ভালো নেই সেই কোরেশী

Print
ভালো নেই সেই  কোরেশী
ভালো নেই ওয়ান-ইলেভেনের সেই আলোচিত রাজনীতিক, মুক্তিযোদ্ধা, সত্তর দশকের পূর্বপাকিস্তান ছাত্রলীগের সভাপতি ড. ফেরদৌস আহমদ কোরেশী। তার ডান হাত ও ডান পা পক্ষাঘাতগ্রস্ত (প্যারালাইজড)।

১৮ মাস ধরে তিনি বিছানায়। উঠবোস করতেও হুইলচেয়ার ব্যবহার করতে হচ্ছে। বিএনপির প্রতিষ্ঠাকালের যুগ্ম-মহাসচিব ড. কোরেশী কথাও তেমন বলতে পারেন না। স্বর আটকে যায়। রাজধানীর সিদ্ধেশ্বরীতে ভাড়া বাসায় বাস করছেন। নিয়মিত ফিজিওথেরাপি নিচ্ছেন। উন্নত চিকিৎসার জন্য দেশের বাইরে নেওয়া প্রয়োজন। কিন্তু অর্থাভাবে তা সম্ভব হচ্ছে না। কিছুদিন আগে গণমাধ্যমের কয়েকজন সম্পাদক ও সিনিয়র সাংবাদিক তার সুচিকিৎসায় সহায়তা কামনা করে প্রধানমন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট সবার উদ্দেশে বিবৃতি দিয়েছিলেন। কিন্তু তাতে এখনো কোনো সাড়া মেলেনি। পারিবারিকভাবে কোনোমতে তার চিকিৎসা ব্যয় মেটানো হচ্ছে। ২০১৫ সালের ২১ অক্টোবর নিজের বাসায় তিনি স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে এ্যাপোলো হসপিটালে ভর্তি হয়েছিলেন। সেখানে প্রায় দুই সপ্তাহ লাইফসাপোর্টে ছিলেন। সামান্য সুস্থ হতেই তাকে বাসায় নিয়ে আসা হয়, এর কারণ গুরুতর আর্থিক সীমাবদ্ধতা। সেই থেকে তিনি শয্যাশায়ী। ওয়ান-ইলেভেনের সময় একটি মহল তার অর্থসম্পদ হঠাৎ বৃদ্ধির মুখরোচক কেচ্ছা প্রচার করে। কিন্তু কার্যত তিনি অর্থনির্লোভ, আদর্শনিষ্ঠ, নিষ্কলুষ এক রাজনীতিক।জানতে চাইলে ড. ফেরদৌস কোরেশীর সহধর্মিণী নিলুফার পান্না কোরেশী গতকাল সন্ধ্যায় বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, স্ট্রোক করার পর থেকে ঘর আর হাসপাতালই তার স্বামীর ঠিকানা। খাওয়া-দাওয়া স্বাভাবিক থাকলেও বিছানায় শুয়ে-বসে দিনাতিপাত করছেন। স্বামীর উন্নত চিকিৎসা জরুরি। কিন্তু তা করা যাচ্ছে না। সিনিয়র সংবাদিকরা এ ব্যাপারে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বিবৃতি দিয়েছিলেন। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী বা অন্য কোনো দফতর থেকে এখনো কোনো সাড়া মেলেনি। এখন কাশিতে ভুগছেন ড. কোরেশী। কদিন আগে চিকুনগুনিয়ায় ভুগেছেন। ডায়াবেটিস ও ব্লাডপ্রেসার তো আছেই। রোজ তাকে ফিজিওথেরাপি নিতে হয়। মাঝে মধ্যে নেওয়া হয় হাসপাতালে। পরিবার জানায়, তার দীর্ঘস্থায়ী চিকিৎসা করানো দরকার। জানা যায়, একদার প্রভাবশালী তুখোড় ছাত্রনেতা ড. কোরেশীর ঢাকায় কোনো সহায় সম্পত্তি নেই। সিদ্ধেশ্বরীতে ভাড়া বাসায় বাস করেন তিনি। হাতিরঝিলে কিছু জমি ছিল। ওটা হাতিরঝিল সুন্দরায়ন প্রকল্পের জন্য অধিগ্রহণ করে নেয় সরকার। এরপর পূর্বাচলে তাকে ১৮ কাঠা জমি দেওয়ার কথা থাকলেও এখনো তা দেওয়া হয়নি। এ নিয়ে উৎকণ্ঠায় রয়েছে পরিবার। রাজধানীর সেগুনবাগিচায় যে ভবনে ‘দেশবাংলা’ অফিস সেই ভবনটির পুরোটাই তার। কিন্তু ওই ভবনটি এখন হাতছাড়া। ফেরদৌস আহমদ কোরেশী ১৯৬১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সহ-সভাপতি নির্বাচিত হন। অসাম্প্রদায়িক জাতীয়তাবাদী চেতনার বিকাশে তার অবদান অসামান্য। ঐতিহাসিক ৬ দফা ও ১১ দফাভিত্তিক ছাত্র ও গণআন্দোলন, ’৬৯-এর গণঅভ্যুত্থানে তার ভূমিকা ছিল অবিস্মরণীয়। মুক্তিযুদ্ধের সময় মুক্তাঞ্চল থেকে তিনি মুক্তিযুদ্ধের মুখপত্র হিসেবে ‘দেশবাংলা’ পত্রিকার প্রকাশনা শুরু করেন। ওই সময় থেকেই তিনি এই পত্রিকার সম্পাদক। প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) গঠন করলে ওই দলের প্রথম যুগ্ম-মহাসচিব করা হয় ড. কোরেশীকে। ২০০৭ সালে তিনি প্রগ্রেসিভ ডেমোক্রেটিক পার্টি (পিডিপি) দল গঠন করেন। এখন পর্যন্ত তিনি দলটির চেয়ারম্যান পদে রয়েছেন। ড. কোরেশীর দল পিডিপির মহাসচিব এম এ হোসেন বলেন, ‘ড. কোরেশীর মতো একজন নীতিনিষ্ঠ রাজনৈতিক নেতার আজ বড়ই অভাব। অথচ অর্থাভাবে তার সুচিকিৎসা করানো সম্ভব হচ্ছে না। আইয়ুববিরোধী আন্দোলনে যে ছাত্রনেতাকে ‘দার্শনিক’ হিসেবে বিশ্বের গণমাধ্যম আখ্যা দিত, ডাকসুর সেই ভিপি ফেরদৌস কোরেশী এখন শয্যাশায়ী। বিদেশে নিয়ে তার সুচিকিৎসার ব্যবস্থা করার জন্য আমি সরকারকে অনুরোধ জানাচ্ছি।

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 266 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ