ভোটে নেই, তবু আলোচনায় বিএনপি-জামায়াত

Print

গাইবান্ধা-১ (সুন্দরগঞ্জ) আসনের সরকার দলীয় সংসদ সদস্য মঞ্জুরুল ইসলাম লিটনের শূন্য আসনে আগামী ২২ মার্চ উপ-নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। সুন্দরগঞ্জ বিএনপি ও জামায়াত অধ্যুষিত এলাকা হওয়া সত্বেও এ নির্বাচনে কোন ভাবেই অংশ নেয়নি রাজনৈতিক দল দুটি। ফলে বিপাকে পড়েছেন দল দুটির নেতাকর্মী ও সমর্থকরা। একাধিক সূত্র জানায়, এ আসনে বিএনপি, জামায়াতের লক্ষাধিক ভোট রয়েছে। বিএনপি ও জামায়াতের ভোট যিনি পুরোপুরি পাবেন তিনি হবেন এ আসনের সংসদ সদস্য। এ নিয়ে প্রার্থীদের মধ্যে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। আওয়ামী লীগ থেকে শুরু করে সকল প্রার্থী ভোট পেতে বিএনপি, জামায়াতের নেতাকর্মীদের মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়াসহ নানা প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন।
সুন্দরগঞ্জ উপজেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা যায়, আসন্ন উপ-নির্বাচনে সাতজন প্রার্থী অংশ নিয়েছেন। তারা হলেন, আওয়ামীলীগের প্রার্থী গোলাম মোস্তফা আহম্মেদ (নৌকা), জাতীয় পার্টি (এরশাদ) প্রার্থী ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী (লাঙ্গল), জাসদ (ইনু) এ্যাড. মোহাম্মাদ আলী প্রামানিক (মশাল), স্বতন্ত্র প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার মোস্তফা মহসিন সর্দার (আপেল), শরিফুল ইসলাম (মাছ), জিয়া জামান খাঁন (আম) ও ওয়াহেদুজ্জামান সরকার (বাই সাইকেল)। এই ৭ জন প্রার্থীর মধ্যে মূলত ত্রিমুখী লড়াই হবে। তারা হলেন- আওয়ামী লীগের প্রার্থী গোলাম মোস্তফা আহম্মেদ, জাতীয় পার্টির প্রার্থী ব্যারিস্টার শামিম হায়দার পাটোয়ারী এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার মোস্তফা মহসিন সর্দার।

গোলাম মোস্তফা আহম্মেদ জানান, এক সময় সুন্দরগঞ্জ, জামায়াতের ঘাঁটি ছিল। এখন তা আওয়ামীলীগের ঘাটিতে পরিণত হয়েছে। যার কারণেই ১০ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী মঞ্জুরুল ইসলাম লিটন ১ লাখ ১১ হাজার ১৫২ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। এ ভোটগুলো তিনি পাবেন। এ ছাড়াও রাজনৈতিক ভাবে না হলেও ব্যক্তি ইমেজে বিএনপি-জামায়াতের ভোট পাবেন বলে আশা করেন।
ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী বারবার বিএনপি, জামায়াতের নেতাকর্মী ও সমর্থকদের মনে করিয়ে দিচ্ছেন আওয়ামী লীগের অত্যাচার, নির্যাতনের কথা। তিনি সুন্দরগঞ্জের পশ্চিম বাজার পাড়ায় মঙ্গলবার দুপুরের দিকে এক পথসভায় বলেন, এ উপজেলার নিরাপদ মানুষকে সাজা দেওয়া হচ্ছে। গাইবান্ধা জেলা কারাগারের অর্ধেক মানুষ সুন্দরগঞ্জের। নাশকতার অজুহাতে তাদের কারাগারে আটকে রেখে হয়রানি করা হচ্ছে। তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলে দলমত নির্বিশেষে কোন নিরাপরাধ মানুষকে হয়রানি হতে দিবেন না বলে জানান তিনি।
স্বতন্ত্র প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার মোস্তফা মহসিন জানান, সুন্দরগঞ্জ আসনের প্রত্যেক বারের নির্বাচনে জায়ামাত দ্বিতীয় হয়েছে। কর্নেল (অব.) কাদের খাঁনের স্বীকারোক্তিতে এমপি লিটনের খুনি চিহ্নিত হয়েছে। এরপরও জামায়াতের নেতাকর্মীদের কারাগারে আটকে রাখার কোন যুক্তি নেই বলে মন্তব্য করে তিনি তাদের মুক্তির দাবি করেন। তিনি আরো বলেন, ইতিপূর্ব থেকেই তিনি বিভিন্ন সমাজসেবা মূলক কাজ করে আসছেন। উপ-নির্বাচন সুষ্ঠু হলে দলমত নির্বিশেষে সবার ভোট পাবেন তিনি।
উপজেলার রামজীবন গ্রামের বাসিন্দা হুমায়ন কবির জানান, অতীতের কথা, ভূলি নাই। ২০১৩ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি মাওলানা দেলোয়ার হোসেন সাঈদীর মানবতাবিরোধী মামলার রায়কে কেন্দ্র করে সহিংসতার ঘটনায় অজ্ঞাত পরিচয়ে জামায়াতের ৭০ হাজার নেতাকর্মী ও সমর্থকদের নামে মামলা করা হয়। এদের মধ্যে প্রকৃত অপরাধী ছাড়াও এলাকার সহজ সরল অসংখ্য মানুষ রাজনীতির প্রতিহিংসার শিকার হয়ে পথে বসেছেন। আসন্ন উপ-নির্বাচনে তারা অনেক হিসাব-নিকাশ করে ভোট দিবেন।
সূত্রমতে, ৮ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৭৮ হাজার ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন জামায়াতের প্রার্থী আবদুল আজিজ। ওই সময় বিএনপি পেয়েছিল ৩৮ হাজার ভোট। সেই সূত্রে বিএনপি, জামায়াতের ভোট রয়েছে ১ লাখ ১৬ হাজার। গত প্রায় ১০ বছরে ভোট সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়ে বর্তমান বিএনপি, জামায়াতের ভোট সংখ্যা ধরা হয়, প্রায় এক লাখ বিশ হাজার।
সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় ১৫ টি ইউনিয়ন ও পৌরসভা মিলে মহিলা ভোটার সংখ্যা ১ লাখ ৭০ হাজার ৮৪১ জন ও পুরুষ ভোটার সংখ্যা ১ লাখ ৬২ হাজার ৫৮৫ জন। সর্ব মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৩৩ হাজার ৪২৬ জন। ২২ শে মার্চ ১০৯ টি কেন্দ্রে ৬৩৭ টি বুথে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 111 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ