ভারতের দালালিটা করে কে, প্রশ্ন প্রধানমন্ত্রীর

Print

ভারতের কাছ থেকে কেউ কিছু আদায় করতে পারলে আওয়ামী লীগ সরকারই করেছে-বলেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, বিএনপি বা অন্য কোনো সরকার ভারতের কাছে দাবি আদায়ের সাহস পায়নি। তারপরও তারা ভারতবিরোধিকার কথা তুলে নানা বক্তব্য দিয়ে আসছে। এই অবস্থায় বাংলাদেশে ভারতের দালালি কারা করে সে বিষয়ে প্রশ্ন তুলেছেন প্রধানমন্ত্রী।
শনিবার রাজধানীতে যুব মহিলা লীগের সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রীর আসন্ন ভারত সফরের আগে সম্ভাব্য নানা চুক্তি ও সমঝোতার বিষয়ে কথা হচ্ছে রাজনৈতিক অঙ্গনে। সরকার ভারতের সঙ্গে নিরাপত্তা চুক্তি করতে যাচ্ছে দাবি করে এ বিষয়ে বিস্তারিত প্রকাশ করার দাবি জানিয়েছে বিএনপি। বলেছে, কোনো চুক্তি হলে এই দেশের মানুষ সেটা মেনে নেবে না।
প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে বিএনপির এই অবস্থান নিয়ে কিছু না বললেও দলটির এর আগে নানা সময় ভারতবিরোধিতা করে দেয়া নানা বক্তব্য এবং তাদের কর্মকাণ্ড নিয়ে কথা বলেন।
শেখ হাসিনা বলেন, ‘আজকে শুনি খুব ভারবিরোধী কথা। আমার প্রশ্ন ২০০১ সালে নির্বাচনের আগে যখন আমেরিকান কোম্পানি আমাদের গ্যাস বিক্রি করতে চাইলো ভারতের কাছে, তখন ভারতের কাছে গ্যাস বিক্রির মুচলেকা দিয়েছিল কে? খালেদা জিয়াই তো দিয়েছিলেন। তিনিই তো ক্ষমতায় এসেছিলেন। আমি তো চেয়েছিলাম, আমার দেশের সম্পদ আগে দেশের মানুষের কাজে লাগবে। আমার ৫০ বছরের রিজার্ভ থাকবে, তারপর ভেবে দেখবো আমরা বিক্রি করবো কি করবো না। ফলাফল কী? যাদের বিরুদ্ধে এত কথা বলে, এখানে যে ‘র’ (ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা) এর প্রতিনিধি, সে তো হাওয়া ভবনে বসেই থাকতো। আমেরিকার অ্যাম্বাসির লোক হাওয়া ভবনেই বসে থাকতো। ২০০১ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগকে হারাতেই তো কার করেছে তারা।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ক্ষমতায় এসে তারা গ্যাস বিক্রি করতে পারেনি, কিন্তু মুচলেকা তো দিয়েছিল। তাদের মুখেই আবার এত ভারতবিরোধী কথা।’
১৯৯১ সালে বিএনিপ ক্ষমতায় আসার পর সে সময়ের প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ভারত সফর নিয়ে কথা বলেন শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ‘৯১ সালে বিএনপি যখন ক্ষমতায় আসলো, তখন তিনি ভারত গেলেন। ভারতে গিয়ে ওনি বেশ ঘুরেটুরে আসলেন। যখন এখানে সাংবাদিকরা জিজ্ঞেস করলেন, গঙ্গার পানি বণ্টন নিয়ে কী হলো, ওনি বলছেন, ‘গঙ্গার পানির কথা? ওহ তো, আমি তো আমি ভুলেই গেছি।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ভারতবিরোধী কথা বলবেন, তার আগে ওনি গঙ্গার পানি আদায় করার জন্য ফারাক্কা পর্যন্ত লং মার্চও করেছিলেন, আন্দোলনও করেছিলেন। কিন্তু ভারতে গিয়ে গঙ্গার মানির কথা ভুলেই গেলেন। তাহলে দালালিটা করে কে? আওয়ামী লীগ সরকারে আসার পর পরই আমরা কিন্তু গঙ্গা পানির ন্যায্য হিস্যা আদায় করেছি।’
ভারতের সঙ্গে ছিটমহল বিনিময় নিয়েও কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। দুই বছর আগে সীমান্ত চুক্তি বাস্তবায়নের ফলে বাংলাদেশ ভারতের কাছ থেকে ১০ হাজার একরেরও বেশি ভূমি পেয়েছে।
ভারতের সঙ্গে ভূমিবিরোধ মেটাতে বিএনপির কোনো উদ্যোগ না থাকারও সমালোচনা করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘আমাদের ল্যান্ড বাউন্ডারির বিষয়ে জাতির পিতা ইন্দিরা গান্ধীর সঙ্গে চুক্তি করে রেখে যান, আইন পাস করে রেখে যান, কই বিএনপি, জিয়াউর রহমান, এরশাদ, খালেদা জিয়া-যারা ২১ বছর ক্ষমতায় ছিল তারা তো এক বারের জন্যই আমাদের সীমানার দাবিও করেননি। সীমানা নির্দিষ্ট করার সাহসও পায়নি আমি বলবো। সে কথা উচ্চারণও করেনি।’
ভারত ও মিয়ানমারের সঙ্গে সমুদ্র সীমা নিয়ে বিরোধ মীসাংসা নিয়েও কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। আন্তর্জাতিক আদালতে মামলার পর আওয়ামী লীগের গত আমলে বাংলাদেশের সমুদ্র সীমা নির্দিষ্ট হয়। মিয়ানমারের সঙ্গে মামলা জেতার পর বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সরকারকে অভিনন্দনও জানিয়েছিলেন। যদিও পরে সে অবস্থান থেকে পিছিয়ে এসে পরে তিনি তা ফিরিয়ে নেন।
ভারতের সঙ্গে মামলাও বাংলাদেশের জয় হয়েছে বলে দাবি করেছে সরকার। সমুদ্র বিশেষজ্ঞদের একটি বড় অংশও তাই মনে করেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জিয়া, এরশাদ, খালেদা জিয়া-কোনো সরকার কখনও এই ভারত ও মিয়ানমারের সঙ্গে সমুদ্র সীমা নিয়ে কোনো আলোচনা, কোনো মামলা বা কোনো পদক্ষেপ নিয়েছে? নেয়নি। কেন নেয়নি? তারা যদি এতই দেশপ্রেমিক হবে, তাহলে দেশের এই সমস্যার কথা তোলেনি কেন?’।
বিএনপির ভারতবিরোধিতা যে অহেতুক এবং রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের উদ্দেশ্যে সেটার প্রমাণ দিতে পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির উদাহরণ টানেন প্রধানমন্ত্রী। ১৯৯৭ সালে আওয়ামী লীগ সরকার পার্বত্য এলাকায় শ্বায়ত্বশাসনের দাবিতে সশস্ত্র সংগ্রামে থাকা পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির সঙ্গে চুক্তি করে। বিএনপি সে সময় এই চুক্তির তীব্র বিরোধিতা করে দেশে হরতাল ও লংমার্চ করেছিল। তাদের অভিযোগ ছিল, এই চুক্তি হলে বাংলাদেশের একটি বড় অংশ ভারতে চলে যাবে।
প্রধানমন্ত্রী বলে, ‘ভারতে ৬৪ হাজার শরণার্থী ছিল পার্বত্য চট্টগ্রামের। আমি ক্ষমতায় গিয়ে এই শরণার্থীদেরকে ফিরিয়ে আনি। বলা হয়েছিল পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তিচুক্তি হলে ফেনী পর্যন্ত ভারত হয়ে যাবে। আমি প্রশ্ন করলাম, তাহলে তো খালেদা জিয়া ভারতের পার্লামেন্টের মেম্বার হবে বা প্রাদেশিক পরিষদে যেতে হবে তাকে। অথবা পশ্চিমবঙ্গের পার্লামেন্টে যেতে হবে অথবা ত্রিপুরায় যেতে হবে। ওনি বুঝি ত্রিপুরার পার্লামেন্টে যাবেন।’
‘পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তি চুক্তিতেও বাধা’-এমন মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যারা ভারতের কাছ থেকে কিছুই আদায় করতে পারেনি, এথন আবার ভারতের বিরুদ্ধে কথা বলে। আমি একটা কথাই বলবো, এই সমস্ত খেলা বহু তারা লেখেছে। তাদের কাছে দেশপ্রেম নয়, ক্ষমতাটাই তাদের কাছে ভোগের বস্তু।

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 43 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ