মশা তো মরেই না কিছুক্ষণ অজ্ঞান হইয়া পরে জ্যাতা হইয়া যায়

Print

এই ওষুধ দিয়া কী এমন লাভ হইতাছে? মশা তো মরেই না কিছুক্ষণ অজ্ঞান হইয়া পরে জ্যাতা হইয়া যায়।’
বলছিলেন রাজধানীর লালবাগ এলাকার বাসিন্দা হুমায়ূন কবির। তিনি বলেন, ‘এই ওষুধে কহনো মশা মরে না, ২০ বছর ধইরা এইটাই কইরা যাইতাছে করপোরেশন, মাগার কামের কাম কিছু অয় না।’

চিকুনগুনিয়া রোগ প্রতিরোধে গত ২১ মে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন ক্র্যাশ প্রোগ্রাম চালু করে। এই প্রোগ্রাম চালুর পর মশার ওষুধ ছিটানোর তৎপরতা অনেক বেড়েছে। তবে ওষুধ ছিটানো বাড়লেও কমেনি চিকুনগুনিয়ার প্রকোপ। বরং দিনে দিনে বেড়েই চলছে এই রোগের বাহন এডিস মশার বংশবিস্তার।
সম্প্রতি স্বাস্থ্য অধিদপ্তর রাজধানীর ৫০টি এলাকায় জরিপ চালিয়েছে বলে জানা যায়। জরিপে দেখা গেছে, প্রায় সব এলাকায়ই চিকুনগুনিয়ার সংক্রমণ রয়েছে। সবচেয়ে আতঙ্কের বিষয় হচ্ছে, পরিবারের একজন আক্রান্ত হলে অন্যদের আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। কারণ আক্রান্ত ব্যক্তিকে মশা কামড়ালে সেই মশাও রোগ ছড়ানোর বাহকে পরিণত হচ্ছে।
বর্তমানে চিকুনগুনিয়া মহামারি আকার ধারণ করেছে উল্লেখ করে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের আয়োজিত এক প্রোগ্রামে রোগতত্ত্ববিদ মাহমুদুর রহমান বলেন, ‘চিকুনগুনিয়া কোনো ছোঁয়াচে রোগ না, তবে বাহক এডিস মশা কোনো সুস্থ মানুষকে কামড়ালে তার শরীরে এই ভাইরাস প্রবেশ করবে। আবার অন্য কোনো এডিস মশা আক্রান্ত ব্যক্তিকে কামড়ালে, সেই জীবাণুটি নতুন মশার শরীরে প্রবেশ করে। এভাবেই ছড়ায়।’
মাহমুদুর রহমান আরও বলেন, ‘তবে কোনো ব্যক্তি আক্রান্ত হওয়ার পাঁচ দিন পর্যন্ত তাকে মশারির ভেতরে রাখা হলে পরিবারের অন্যান্যদের চিকুনগুনিয়া হওয়ার আশঙ্কা কমে যায়।’

রাজধানীর বেচারাম দেউড়ী এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করছেন সেলিম ভুঁইয়া। ‍চিকুনগুনিয়া নিয়ে কথা হয় তার সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘আমগো এই এলাকা অন্য এলাকার থেইকা বেশি চিপা। অহন এমন অবস্থা হইছে অল্পখানি বৃষ্টি হইলেই পানি উইড্ডা যায়। সিটি করপোরেশনে খবর দিলে আইবার চায় না।’
সেলিম বলেন, ‘বৃষ্টি অইলে সারা জীবন এলাকায় পানি জইমা যায়, অহন লগে আইছে চিকুনগুনিয়া। আমার দুই মাইয়ার এই রোগ হইসে। সময়মতন আইয়া যদি সিটি করপোরেশন পানিগুলান পরিষ্কার করতো তাইলে এই রোগগুলান ছড়াইতো না।’
নগরীর বিভিন্ন এলাকার বেশ কয়েকজন জানালেন চিকুনগুনিয়া নিয়ে তাদের দুর্ভোগের কথা। তবে তাদের বেশিরভাগই দোষারোপ করছেন সিটি করপোরেশনকে। তাদের প্রায় প্রত্যেকেরই বক্তব্য, ‘সিটি করপোরেশনে অভিযোগ করলে সময়মত অভিযোগের উত্তর পাওয়া যায় না।’
চলতি বছরের এপ্রিলে চিকুনগুনিয়া ভাইরাস ধরা পড়ার পর ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন ও দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থাগুলো ছিল অনেকটা নির্বিকার। এতে ধীরে ধীরে অচেনা এই ভাইরাসটি মাহমারি আকার ধারণ করে। সংবাদ মাধ্যমে বিষয়টি প্রচার হলে দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের টনক লড়ে। ফলে ২১ মে থেকে মশক নিধনের জন্য ডিএসসিসির ক্রাশ প্রোগ্রাম চালু করা হয়। এই প্রোগ্রামে এডিস মশার প্রজনন ক্ষেত্র ধ্বংস ও ওষুধ ছিটিয়ে মশক নিধন কার্যক্রম হাতে নেয়া হয়। তবে সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে যে মশার ওষুধ ছিটানো হচ্ছে এডিস মশা মারার জন্য তা যথেষ্ট নয় বলে ভুক্তভোগী স্থানীয় মানুষ দাবি করছে।
সম্প্রতি দক্ষিণের মেয়র সাঈদ খোকন বলেন, মানুষ ডাকলে প্রয়োজনে বাসায় গিয়ে মশার ওষুধ দেয়া হবে।

অপরদিকে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র আনিসুল হক চিকুনগুনিয়া নিয়ে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করার জন্য গত শুক্রবার আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘এডিস মশার জন্ম হয় বাসাবাড়ির ভেতরে। তারা সেখানে বংশ বিস্তার করে। মেয়রের দায়িত্ব মশা মারা, তাই আমরা মশার ওষুধের জন্য প্রয়োজনে বাজেট বাড়াচ্ছি। আমরা রাস্তা বা ড্রেনের মশার ওষুধ দিতে পারি, কিন্তু মানুষের বাসা বাড়ি বা যেকোনো জলাশয়ে মশার ওষুধ ছিটানোয় আমাদের আইনি ক্ষমতা নাই। এমন কিছু জায়গা আছে যেখানে আমরা যেতে পারি না। এমন জায়গাগুলো থেকে এই মশা জন্ম নিচ্ছে।’
মেয়র বলেন, ‘এডিস মশা খুবই সংবেদনশীল। যেকোনো কীটনাশকেই এদেরকে নিধন সম্ভব।’
উত্তরের মেয়রের এমন কথার সঙ্গে বাস্তবের মিলটা যে ভিন্ন তা মিলল দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে। সেখানকার মানুষের দাবি, ওষুধ ছিটানোর পরেও এডিস মশা মরছে না।
এই বিষয়ে কথা বলতে ডিএসসিসির প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা শেখ সালাহ উদ্দিনের নম্বরে বারবার ফোন করেও তাকে পাওয়া যায়নি।

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 353 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ