মাদ্রাসার মাষ্টারীতে ফাঁকিবাজী করে বাসের টিকিট কাউন্টারের মাস্টারী!!

Print

ঝালকাঠির উত্তর জুরকাঠী আজিজিয়া দালিখ মাদ্রাসা
মাদ্রাসার মাষ্টারীতে ফাঁকিবাজী করে বাসের টিকিট কাউন্টারের মাস্টারী!!

আজমীর হোসেন তালুকদার, ঝালকাঠি:: শিক্ষা জীবনের শুরু থেকে সমস্ত জাল সার্টিফিকেটের অধিকারী ‘মাদ্রাসার মাষ্টার’ জিয়াউল হাসান সোহাগ মাঝি রূপাতলীর বাসস্ট্যান্ডে কাউন্টারের ‘টিকিট মাস্টার’ হিসেবে কাজ করার অভিযোগ ওঠায় নলছিটি উপজেলার শিক্ষাঙ্গনে ব্যাপক আলোড়ন ও চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। যে সময়ে তার কর্মরত মাদ্রাসায় উপস্থিত থাকার কথা তার বদলে তিনি বরিশাল নগরীর রূপাতলীর বাসস্ট্যান্ডে টিকিট বেচাকেনা করার সময়ে কথিত মাস্টার জিয়াউল হাসান সোহাগ মাঝি হাতেনাতে ধরা পরেছে। উক্ত মাদ্রাসা পরিচলনা কমিটির সভাপতি মজিবর মাঝির ভায়রা ছেলে ও সেই কমিটির সদস্য এই মাষ্টার মাত্র আড়াই লাখ টাকা ঘুষের বিনিময়ে নিয়োগ নিয়ে অন্য মাষ্টারি করছে বলে নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে। এমন কি সরকারি বেতনভূক্ত একজন শিক্ষক অন্যকোন প্রতিষ্ঠানে চাকুরি করতে পারবে না মর্মে সরকারের সুষ্পষ্ট আইন ও নির্দেশনা থাকলেও শিক্ষক জিয়াউল হাসান সোহাগ মাঝি থোঁরাই কেয়ার করছে বলে অভিযোগে জানাগেছে।
সরেজমিন অনুসন্ধান ও এলাকাবাসীর অভিযোগ সূত্রে জানাগেছে, ঝালকাঠি জেলাধীন নলছিটি উপজেলার দপদপিয়া ইউনিয়নের উত্তর জুরকাঠী আজিজিয়া দাখিল মাদ্রাসায় সর্বসাকুল্যে ১৭ জন ছাত্র-ছাত্রী শিক্ষা গ্রহন করলেও কাগজ-কলমে সোহাগ মাঝিসহ ২০ জন শিক্ষক চাকুরি করছে। কয়েকদিন আগে মাদ্রাসাটি পরিদর্শনে গেলে কক্ষগুলো ঘুড়ে ৪/৫ জন শিক্ষককে এক রুমে গল্প করতে ও উপস্থিত ৫ থেকে ৬জন শিক্ষার্থীকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছড়িয়ে ছিটিয়ে বসে থাকতে দেখা গেছে। মাদ্রাসাটি সংলগ্ন মাঠে দুই বৃদ্ধকে দেখে এগিয়ে গেলে প্রথমে কোন মন্তব্য করতে না চাইলেও পরে ক্ষোভের কন্ঠে জানায়, এটা কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানই নয় বরং মাদ্রাসার আদলে একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। কর্তৃপক্ষের নজরদারীর অভাবে এখানে যেমন নিয়োগ বানিজ্য, অব্যবস্থাপনা ও জালিয়াতির আঁকড়া গড়ে উঠেছে তেমনি ২০ শিক্ষক চাকুরির নামে প্রতিমাসে সরকারের রাজস্ব থেকে কয়েক লাখ টাকা লুটপাট করে চলছে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, মাদ্রাসার মাষ্টার জিয়াউল হাসান সোহাগ মাঝি চাকুরি নেয়ার পর থেকে কখোনও নিয়মিত ক্লাস নেয়নি বরং বরিশালের রূপাতলীর বাসস্ট্যান্ডে কাউন্টারে “টিকিট মাস্টার হিসেবে” কাজ করেন বলে দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছিল। তবে অনেক চেষ্টা করেও বাস কাউন্টারে “টিকিট মাস্টাররা দুই শিফ্টে কাজ করায় তাকে হাতেনাতে ধরা যায়নি । টানা কয়েক দিন খোজ নিয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে রবিবার দুপুর ১টায় রূপাতলী বাস কাউন্টারে উপস্থিত হলে হাতেনাতে ধরা পড়েন মাষ্টার জিয়াউল হাসান সোহাগ মাঝি। দেখা যায় উক্ত মাদ্রাসার (সহকারী মৌলভী) মাষ্টার বসে আছেন মঠবাড়িয়া কাউন্টারে। কয়েক বান্ডিল টিকিট সামনে নিয়ে বসে যাত্রীরা আসছেন আর টাকা রেখে টিকিট দিচ্ছেন।
এ বিষয় আলাপকালে আমতলী বাস কাউন্টারের টিকিট মাস্টার কালাম জানান, সোহাগ মাঝি যে কোন মাদ্রাসার শিক্ষক কিনা আমি জানি না, তবে তিনি দীর্ঘদিন ধরে কাউন্টারে টিকিট মাস্টার হিসেবে কাজ করে আসছে। এ সময়ে মুঠো ফোনে উত্তর জুরকাঠী আজিজিয়া দাখিল মাদ্রাসার সুপার শহিদুল ইসলামের সাথে যোগাযোগ করা হয় তিনি বিষয়টি অস্বীকার করে সোহাগ মাঝি এখন ক্লাসে আছে বলে দাবী করে সোহাগ মাঝির বিরুদ্ধে বাস কাউন্টারে কাজ করে অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে দাবী করেন। বস্তুত তখনো সোহাগ মাঝি নির্দিধায় রূপাতলীর মঠবাড়িয়া কাউন্টারে বসে টিকিট বিক্রি করে যাচ্ছেন। বাস টার্মিনালের ঘুরে আরো দেখা যায়, নোটিশ বোর্ডে লাগানো নিয়মিত কর্মচারীর তালিকায় এবং রোটেশন ভিত্তিতে সকাল-বিকেল শিফ্ট করে লাগানো তালিকায়ও মাষ্টার সোহাগ মাঝির নাম লেখা রয়েছে । এরপর কথা হয় আমতলী বাস কাউন্টারের টিকিট সামনে নিয়ে বসা সোহাগ মাঝির সাথে। নানাভাবে তার সাথে কথা বলার চেষ্টা করলেও তিনি কোন কথা না বলে বিষয়টি সম্পূর্ন এড়িয়ে যান।
প্রসঙ্গত, নলছিটি উপজেলার দপদপিয়া ইউনিয়নের উত্তর জুরকাঠী আজিজিয়া দাখিল মাদ্রাসায় সহকারী মৌলভী পদে নিয়োগ পরীক্ষার সময়েও নগ্নদূর্নীতির আশ্যয় নেয়ার কারনে মোট আবেদনকারী ২২ জনের মধ্যে ১৭ জনকেই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার তারিখ ও সময় কিছুই জানানো হয়নি। যে কারনে মাত্র ৫ জন দ্বারা সাজানো চাকুরি প্রার্থীকে দিয়ে নিয়োগ পরিক্ষা গ্রহন করা হলে বিষয়টি সকল মহলে চাউর চাউর হয়ে গেলে এনিয়ে ব্যাপক লেখালেখি ও আবেদনকারীদের অভিযোগের এক পর্যায়ে নিয়োগ পরীক্ষা বাতিল করা হয়। গত ২০১৫ সালের ১৩ অক্টোরব মঙ্গলবার ঝালকাঠী সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে গ্রহন করা এ পরীক্ষা স্থগিত করা হলেও রহস্যজনক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে সংশ্লিষ্ট কমিটির সভাপতি মজিবর মাঝির ভায়রা ছেলে মাষ্টার জিয়াউল হাসান সোহাগ মাঝি সহকারী মৌলভী পদে নিয়োগ পান।

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 70 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ