ভারতের মেসেজ পার্লারে যৌন দাসী থাই নারীরা

Print

ভারতে ক্রমেই জনপ্রিয় হয়ে উঠা স্পা ও ম্যাসেজ পার্লার ব্যবসায় থাইল্যান্ডের নারীদের চাহিদা উত্তরোত্তর বাড়ছে। তবে প্রতারণা বা পাচারের শিকার হয়ে আসা এসব নারীদের অধিকাংশকেই নিয়োজিত করা হয় যৌন ব্যবসায়।
দেশটির পুলিশ, কূটনীতিক এবং অধিকারকর্মীরা জানান, এ বছর মুম্বাই ও পুনের মতো শহরের ম্যাসেজ পার্লারগুলো থেকে, যেখানে আড়ালে যৌন ব্যবসা হয়, অন্তত ৪০ জন থাই নারী পুলিশের অভিযানে উদ্ধার হন। গত জুলাই মাসে পুনের একটি অভিজাত আবাসিক এলাকার একটি পার্লার থেকে ১০ জন থাই নারীকে উদ্ধার করা হয়।

সেভ দ্য চিল্ড্রেন ইন্ডিয়ার প্রোগ্রাম ডাইরেক্টর জয়তি নাল থমসন গণমাধ্যমকে বলেন, “ভারতে ম্যাসেজ সেবা প্রদানের ক্ষেত্রে থাই নারীদের চাহিদা সবচেয়ে বেশি। উজ্জ্বল, ফর্সা ত্বকের জন্যই তাদের হাই প্রোফাইল বিবেচনা করা হয়।”
পুলিশ ও অধিকার কর্মীরা জানান, দীর্ঘ দিন ধরেই নেপাল ও বাংলাদেশের মতো দেশগুলো থেকে নারীদের পাচার করে যৌন ব্যবসায় নিয়োজিত করা হচ্ছিলো। ভারতীয় এবং বিদেশী পর্যটকদের মধ্যে অন্যান্য দেশের নারীদের প্রতি আগ্রহ বাড়ছে, যেমন থাইল্যান্ড।
“প্রথমবারের মতো আমরা এমন প্রবণতা দেখছি।” বলে জানান পুনের মানব পাচার বিরোধী ইউনিটের প্রধান পুলিশ ইন্সপেক্টর সঞ্জয় পাতিল। পুনেতে জুলাইয়ের সেই অভিযান পরিচালনা করেছিলেন তিনি।
থাইল্যান্ডের এই নারীদের বিষয়ে সঞ্জয় পাতিল বলেন, “তারা খুব বেশি শিক্ষিত নয়, গরীব ঘরের, নিজ দেশে তাদের পরিবার তাদের আয়ের উপর নির্ভরশীল।”
অভিযানের বিষয়ে তিনি বলেন, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে তাদের একজন অফিসার ক্রেতা সেজে সেখানে যান। সেখানে থাই নারীদের দেখেন তিনি, যাদের যৌন সেবা দিতে বিক্রি করা হচ্ছে। এদের বয়স ২৫ থেকে ৪০ এর মধ্যে।
ঘটনার সঙ্গে জড়িত পার্লারের ম্যানেজার ও অন্যান্য কর্মচারীদের আটক করা হয় বলে জানান তিনি।
থাই নারীদের কেউ কেউ ব্যাংকক এবং অন্যান্য শহরে যৌন কর্মী হিসেবেই কাজ করতেন। আরও লোভনীয় আয়ের প্রস্তাব দিয়ে তাদের ভারতে আনা হয়। থাইল্যান্ডে যেখানে তারা দিনে ৩০৫ বাথ (৯ ইউএস ডলার) আয় করতে পারতেন, সেখানে ভারতে দ্বিগুণ আয় করতে পারে তারা।
পাতিল বলেন, উদ্ধারকৃত নারীরা তিন থেকে চার মাস পর্যন্ত এখানে কাজ করে আসছিলো । তাদের কাছে ১ লাখ রুপি পর্যন্ত ছিলো। দেশে ফিরে যাওয়ার অপেক্ষায় ওই নারীদের এখন একটি আশ্রয় শিবিরে রাখা হয়েছে বলে জানান তিনি।
থাইল্যান্ড দূতাবাস নিশ্চিত করেছে, ভারত জুড়ে পার্লারগুলো থেকে ইতিমধ্যে আরও অনেক থাই নারীকে উদ্ধার করা হয়েছে। রাজধানী নয়াদিল্লি, পর্যটন শহর জয়পুর এবং টেক হাব বেঙ্গালুরুর পার্লারগুলো থেকে তাদের উদ্ধার করা হয়।
উদ্ধারকৃতদের দেশে ফিরিয়ে নেয়া হলে তাদের পুনবার্সন ব্যবস্থা এবং দক্ষতা বৃদ্ধিতে প্রশিক্ষণ দেয়া হবে বলেও জানান তিনি।

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 59 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ