণত হয়েছে। এ রোগে ব্রাজিলে সম্প্রতি নতুন করে শতাধিক মানুষ আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
এক প্রতিবেদনে বিষয়টি জানিয়েছে ফক্স নিউজ।

ব্রাজিলের স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জানিয়েছেন সম্প্রতি তাদের বিভিন্ন শহরে এ রোগটি ছড়িয়ে পড়ার লক্ষণ দেখা গেছে। গতে কয়েক দিনে এ রোগে তিন জনের মৃত্যু হয়েছে। তবে সাম্প্রতিক এ মৃত্যু ছাড়াও কয়েকদিন আগের পরিসংখ্যানে প্রকাশ, গত কয়েক সপ্তাহে পীতজ্বরে অন্ততপক্ষে ৩০ জনের মৃত্যু হয়েছে। এই জ্বরে সম্ভাব্য আক্রান্তের সংখ্যা ১১০-এ গিয়ে দাঁড়িয়েছে বলে দেশটির স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে। দেশটির স্বাস্থ্য বিভাগ বলছে, মিনাস জার্ম প্রদেশে পীতজ্বরে মৃত্যুর এই ঘটনাগুলো ঘটেছে।
পীতজ্বর কী?
পীতজ্বর ভাইরাসজনিত অসুখ। এতে তীব্র জ্বর হয়। সময় মতো যথাযথ চিকিৎসা না হলে এক সপ্তাহেরও কম সময়ের মধ্যে আক্রান্ত ব্যক্তির মৃত্যু হয়। প্রধানত ভাইরাস আক্রান্ত নারী মশার কামড়ের মাধ্যমে এটি মানবদেহে ছড়ায়। পীতজ্বর শুধু মানুষের নয়, বানরদেরও হয়। ফলে রোগটি নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়ে।
এ রোগের লক্ষণ হলো জ্বর, ক্ষুধামন্দা, বমিভাব, মাংসপেশিতে ব্যথা (বিশেষ করে পিঠে), ও মাথাব্যথা। লক্ষণগুলো সাধারণত পাঁচ দিনের মধ্যে সেরে যায়। কারো কারো ক্ষেত্রে লক্ষণগুলো উন্নতি হওয়ার একদিনের মধ্যে পুনরায় জ্বর হতে পারে, পেটব্যথা শুরু হয় ও যকৃৎ ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে জন্ডিস হতে পারে ও শরীর হলুদ হয়ে যায়। এইজন্য এই রোগের নাম পীতজ্বর রাখা হয়েছে।
ভাইরাসবাহিত রোগ
যে ভাইরাসের মাধ্যমে এই রোগ ছড়ায় তা ইয়েলো ফিভার ভাইরাস নামে পরিচিত। এডিস এজিপটি প্রজাতির মশা এই ভাইরাসের বাহক। প্রাথমিক অবস্থায় অন্যান্য রোগ থেকে এটাকে পৃথক করা কঠিন। এই ভাইরাসের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে রক্ত নমুনা নিয়ে পলিমারেজ চেইন রিয়াকশন নামে পরীক্ষা করতে হয়।
প্রতিরোধ করবেন কিভাবে?
এই রোগ প্রতিরোধের জন্য কার্যকর ও নিরাপদ টিকা রয়েছে। টিকার পাশাপাশি বাহক মশা নিয়ন্ত্রণ অত্যন্ত জরুরি। যেসব এলাকায় পীতজ্বর হয় কিন্তু টিকার ব্যবস্থা নাই সেখানে মহামারী ঠেকানোর জন্য প্রাথমিক অবস্থায় রোগ নির্ণয় ও টিকাদানের ব্যবস্থা করা প্রয়োজন।
কার্যকর ওষুধ নেই
এ জ্বরের উপসর্গ অনুযায়ী চিকিৎসা প্রদান করতে হয়, সুনির্দিষ্ট কার্যকর কোনো ওষুধ নেই। আর এ কারণে রোগটি খুবই বিপজ্জনক হয়ে ওঠে প্রায়ই। প্রতিবছর দুই লক্ষ লোক পীতজ্বরে আক্রান্ত হয় ও প্রায় ত্রিশ হাজার মৃত্যুবরণ করে। এ রোগে আক্রান্ত প্রায় নব্বই শতাংশ রোগীই আফ্রিকার। এছাড়া দক্ষিণ আমেরিকা ও আফ্রিকার গ্রীষ্মমণ্ডলীয় এলাকায় এই রোগের প্রাদুর্ভাব অনেক বেশি।
১৯৮০ সাল থেকে পীতজ্বর রোগীর সংখ্যা ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে। সম্প্রতি এ রোগের প্রকোপ বৃদ্ধি পাচ্ছে, যে জন্য জলবায়ুর পরিবর্তন, লোকজনের অধিক ভ্রমণ, শহরে বসবাসের প্রবণতা ও পর্যাপ্ত টিকার ব্যবস্থা না থাকাকে দায়ী করা হয়।

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 130 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ