ভারতের উলঙ্গ মোড়লগিরি থামবে কবে

Print

আরেকবার নিজেদের উলঙ্গ হস্তক্ষেপ দেখালো ভারত। তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজে আগেরটি হারের কারণে জ্বলে পুড়ে মরছিলো তারা। দ্বিতীয় খেলাটাও জিতেই যাচ্ছিলো জো রুটরা।
ইংলিশদের টার্গেট ছিলো ১৪৫ রান। জয়ের কাছাকাছি ইংল্যান্ড। ১৯তম ওভারে জো রুট ইংল্যান্ডের জয়কে প্রায় নিশ্চিতই করে ফেলেছিলেন। বাকি আছে এক ওভার। বুমরাহ শেষ ওভারের প্রথম বলে ফর্মে থাকা জো রুটকে এলবিডাব্লিউ করে আবেদন করেন।

আম্পায়ারের আঙুল তোলার আগেই আঙুল তোলেন অধিনায়ক কোহলি। তার দেখাদেখি আম্পায়ারও আঙুল তুলে আউটের ইঙ্গিত দেন।
ফিরে যাওয়ার আগে জো রুট আম্পায়ার আর কোহলির দিকে বারবার তাকাচ্ছিলেন। আর পারেনি ইংল্যান্ড। বলা যায় জোর করেই হারানো হয়েছে ইংল্যান্ডকে।
টেলিভিশন রিপ্লেতে স্পষ্ট দেখা গিয়েছে, রুটের ব্যাটের কানায় লেগে বল প্যাডে লাগে।
কিন্তু আম্পায়ার শামসুদ্দিন আউট দিয়ে দেন। ম্যাচের ফল নির্ধারণের ক্ষেত্রে এই সিদ্ধান্ত বড় ভূমিকা নিয়েছে।
এক ম্যাচ বাকি থাকতেই সিরিজ জয়ের সুযোগ হারানোর পর স্বভাবতই হতাশ ইংল্যান্ড শিবির। অভিযোগ করতেও দেরি করেননি ইংল্যান্ড দলপতি ইয়ন মর্গ্যান।
মর্গ্যান বলেছেন, ‘ম্যাচ রেফারির মাধ্যমেই আম্পায়ারিং নিয়ে মতামত প্রকাশ করা যায়। পরের ম্যাচের আগে আমাদের সেই সুযোগ আছে। টি-২০ ম্যাচে কেন ডিআরএস নেই, সেটা আমি বুঝতে পারছি না।’
দিন কয়েক আগেও অস্ট্রেলিয়ার ইতিহাস জয়ী সাবেক অধিনায়ক রিকি পন্টিং অভিযোগ করে বলেছিলেন, ভারত নিজেদের সুবিধা মতোই পিচ বানায়। আমি নিশ্চিত দুর্দান্ত ফর্মে থাকা অস্ট্রেলিয়া এবার ভার সফরে গিয়ে কিছুই করতে পারবে না।
শুধু যে ইংল্যান্ডের সাথেই এরকম ঘটনা ঘটেছে তাই নয়। এর আগে বাংলাদেশের সাথেও এমন আচরণ করেছে ভারত।
২০১৫ সালের ক্রিকেট বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে মুখোমুখি বাংলাদেশ ও ভারত। প্রায় হেরে যাওয়া ম্যাচও জিতিয়ে নিয়েছিলো সেদিন ভারত।
ভারতের মোড়লহগিরির আধিপত্য ন্যাক্কারজনক ভাবে প্রকাশ পায় সেদিন।
ভারতের রান তখন ৩ উইকেট হারিয়ে ১৪৭ রান। ক্রিজে মাত্র ১০ রানে জুবু-থুবু সুরেশ রায়নার প্যাডে বল লাগার পর মাশরাফি আবেদন করলেও সুস্পষ্ট এই এলবিডাব্লিউটি দেননি আম্পায়ার।
১৯৬ রানের মাথায় রুবেল ফেরান কোহলিকে। কিন্তু অত্যন্ত পরিস্কার আউটটিকেও আম্পায়ার আলিমদার সেদিন ‘নো বল’ বলে ঘোষণা দেন।
আগের ম্যাচে সেঞ্চুরিয়ান মাহুমুদুল্লাহকেও সেদিন অন্যায় ভাবে ফেরানো হয়েছিলো। মাহমুদুল্লাহর স্পষ্ট ছয় হওয়া বলকে বাউন্ডারির বাইরে লুফে নেন শিখর ধাওয়ান। কিন্তু সেটিকেও আউট দেয়া হয় সেদিন।
সেই ম্যাচটি অত্যন্ত অন্যায়ভাবে এবং পরিকল্পিতভাবেই হারানো হয় বাংলাদেশকে।
এখন পুরো ক্রিকেট বিশ্বেরই প্রশ্ন, ভারতের এই মোড়লগিরি থামবে কবে? নাকি আগামী ২০১৯ বিশ্বকাপও ঠিক একইভাবে হস্তক্ষেপ করে নিজেরা নিজেরা চ্যাম্পিয়ন বনে যাবে?

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 156 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ