ভোট দেয়নি তাই জোড়া লাগছেনা ব্রীজ!

Print

15589689_238749183223213_6299217758714166825_n

ঝালকাঠী জেলার সদর উপজেলার হিমানন্দকাঠী-ঝালকাঠী সড়কের বেতরা খালের উপর নির্মিত ব্রীজটি দিয়ে প্রতিদিন কয়েক হাজার লোকের যাতায়াত। ২০০৯ সালে গাছ বোঝাই একটি ট্রলারের ধাক্কায় ভেঙ্গে যায় ব্রীজটি। ৭ বছর ধরে ভাঙ্গা আর জোড়া লাগেনি। অভিযোগ উঠেছে নির্বাচনে ভোট না দেয়া এবং সাবেক এক চেয়ারম্যানের পথ আটকাতে ব্রীজটি হচ্ছেনা। এর জন্য বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছেন বর্তমান চেয়ারম্যান।নবগ্রাম ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ওয়ালিউর রহমান জানান, ১৯৯১ সালে ব্রীজটি নির্মান করা হয়। ২০০৯ সালে গাছবোঝাই একটি চলন্ত ট্রলারের ধাক্কায় ব্রিজটি ভেঙ্গে পড়ে। এই ব্রীজ থেকেই বানারীপাড়া, ছারছিনা, স্বরুপকাঠী, জলাবাড়ীসহ বিভিন্ন উপজেলায় হাজার হাজার লোকের যাতায়াত। ব্রীজটি নতুন করে নির্মান না করার কারনে এখন প্রায় আড়াই কিলোমিটার পথ ঘুরে যাতায়াত করতে হচ্ছে। সরাসরি এই ব্রীজ পার হয়ে বানারীপাড়া যাওয়া যেতো। এখন বানারীপাড়া যেতে হলে নবগ্রাম হয়ে আটঘর কুড়িয়ানা ঘুরে যেতে হয়। এতে অর্থের পাশাপাশি সময়ের অনেক অপচয় হচ্ছে। সাথে দুর্ভোগতো লেগেই আছে। সাবেক এ চেয়ারম্যানের অভিযোগ তিনি এই ব্রীজ দিয়ে যাতায়াত করেন বলেই বর্তমান চেয়ারম্যান ক্ষমতার অপব্যবহার করে ব্রীজ যাতে না হয় সেজন্য চেষ্টা করছেন। বর্তমান চেয়ারম্যান জেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক। সাবেক চেয়ারম্যান ওয়ালিউর রহমান

জানান তার বাড়ী দোগলচিরা এলাকায়। সেখান থেকে এই ব্রীজ পার হয়ে সহজেই যাওয়া-আসা করা যায়। আমার একার পথ আটকাতে বর্তমান চেয়ারম্যান সাধারন জনগনকে চরম ভোগান্তিতে ফেলেছেন।একই অভিযোগ করেছেন স্থানীয় আওয়ামীলীগ নেতা আসগর মল্লিক। তিনি বলেন, আমিও আওয়ামীলীগ করি আর বর্তমান চেয়ারম্যান মুজিবুল হক সরকার দলেরই লোক। সাবেক চেয়ারম্যান ওয়ালিউর রহমানের বাড়ী দোগলচিরায়। সেখানকার লোক বর্তমান চেয়ারম্যানকে ভোট না দিয়ে সাবেক চেয়ারম্যান ওয়ালিউরকে দিয়েছেন। সেই প্রতিশোধ নিতেই ব্রীজটি করা হচ্ছেনা।এমন অভিযোগ অস্বীকার করে নবগ্রাম ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মুজিবুল হক বলেন, ব্রীজটি যাতে হয় সেজন্য অনেকবার এলজিইডিতে দৌঁড়াদৌঁড়ি করেছি। মন্ত্রী আমির হোসেন আমুর কাছেও আমি বেশ কয়েকবার অনুরোধ করেছি ব্রীজটির জন্য। বর্তমানে ব্রীজটি নতুন করে করতে গেলে কয়েক কোটি টাকার প্রয়োজন। অনেক ব্যয়বহুল হবার কারনে হয়তো দেরী হচ্ছে। যদি কেউ বলে থাকে আমার কারনে ব্রীজ হয়না সেটা তার হীনমন্যতা কারন ব্রীজটি ব্রীজটি এক সময় আমিই করেছি।এ ব্যাপারে ঝালকাঠী এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ সেলিম সরকার বলেন, বারবারই আমরা ব্রীজটি তালিকায় দিচ্ছি কিন্তু কেনযে হচ্ছেনা তা আমার জানা নেই। অনেক সময় ফান্ড না থাকার কারনে প্রকল্প পাস হতে সময় লাগে। এবছরও তালিকায় দেয়া হয়েছে। আশা করি এবার হবে।

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 131 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ