ভুলে ভরা বাকৃবির বঙ্গবন্ধু স্মৃতি চত্বর

Print

ভুলে ভরা বাকৃবির বঙ্গবন্ধু স্মৃতি চত্বর

ঐতিহাসিক ঘটনাকে স্মরণ রাখতে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে নির্মাণ করা হয় ‘বঙ্গবন্ধু স্মৃতি চত্বর’। স্মৃতি চত্বরে খচিত অন্নদাশঙ্কর রায় রচিত কবিতাটি গড়মিল ও বেশ কিছু বানানে ভুল করা হয়েছে। এ অবস্থায় বিভিন্ন দিবসে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সামাজিক, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন ভুলে ভরা স্মৃতি চত্বরেই প্রতিবছর শ্রদ্ধা জানায় বঙ্গবন্ধুকে। এতদিনেই প্রশাসনের কারও কাছেই ভুলের বিষয়টি এখন পর্যন্ত নজরে আসেনি।

জানা যায়, কৃষিতে উৎপাদন বৃদ্ধির মাধ্যমে স্বাধীনতা পরবর্তী সরকারের প্রধান দায়িত্ব ছিল খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করা। তাই কৃষির গুরুত্ব অনুধাবন করেই কৃষিবিদদের প্রথম শ্রেণির পদমর্যাদায় উন্নীত করেন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।

কৃষি শিক্ষা ও কৃষিবিদদের যথাযথ মূল্যায়নের ঐতিহাসিক ঘোষণাটি তিনি ১৯৭৩ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সভায় ঘোষণা দিয়েছিলেন। ফলে মেধাবী শিক্ষার্থীরা কৃষি শিক্ষা গ্রহণের মাধ্যমে কৃষি উন্নয়ন তথা খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনসহ দেশের অর্থনীতিতে যুগান্তকারী ভূমিকা পালন করতে সক্ষম হয়।

ঐতিহাসিক এসব ঘটনাকে স্মরণ রাখতে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে নির্মাণ করা হয় ‘বঙ্গবন্ধু স্মৃতি চত্বর’।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, স্থায়ীভাবে বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল না থাকায় বিভিন্ন দিবসে তার প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা জানানোর জন্য ২০১২ সালের পহেলা আগস্ট ভিত্তিপ্রস্থর স্থাপন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. রফিকুল হক এবং ২০১৩ সালের ৩ জানুয়ারি সেটির উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

‘বঙ্গবন্ধু স্মৃতি চত্বরে’ অন্নদাশঙ্কর রায় রচিত কবিতাটি গড়মিল ও বেশ কিছু বানানে ভুল করা হয়েছে। কবি নিজে লিখেছিলেন,
‘যতকাল রবে পদ্মা যমুনা গৌরী মেঘনা বহমান
ততকাল রবে কীর্তি তোমার শেখ মুজিবুর রহমান।
দিকে দিকে আজ অশ্রুমালা রক্তগঙ্গা বহমান
তবু নাই ভয় হবে হবে জয়, জয় মুজিবুর রহমান।’

কিন্তু এখানে লেখা হয়েছে, ‘যতদিন রবে পদ্মা, মেঘনা/গৌরী, যমুনা বহমান/ততদিন রবে কীর্তি তোমার/শেখ মুজিবুর রহমান’।

এই লেখায় কয়েক জায়গায় গড়মিল রয়েছে। কবিতাটিতে ‘যতকালের’ জায়গায় ‘যতদিন’, ততকালের জায়গায় ‘ততদিন’ লেখা হয়েছে। কবিতায় `যমুনা`র জায়গায় `মেঘনা` আর `মেঘনা`র জায়গায় `যমুনা` লেখা হয়েছে। কবিতায় দুই লাইনকে চার লাইন বানানো হয়েছে। সে সঙ্গে ওই কবিতার প্রথম দুই লাইনে, কমার ব্যবহার না থাকলেও কবিতায় কমা ব্যবহার করা হয়েছে। আবার কবিতাটি যে বাংলাদেশের অকৃত্রিম বন্ধু কবি অন্নদাশঙ্কর রায় রচিত, সেটিরও উল্লেখ নেই।

এছাড়াও এখানে ‘জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কর্তৃক কৃষিবিদদের প্রথম শ্রেণির পদপর্যাদা ঘোষণার ঐতিহাসিক স্থান’ লাইনটিতে বাংলা একাডেমি বানানের নিয়ম অনুসরণ না করে ‘শ্রেণি’ বানান ‘শ্রেণী’ লেখা হয়েছে। ‘কৃষিবিদ ক্লাশ ওয়ান’ বানানেও রয়েছে ভুল। ‘ক্লাস’ বানানটি লেখা হয়েছে ‘ক্লাশ’।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. মো. আলী আকবর বলেন, বিষয়টি আমাদের নজরে আসেনি। তবে এখন আমরা যাচাই বাছাই করে দেখবো।’ বাংলাদেশের প্রখ্যাত লেখক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের ইমেরিটাস অধ্যাপক ড. আনিসুজ্জামান বলেন, কোনোভাবেই কবিতাটি ভুলভাবে উপস্থাপন করা ঠিক হয়নি। বিশ্বব্যাপী উদ্ধৃত ব্যবহারের নিয়ম হচ্ছে যেভাবে লেখা রয়েছে, সেভাবেই ব্যবহার করতে হবে। সুতরাং আমি আশা করবো, কর্তৃপক্ষ দ্রুত সময়ের মধ্যে ভুলটি  সংশোধন করে নেবে।

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 690 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ