মহাসড়ক নির্মাণে খরচ বেশি পড়ার কারণ ব্যাখ্যা করলেন প্রধানমন্ত্রী

Print

অন্যান্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশে মহাসড়ক নির্মাণে খরচ বেশি পড়ার কারণ ব্যাখ্যা করলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রকল্পের আওতার মধ্যে পড়া অনেকের বাড়িঘরের ক্ষতিপূরণ এবং জমি অধিগ্রহণের খরচের কারণে এটি হয় বলে জানান তিনি।
গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর শেরে বাংলানগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় প্রধানমন্ত্রী এ ব্যাখ্যা দেন। বৈঠকে উপস্থিত সরকারের একাধিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘বাংলাদেশে জনসংখ্যা বেশি হওয়ার কারণে কোনো একটি অবকাঠামো নির্মাণ করতে গেলে অনেক মানুষের বসতবাড়ি ভাঙতে হয়।
বড় বড় ভবন ভেঙে ফেলতে হয়। এর পাশাপাশি জমি অধিগ্রহণ ও ক্ষতিপূরণ দিতে হয়। অন্যান্য দেশে এসব খাতে খরচ হয় না। যার ফলে দেশে মহাসড়ক নির্মাণে খরচ বেশি পড়ে। ’
বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, মহাসড়ক, উড়ালসেতু ও রেললাইন নির্মাণে বিশ্বের মধ্যে বাংলাদেশেই খরচ বেশি হওয়া নিয়ে সম্প্রতি বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ হওয়ায় গতকাল একনেক সভায় প্রধানমন্ত্রী নিজেই বিষয়টি তোলেন। তিনি বলেন, মহাসড়ক, উড়াল সড়ক ও রেললাইন নির্মাণে বিশ্বের মধ্যে সবচেয়ে খরচ বেশি বাংলাদেশে—এসব কথা যাঁরা বলেন তাঁরা পুরো বিষয়টি জানেন না। তাঁরা না জেনেই সমালোচনা করেন। এখানে কোনো একটি সড়ক বা উড়াল সড়ক নির্মাণ করতে গেলেই একটা কম্পানি দাঁড়িয়ে যায় ক্ষতিপূরণ নেওয়ার জন্য। তা ছাড়া বাংলাদেশের মাটির বৈশিষ্ট্য ও ধরন ভিন্ন। একটি সড়ক বা রেললাইন নির্মাণ করতে গেলে সমতল থেকে ছয় থেকে সাত ফুট উঁচু করতে হয়। তাতে খরচ বেড়ে যায়।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, মহাসড়ক নির্মাণে প্রতিকিলোমিটারে খরচ বেশি হওয়ার আরেকটি কারণ হলো, জমি অধিগ্রহণ। জমি অধিগ্রহণ নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়। বিশ্বের অনেক দেশে এভাবে সমতল থেকে সড়ক বা রেললাইন উঁচু করতে হয় না। জমি অধিগ্রহণের প্রয়োজন হয় না। ক্ষতিপূরণও দিতে হয় না। সে কারণে ওই সব দেশে সড়ক নির্মাণে খরচ কম লাগে।
বাংলাদেশে মহাসড়ক, রেললাইন ও উড়াল সড়ক নির্মাণে খরচ বেশি হওয়ার বাস্তবতা জনগণের সামনে তুলে ধরতে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এবং সচিবকে নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী।
সূত্র আরো জানায়, পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় থেকে যেসব প্রকল্প নেওয়া হবে, সেসব প্রকল্পের টাকা যেন সড়ক বা অন্য খাতে খরচ না হয় সে বিষয়ে নির্দেশনা দেন প্রধানমন্ত্রী। বিশেষ করে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রকল্পের ৫০ শতাংশ অর্থ যাতে ড্রেজিং করার জন্য রাখা হয়, সেটি নিশ্চিত করতে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়কে নির্দেশনা দেওয়া হয়।
এদিকে গতকালের একনেক সভায় দুই হাজার ৭২ কোটি টাকা ব্যয়ে মোট আটটি প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নে পুরো টাকাই আসবে রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে।
বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রকল্পগুলো সম্পর্কে বিস্তারিত তুলে ধরেন পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। এ সময় পরিকল্পনা বিভাগের সচিব জিয়াউল ইসলাম, সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের সদস্য (সিনিয়র সচিব) ড. শামসুল আলম, পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য সামসুদ্দিন আজাদ চৌধুরীসহ অন্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
প্রধানমন্ত্রীর উদ্ধৃতি দিয়ে পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, একনেকে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, খুলনা শহর যেহেতু দিন দিন বড় হচ্ছে, সে জন্য পুরো শহরকে সংযোগ সড়ক প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত করতে হবে।
একনেকে অনুমোদিত প্রকল্পগুলো হলো : ৪৫২ কোটি টাকা ব্যয়ে সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের বিদ্যমান রানওয়ে ও ট্যাক্সিওয়ের শক্তি বৃদ্ধি করা, ৩৯৫ কোটি টাকা ব্যয়ে গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক মহাসড়ক যথাযথ মান ও প্রশস্ততায় উন্নীত করা, ১৮২ কোটি টাকা ব্যয়ে পটুয়াখালী-কুয়াকাটা সড়কে শেখ কামাল সেতু, শেখ জামাল সেতু ও শেখ রাসেল সেতু নির্মাণ, ১২৯ কোটি টাকা ব্যয়ে দুটি সংযোগ সড়ক (নিরালা এভিনিউ ও খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় এভিনিউ) নির্মাণ, ৩২০ কোটি টাকা ব্যয়ে চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় উন্নয়ন, ২৭৬ কোটি টাকা ব্যয়ে যমুনা নদীর ডানতীরের ভাঙন থেকে গাইবান্ধা সদর উপজেলা এবং গণকবরসহ ফুলছড়ি উপজেলার বিভিন্ন স্থাপনা রক্ষা করা, ৫২ কোটি টাকা ব্যয়ে বরিশাল বিসিক শিল্পনগরীর অনুন্নত এলাকা উন্নয়ন প্রকল্প।
সংবাদ সম্মেলনে পরিকল্পনামন্ত্রী জানান, বর্তমানে গ্রামাঞ্চলে গেলে অবাক হতে হয়। কেননা এসএমই খাতে নীরব বিপ্লব ঘটছে। যাঁরা বিদেশে ছিলেন তাঁরা কিছু পুঁজি নিয়ে এসে ছোট ছোট ব্যবসা করছেন। ফলে আগামী তিন বছরের মধ্যে দেশের অর্থনীতি অন্যতম গতি পাবে। এ জন্যই বিসিকের শিল্পনগরী-সংক্রান্ত প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 172 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ