মাত্র তিন মিনিটে খুন হন আরিফা

Print

সাবেক স্বামী রবিনের ফোন এসেছিল। অনেক অনুনয়ের কারণে তাকে বাসায় আসার অনুমতি দেন আরিফা। নিজেই নেমে গিয়ে রবিনকে বাসায় নিয়ে আসেন। রবিনের সঙ্গে ছিল বেশ কয়েকটি ব্যাগভর্তি জিনিসপত্র। তার দুটি হাতে নিয়ে ফেরেন আরিফাও। কিন্তু, বাসার ভেতরে ঢোকেনি রবিন। বারান্দা থেকে সিঁড়ি ঘরে পৌঁছার মাত্র তিন মিনিট পরেই পাওয়া যায় আর্ত চিৎকার। সিঁড়ির সামনে খুন হন ব্যাংক কর্মী আরিফুন্নেসা আরিফা। আর দৌড়ে বাসা থেকে বের হয়ে যায় রবিন। বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর কলাবাগান থানার সেন্ট্রাল রোডের ১৩ ওয়েস্ট এন্ড স্ট্রিটের বাসায় ঘটে যাওয়া ঘটনাটির ধারাবাহিক দৃশ্যপট ছিল এ রকমের। বাড়িটি থেকে পাওয়া ক্লোজ সার্কিট টেলিভিশন ক্যামেরা (সিসিটিভি) ফুটেজে এর সত্যতা মিলেছে। আর ফুটেজ দেখে পুলিশ মনে করছে, সাবেক স্বামী রবিনই আরিফাকে খুন করে পালিয়ে গেছেন।
কলাবাগান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইয়াসির আরাফাতও একই মন্তব্য করেছেন।

নিহত আরিফা পল্টন শাখার যমুনা ব্যাংকের একজন মার্কেটিং এক্সিকিউটিভ ছিলেন। তার বাড়ি জামালপুরের মেলান্দহ উপজেলার হাজড়াবাড়ি গ্রামে।বাবার নাম মৃত আনিসুজ্জামান। তিন ভাই দুই বোনের মধ্যে তিনি ছিলেন সবার ছোট।
ফোন পেয়ে বাসা থেকে বের হয়ে রবিনকে আনতে যান আরিফা
বৃহস্পতিবার সকালে নিজের ভাড়া বাসার সামনে ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত হন তিনি। স্থানীয়দের সহায়তায় আরিফার বড় ভাই আল-আমিন বুলবুল গুরুতর আহতাবস্থায় তাকে উদ্ধার করে প্রথমে সেন্ট্রাল হাসপাতালে ও পরে সেখান থেকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুপুরে আরিফার মৃত্যু হয়।
বিশ্বস্ত সূত্রে পাওয়া ওই বাড়ির সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা ৪৪ মিনিট ৪৩ সেকেন্ডের সময় আরিফা ফোনে কথা বলতে বলতে বাইরে বের হন। প্রায় তিন মিনিট পর সকাল ৮টা ৪৭ মিনিটে সাবেক স্বামী রবিনসহ ভেতরে ঢোকেন তিনি। এসময় দুজনের হাতে ছিল ব্যাগ। মাত্র তিন মিনিট পরেই ৮টা ৫১ মিনিট ২৮ সেকেন্ডের সময় দৌড়ে পালিয়ে যেতে দেখা যায় রবিনকে।এর মধ্যেই খুন হন আরিফা।

পুলিশের ধারণা, সাবেক স্বামী রবিনই তাকে খুন করে পালিয়ে যান। এ বিষয়ে কলাবাগান থানার ওসি ইয়াসির আরাফাত জানান, ‘আরিফা খুন হওয়ার স্থানটির সিসি ক্যামেরা আমরা পর্যবেক্ষণ করছি। প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, আরিফা ও রবিন কিছু মালামাল নিয়ে বাসায় ঢুকছে । আমাদের ধারণা, বিয়ে বিচ্ছেদের পর তাদের ভেতর ফের ভালো সম্পর্ক গড়ে ওঠে। সিসি ক্যামেরা দেখে এমনটিই মনে হচ্ছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘বাসার সিঁড়ির সামনেই রবিন তাকে হত্যা করেছে বলে অনুমান করছি। এ হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত চাকুটিও উদ্ধার করা হয়েছে। তবে রবিনকে এখনও গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি। তবে তাকে গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।’
এদিকে নিহতের পরিবারও এ ঘটনায় রবিনকে দায়ী করে দ্রুত তাকে গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছে।
আরিফার বড় ভাই আল-আমিন বুলবুল জানান, ইডেন কলেজে মাস্টার্স পড়ার সময় ৪ বছর আগে পরিবারের অমতে আরিফা একই এলাকার রবিনকে বিয়ে করে। কিন্তু, দুই মাস সংসার না করতেই আরিফার ওপর নির্যাতন শুরু করে রবিন। দিনে দিনে এ নির্যাতন বাড়তে থাকলে আরিফা বিবাহ বিচ্ছেদের সিদ্ধান্ত নেয় এবং ৩/৪ মাস আগে রবিনকে বিবাহ বিচ্ছেদের চিঠি পাঠিয়ে দেয়। এরপর থেকে মা আফিফা জামানকে নিয়ে সেন্ট্রাল রোডে একটি বাসা ভাড়া নিয়ে বাস করছিল আরিফা।

আরিফার ভাই বুলবুল অভিযোগ করে বলেন, ‘ডিভোর্স (বিচ্ছেদ) হওয়ার পর আরিফাকে যেখানে পেতো, সেখানেই আটকিয়ে হুমকি দিতো রবিন। এ কারণে জীবনের নিরাপত্তার জন্য পুলিশের সহযোগিতা চেয়ে থানায় একটি লিখিত অভিযোগও (জিডি) করেছিলো তার বোন। তারপরেও এ ঘটনা ঘটলো।’
ঢামেক হাসপাতালের চিকিৎসক সূত্রে জানা গেছে, আরিফার ঘাড়ে ও ডান কানের পাশে ধারালো অস্ত্রের গভীর আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।
কলাবাগান থানা সূত্রে জানা গেছে, এ ব্যাপারে একটি মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 70 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ