আধুনিক যুগ নাকি বিজ্ঞানের যুগ! প্রকৃতির সাথে লড়াই করে বেঁচে থাকার পরিবর্তে আরামে ও আয়াসে কাটছে মানুষের জীবন। কায়িক পরিশ্রমের স্থান দখল করছে মানুষ নির্মিত যন্ত্র। মানুষ হচ্ছে স্থুলাকার, বেড়ে যাচ্ছে চর্বি, রক্তের গ্লুকোজ। এরই ফল ডায়াবেটিস। খাবারের অতিরিক্ত লোভ এবং আলস্য এ রোগকে হাতছানি দিয়ে ডেকে আনতে পারে! ডায়াবেটিস (Diabetes) শব্দটি এসেছে গ্রীক শব্দ Diabainein থেকে । সর্বপ্রথম ১৪২৫ সালে Thomas Willis ডায়াবেটিস মেলিচীস সম্পর্কে মেডিক্যাল বইতে লেখেন। ১৭৭৬ সালে Mathew Dobson মূত্র এবং রক্তে সুগার খুঁজে পান। সুত্রঃ +++ (D)#3 = Diet, Drug and Discipline এই তিনটি শব্দ মনে রাখলেই  প্রাথমিক পর্যায়ের ডায়াবেটিস থেকে রক্ষা পাওয়া যায়।  তারপরেও সারা পৃথিবীতে ৩০ কোটি মানুষ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত বা আগামীতে প্রতি ৩/১ পরিবারে একজন রোগী থাকবেন । আগের দিনে মানুষের কায়িক পরিশ্রম ছিল; সে জন্য ডায়াবেটিসের কথা শুনা যায়নি। শুধু তাই নহে, বিশ্বের ক্রমবর্ধমান বিপুল জনগোষ্ঠির খাদ্য চাহিদা মিটাতে ব্যবহৃত হচ্ছে রাসায়নিক ও জৈবিক প্রযুক্তি। অনেক চিন্তাবিদ মানুষের ডায়াবেটিস সহ বিভিন্ন মারাত্মক রোগ ব্যাধির সাথে এ ধরনের প্রযুক্তির অপব্যবহার এর সম্পর্ক রয়েছে মর্মে চিন্তা শুরু করেছেন। স্বাস্থ্য বিজ্ঞানীরা অনেক অনেক বড় বড় অসুখের কারণ নির্ণয় করেছেন। ম্যালেরিয়া, কলেরা, গুটি বসন্ত ইত্যাদি ভয়াবহ রোগগুলোর কারণ আবিষ্কৃত হয়েছে। এর চিকিৎসা পদ্ধতিও হয়েছে উন্নতর। বের হয়েছে প্রতিষেধক। কিন্তু প্রাণান্তকর চেষ্টা ও শত গবেষণা সত্বেও ডায়াবেটিসের প্রকৃত কারণ নির্ণয় করা সম্ভব হয়নি। স্বাস্থ্য বিজ্ঞানীরা বলছেন যে কোন অজানা কারণে প্যানক্রিয়াসের বেটা সেল (Beta Cell) ধ্বংস প্রাপ্ত হয়। এর ফলে ইনসুলিন তৈরিতে প্যানক্রিয়াস সম্পূর্ণ অথবা আংশিক অক্ষম হয়ে পড়ে। ইনসুলিনের অভাবের কারণে রক্তের গ্লুকোজ আমাদের শরীরের বিপাক ক্রিয়ায় অংশ নিতে পারে না। এর ফলে রক্তের গ্লুকোজের মাত্রা বেড়ে যায় এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হয়।

স্বাস্থ্য বিজ্ঞানীরা ডায়াবেটিসকে মূলত: ৩ ভাগে ভাগ করেছেন যথা টাইপ-১ (Type-1), টাইপ-২ (Type-2), এবং গর্ভকালীন ডায়াবেটিস (Gestational Diabetis)।

কিছু কিছু মহিলার গর্ভধারণের মাঝামাঝি সময়ে এ ডায়াবেটিস হয় এবং বাচ্চার জন্মের দেড় থেকে দুই মাসের মধ্যে এ ডায়াবেটিস থেকে প্রায় ৫০ ভাগ প্রসূতি সাধারণতঃ মুক্ত হয়ে যায়। বাকী মায়েদের মধ্যে ২০% – ৫০% সাধারণতঃ ০৫/১০ বছরের মধ্যেই টাইপ-২ ধরণের ডায়াবেটিস এ আক্রান্ত হয় যদি তারা নিয়ন্ত্রিত জীবন যাপন না করেন। দেখা গেছে যে, যুক্তরাষ্ট্রের ৩%-৫% গর্ভবতী মহিলা গর্ভকালীন ডায়াবেটিসের (Gestational Diabetis) রোগী। গর্ভকালীন ডায়াবেটিস (Gestational Diabetis) প্রসুতি এবং তাঁর সন্তানের জন্য বিপদজনক হতে পারে। এজন্য প্রয়োজনে এই বিষয়ে বিশেষজ্ঞ ডাক্তার, পুষ্টিবিদের নির্দেশ, পরিমিত শারীরিক পরিশ্রম ও প্রয়োজনে ইনসুলিন (Insulin) নিয়ে এ ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখা আবশ্যক।

যেভাবে বুঝা যায় যে ডায়াবেটিস হয়েছেঃ

সকাল বেলা খালি পেটে রক্তের শর্করার পরিমাণ নির্ণয় করার মাধ্যমে ডায়াবেটিস নির্ণয় কে চিকিৎসা বিজ্ঞানীরা অগ্রধিকার দিয়ে থাকেন ।
খালি পেটে প্রতি ১ ডেসি লিটার রক্তে ১২০ মিঃগ্রাঃ (৬.৬ মিলি মোল/লিটার) বা তার কম শর্করা পাওয়া গেলে ধরে নেয়া হয় যে, কোন ব্যক্তির ডায়াবেটিস ভাল নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ডায়াবেটিস নির্ণয়ের এ পরীক্ষাকে অভুক্ত থাকার পরীক্ষা (Fasting glucose Test) বলে। খালি পেটে থাকা অবস্থায় রক্তে গ্লুকোজের আধিক্য হলে, পরবর্তিতে নানা জটিলতা দেখা দিতে পারে। তাই ডায়াবেটিসের এ অবস্থা বিশেষ গুরুত্ববহ। এ ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ না রাখলে ধমনী-শিরা ও হৃদযন্ত্রের বিভিন্ন জটিলতা দেখা দিতে পারে।
খাবারের পর প্রতি ডিসি লিটার রক্তে ১৮০ মি: গ্রাম (১০ মি: মোল/লিটার) গ্লুকোজ বা ততোধিক শর্করা পাওয়া গেলে ধরে নেয়া হয় যে, কোন ব্যক্তির ডায়াবেটিস হয়েছে।

গর্ভকালীন সময়ে ডায়াবেটিস যে কারো হতে পারে। তবে কোন কোন ক্ষেত্রে এর ঝুঁকি বেড়ে যায়। গবেষণায় দেখা গেছে, গর্ভবতী হওয়ার আগে যেসব নারীর খাদ্য তালিকায় পশুজাত চর্বি এবং কোলেস্টেরলের পরিমাণ সাধারণের তুলনায় বেশি থাকে তাদের এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেশি। গর্ভাবস্থায় অনেক ক্ষেত্রে হরমোনের পরিবর্তনের কারণে কোষকলা ইনসুলিনের প্রতি অসংবেদনশীল হয়ে পড়তে পারে। তাছাড়া অগ্নাশয় গর্ভাবস্থার জন্য প্রয়োজনীয় অতিরিক্ত ইনসুলিন উৎপাদন করতে ব্যর্থ হলেও রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা বেড়ে গিয়ে এ রোগটি দেখা দেয়। সন্তান জন্মদানের পর বেশির ভাগ মহিলাই এ রোগ থেকে মুক্তি লাভ করে থাকে, যদিও তাদের ক্ষেত্রে আবার গর্ভবতী হলে অথবা পরবর্তী জীবনে এ রোগে আক্রান্ত হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি থাকে।

গর্ভকালীন ডায়াবেটিস রোগের চিকিৎসাঃ

  • নিয়মিত ব্লাড সুগার মাপা উচিৎ। সম্ভব হলে দিনে ৪-৬ বার ব্লাড সুগার মাপুন।
  • যতটা সম্ভব পুষ্টিকর খাবার খান। অতিরিক্ত ফ্যাট জাতীয় খাবার খাবেন না।
  • সাধারণ বাড়ির কাজ করার সাথে সাথে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে হাঁটতে, সাঁতার কাটতে কিংবা অন্য ব্যায়াম করতে পারেন।
  • ডাক্তারের নির্দেশ মতো নিয়মিত চেক-আপ করান।
  • চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে ব্লাড সুগার লেভেল স্বাভাবিক রাখার জন্য ওষুধ নিন।

গর্ভকালীন সময়ে ডায়াবেটিস হলে মায়ের খাবার-দাবারের দিকে বিশেষ ভাবে নজর দিতে হবে।

  • প্রচুর পরিমাণে টক ফল ও সবজি খান। দুপুরে ও রাতের খাবারের সঙ্গে সালাদ খান।
  • চিনি জাতীয় খাবার পরিহার করুন।
  • ডিম, মাছ, মুরগির বুকের মাংস খেতে পারেন। যথাসম্ভব গরু ও খাসির মাংস পরিহার করুন।
  • নিয়মিত লো-ফ্যাট দুধ ও দই খেতে পারেন।
  • গম, জোয়ার, খোসা সমেত চাল ও ভুট্টার মতো গোটা দানা শস্য ডায়েটে রাখতে পারেন।
  • খাবারে অল্প পরিমানে তেল ব্যবহার করুন। সরষের তেল বা অলিভ অয়েল ও ব্যবহার করতে পারেন।
  • সাদা চিনি ও সাদা আটা খাবেন না।
  • এই সময় ব্লাড প্রেশার ওঠা-নামা করতে পারে। তাই অতিরিক্ত কাঁচা লবন খাবেন না। প্যাকেট জাত খাবার ও রেডিমেড সুপ না খাওয়াই ভালো।
  • বিস্কিট ,কেক, চকলেট ও আইস্ক্রিম খাওয়া বন্ধ রাখুন। এর পরিবর্তে বেশি করে ফল খেতে পারেন।
  • পরিমান মত পানি এবং ডাবের পানি পান করুন।

ব্লাড সুগার লেভেল কম রাখার জন্য গর্ভবতী মায়ের ব্যায়াম করা ভীষণ জরুরী। কারণ ব্লাড সুগার মায়ের সঙ্গে সঙ্গে বাচ্চারও ভীষন ক্ষতি করে। গর্ভকালীন সময়ে মায়ের উচ্চ ডায়াবেটিসের কারণে যেসব নবজাতক বেশি ওজন নিয়ে জন্মায় তাদের মধ্যে শিশু বয়সে এমনকি পরবর্তী জীবনেও স্থূল থেকে যাওয়ার প্রবণতা অনেক বেশি। আক্রান্ত নবজাতকের মধ্যে অনেক ক্ষেত্রে জন্মর পরপরই রক্তে শর্করার পরিমাণ কমে যেতে দেখা যায় (হাইপোগ্লাইসেমিয়া) কারণ তার শরীরে তখনও অতিরিক্ত ইনসুলিন তৈরির প্রক্রিয়া চলতে থাকে। নবজাতকের শ্বাসকষ্টসহ বিভিন্ন ধরনের সমস্যা দেখা দিতে পারে। মায়ের অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিসের কারণে নবজাতকের রক্তে লোহিত কণিকার সংখ্যাধিক্য (পলিসাথিমিয়া) দেখা দিতে পারে বা ক্যালসিয়ামের মাত্রা কমে গিয়ে (হাইপোক্যালসেমিয়া) হৃদযন্ত্রেও সমস্যা দেখা দিতে পারে। জটিলতার কারণে কোন কোন ক্ষেত্রে নবজাতক জন্ডিসে আক্রান্ত হতে পারে, মস্তিষ্কের ক্ষতি বা ‘সিজার’-এ আক্রান্ত হতে পারে, এমনকি অজ্ঞান হয়ে নিস্তেজ হয়ে পড়তে পারে। জন্মর পর যত তাড়াতাড়ি সম্ভব মায়ের দুধ পান করানো হলে হাইপোগ্লাইসেমিয়া অনেকটা নিয়ন্ত্রণ করা যায়। বেশি মাত্রায় হাইপোগ্লাইসেমিয়া দেখা দিলে শিরার মধ্যে গ্লুকোজ ইনজেকশন দিয়ে জটিলতা কমিয়ে আনার চেষ্টা করা হয়। যেহেতু সাধারণত জেসটেশনাল ডায়াবেটিসে আক্রান্তদের আগে তেমন কোন লক্ষণ প্রকাশ পায় না তাই গর্ভবতী সব মহিলারই উচিত গর্ভধারণের পর ‘গ্লুকোজ স্ক্রিনিং টেস্ট’ পরীক্ষাটি করানো। যেসব মহিলার শরীরের ওজন বেশী, আগে বেশী ওজনের সন্তান প্রসবের ইতিহাস, মাতৃগর্ভে শিশু মৃত্যুর ইতিহাস, গরভপাতের ইতিহাস এবং বংশে ডায়াবেটিস থাকলে তাদের ২৪ থেকে ২৮ সপ্তাহের মধ্যে আবার পরীক্ষাটি করাতে হয়। ‘গ্লুকোজ-স্ক্রিনিং টেস্ট’-এ পজিটিভ এলেই যে মহিলাটি ডায়াবেটিসে আক্রান্ত বলে ধরে নিতে হবে তা নয়, এক্ষেত্রে তাকে প্রসবকালীন সময়জুড়ে পরীক্ষাটির পুনরাবৃত্তি করাতে হবে।

আক্রান্ত গর্ভধারিণীরা সাধারণের তুলনায় ঘনঘন বিশেষজ্ঞের সঙ্গে দেখা করে নিজের ও বাচ্চার অবস্থা পরীক্ষা করানো উচিত। বিশেষজ্ঞের পরামর্শমতো ‘ডায়েট’ এবং ব্যায়াম বা হাঁটাহাঁটি করার পরও যদি ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে না আসে সেক্ষেত্রে ওষুধ নেয়ার প্রয়োজন হতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে বাচ্চা ঠিকমতো নড়াচড়া করছে কিনা তা ‘মনিটর’ করার প্রয়োজন থাকে বিশেষ করে গর্ভধারণের ২৮ সপ্তাহ থেকে আরম্ভ করে প্রসবের আগে পর্যন্ত। এক্ষেত্রে বাচ্চার হৃদস্পন্দন এবং সময় সময় ‘আলট্রাসনোগ্রাফি’র সাহায্যে বাচ্চার স্বাভাবিক বৃদ্ধি, মাংসপেশির গঠন, নড়াচড়া, শ্বাস-প্রশ্বাস এবং বাচ্চাকে ঘিরে থাকা তরল পদার্থের উপস্থিতি ইত্যাদি পরীক্ষা করা হয় এবং প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। বাচ্চা বেশি বড় হয়ে গেলে কখনও কখনও সময়ের কিছু আগেই সিজারিয়ানের সাহায্যে প্রসব করানো হতে পারে। যদি কোন মহিলার গর্ভধারণের প্রথমার্ধেই ডায়াবেটিস ধরা পড়ে তবে সাধারণভাবে ধরে নেয়া হয় যে, সে হয়তো আগে থেকেই ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ছিল যা তার জানা ছিল না। গর্ভধারণের ৮ সপ্তাহের মধ্যে যখন বাচ্চার শারীরিক গঠন প্রক্রিয়া চলতে থাকে তখন যদি কোন মহিলা ডায়াবেটিসে আক্রান্ত থাকে তবে সেক্ষেত্রে বাচ্চার জন্মগত ত্রটি বিশেষ করে হৃদযন্ত্রের ত্রুটি এবং অন্যান্য অঙ্গপ্রতঙ্গে ত্রুটির দেখা দেয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে।

গর্ভবতী মায়েদের খাদ্য তালিকা এমন হওয়া উচিত যাতে থাকবে সঠিক মাত্রায় আমিষ, চর্বি, শর্করা এবং সব ধরনের প্রয়োজনীয় খনিজ পদার্থ এবং ভিটামিন। গ্লুকোজের মাত্রা সঠিক পর্যায়ে রাখার জন্য সকালের নাস্তা অবশ্যই গ্রহণ করতে হবে এবং কোন বেলাই খাদ্য গ্রহণ থেকে বিরত না থেকে বরং মিষ্টি, বেকারির তৈরি খাদ্য, ‘জাঙ্ক ফুড’ এবং কোমল পানীয় পরিহার করতে হবে। ডাক্তারের পরামর্শমতো বিভিন্ন ধরনের ব্যায়ামও সেই সঙ্গে চালিয়ে যেতে হবে। এছাড়া প্রাকৃতিক কিছু খাদ্য যেমন করলার রস, নিম পাতা, গুরমারির পাতা, জিরা, আমলকি, জাম্বুরা এইগুলি ডায়াবেটিস রোগীর জন্য বেশ  উপকারী। তবে গর্ভাবস্থায় যেকোন খাবার চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী খাবেন।

ভয় না পেয়ে প্রথম থেকে ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী চিকিৎসা নিলে সুস্থ স্বাভাবিক সন্তান জন্ম দেয়া এবং মা ও শিশুর গর্ভকালীন ও গর্ভ পরবর্তী অনেক জটিলতা এড়ানো সম্ভব। এছাড়াও পরবর্তীতে মা ও শিশু উভয়ের জন্যই টাইপ ২ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনাও দূর করা যায়। 

ডাঃ আঞ্জুমান আরা নিম্মি

-মেডিক্যাল গেইজ