ব্যাগপ্যাক নিয়ে তরুণরা ভারত ভ্রমণে যাক

Print

বাতাসিয়া লুপ/ফাইল ছবি
বাতাসিয়া লুপ/ফাইল ছবি

ঢাকা: প্রায় ১৬ কোটি জনসংখ্যার বাংলাদেশে ৬৫ থেকে ৭০ শতাংশ তরুণ। বয়স চল্লিশের নিচের হিসাবটা ৪০ শতাংশের কাছাকাছি। এটি নিছক সংখ্যার হিসাব নয়, এর সিংহভাগই ভ্রমণপ্রিয়।

এর প্রমাণ মেলে বিশেষ সূত্রে পাওয়া কয়েকটি তথ্য থেকে, বাংলাদেশে ভারতীয় হাইকমিশন প্রতিদিন প্রায় ছয় হাজার ভিসা দিচ্ছে। বছরের হিসাবে ২১ লাখ ৯০ হাজার। এর ৮০ শতাংশই ট্যুরিস্ট ভিসা এবং আবেদনকারী বয়স ২০ থেকে ৩৫ এর মধ্যে।

প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও বৈচিত্র্যের জায়গা থেকে প্রতিবেশী দেশ ভারতকে বলা যায়, ‘রিপ্রেজেন্টেটিভ অব ওয়ার্ল্ড’। একই সঙ্গে দেশটিতে মিলছে- পাহাড়, নদী, সমুদ্র, সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য, মরুভূমি, বন, জীববৈচিত্র্য, প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন, ঐতিহাসিক জায়গা প্রভৃতি। পাশ্ববর্তী দেশ হওয়ায় ভাষা, খাবার, পোশাক ও সংস্কৃতির অনেকটা মিল হয়েছে বাড়তি পাওয়া। আর ঐতিহাসিক নৈকট্য তো রয়েছেই।

সেইসঙ্গে সোনায় সোহাগা হয়েছে প্রযুক্তিয়ায়ন। ইন্টারনেট আর স্মার্টফোনের বদৌলতে ‘হাতের মুঠোয় বিশ্ব’ ইতোমধ্যেই বাস্তবে রূপ পেয়ে গেছে। এর সবচেয়ে সুবিধা নিচ্ছেন তরুণরা।

তারা স্মার্টফোনেই সব কাজ সারছেন। প্লেন-বাস-ট্রেনের টিকিট কাটা, হোটেল বুকিং, কোথায় থাকবে, কোথায় খাবে ইত্যাদি সব আগেই পরিকল্পনা করে বেরিয়ে পড়ছে। কম সময়ের মধ্যে বেড়ানোর জন্য তারা ভারতকে বেছে নিচ্ছে অপেক্ষাকৃত বেশি।

তবে একটি দেশে যাওয়ার জন্য সবচেয়ে বড় বাধা ভিসা। ভ্রমণপ্রিয়দের কথা মাথায় রেখে সেটিও ‍সহজতর করছে ভারত। কীভাবে?

দায়িত্বশীল বিশেষ সূত্র জানাচ্ছে, বাংলাদেশের ৬৫ থেকে ৭০ শতাংশ তরুণ প্রজন্মকে কাজে লাগাতে চায় ভারত। ভারতীয় ভিসা একসময় কঠিন থাকলেও, ই-টোকেন সিস্টেম একপ্রকার উঠে যাওয়ায় সহজ হয়ে গেছে। তরুণরা এখন প্রচুর ট্রাভেল করছেন। প্রতিদিন আগে তিন-চার হাজার ভিসা দেওয়া হতো, এখন সেটা বেড়ে হয়েছে ছয় থেকে সাত হাজার। ভারত চায়, তরুণরা ব্যাগপ্যাক নিয়ে ভারত ভ্রমণে বেরিয়ে পড়ুক।

‘দেশের তরুণ সমাজ সামনের দিকে এগিয়ে যেতে চায়, তারা পিছিয়ে যেতে চান না কারণ, তরুণরা উন্নতি চায় উন্নয়ন চান। তিন মাস ও ছয় মাসের ভিসা এখন একবছর থেকে তিন বছর পর্যন্ত মাল্টিপল করে দেওয়া হচ্ছে। ভ্রমণের জন্য আমরা এ প্রক্রিয়া সহজ করেছি। উদ্দেশ্য, দুই দেশের মানুষের সৌহার্দ্য যেনো আরও বাড়ে।’

সূত্র জানায়, রেল টিকিটও এখন বাংলাদেশে বসেই কেনা যাচ্ছে। কাজেই দার্জিলিং, শিলং, শিমলা, মানালি, চেন্নাই, বারানসি, মথুরা ঘোরা এখন তাদের জন্য অনেক সহজ।

ঢাকা থেকে এখন সরাসরি শিলং, আগরতলা, শিলিগুড়ি বাসে যাওয়া যায়। মৈত্রী ট্রেন ও বাস আগে থেকেই রয়েছে। বাংলাবান্ধা-ফুলবাড়ী সীমান্ত থেকে শিলিগুড়ি মাত্র আট কিলোমিটার। এই পথে খুব সহজ ও কম সময়ে দার্জিলিং, কালিম্পং, জলপাইগুড়ি ঘুরে আসা যায়। তরুণরা এই সুযোগগুলো কাজে লাগাতে পারেন বলে সূত্র জানায়।

এছাড়া বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে সৌহার্দ ও সব বিষয়ে আদান-প্রদান বাড়াতে প্রতিবছর একশোজন বাংলাদেশি ইয়ং ডেলিগেটসকে আমন্ত্রণ জানাচ্ছে ভারত। আট দিনের সফরে গিয়ে বিভিন্ন পেশার ডেলিগেটসরা সেদেশের প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন, জাদুঘর, ডিজিটাল জাদুঘর, কারখানা, নামকরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রভৃতি জায়গায় ঘুরে বেড়ানোর সুযোগ পান। আমন্ত্রিত থাকেন রাষ্ট্রপতি ভবনে। একইভাবে ভারত থেকেও প্রতিবছর ইয়ং ডেলিগেটসদের বাংলাদেশ সফরের কথা চলছে।

সূত্রের ভাষ্য, এ সবকিছুর উদ্দেশ্য- পারস্পরিক সৌহার্দ বাড়ানো এবং সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক আদান-প্রদান। আজ যারা তরুণ, তারা ভবিষ্যতে নিজ নিজ পেশায় নেতৃত্ব দিয়ে দেশকে এগিয়ে নেবেন। বাংলাদেশের তরুণরা ভারত ঘুরলে, ভারতের তরুণ প্রজন্মও বাংলাদেশে ঘোরার ব্যাপারে আগ্রহী হবে। এতে দুদেশের সৌহার্দ, সম্প্রীতি ও আদান-প্রদান বাড়বে।

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 139 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ