মাহি আমার কোলেই ছিল

Print

কবির পেশায় কৃষক। এই গ্রামেরই লোক। সাদামাটা পোশাক। মুখে খোঁচা খোঁচা দাড়ি। কাঁধে লাল রঙের গামছা ঝোলানো। কাজ ফেলে এসেছেন শুটিং দেখতে। তার বাড়ির কাছেই চলছে একটি সিনেমার শুটিং। এখনো গ্রামের মানুষের কাছে বিনোদনের অন্যতম মাধ্যম হলো সিনেমা।
সিনে পর্দায় নায়ক-নায়িকার রসায়ন দেখে সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষ আনন্দের পসরা খুঁজে পান। আর স্বয়ং নায়ক-নায়িকা যদি তাদেরই গ্রামে গিয়ে শুটিং করেন তাহলে তো কথাই নেই। রূপালি পর্দার প্রিয় তারকাকে সামনা সামনি দেখার লোভ সামলানো সত্যিই কঠিন ব্যাপার।

রাজধানী ঢাকার অদূরে মানিকগঞ্জের গুণেরপুতি, হরিরামপুর গ্রামে তাই যেন উৎসবের আমেজ। শুধু কবির একা নন। ওই গ্রামের কৃষ্ণাদেবী, ফাতেমা আক্তার, রহিমা, নুরজাহান, সামছু থেকে শুরু করে শিশু কিশোরসহ নানান পেশার হাজারো মানুষ দূর দূরান্ত থেকে দেখতে এসেছেন সিনেমার শুটিং। কেউবা আবার দশ মাইল দূর থেকেও শুটিং দেখতে এসেছেন!
শুক্রবার দুপুরে মানিকগঞ্জে ‘জান্নাত’ সিনেমার শুটিং স্পট পরিভ্রমণে গিয়ে এমন দৃশ্যেই চোখে পড়লো। সেখানে সিনেমার নায়ক সাইমন সাদিক ও মাহিয়া মাহিকে দেখার জন্যই এ মানব ঢল। কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেলো সাইমন-মাহি জুটির প্রথম সিনেমা ‘পোড়ামন’ দেখার পর থেকেই তারা এ জুটির ভক্ত হয়েছেন। কিন্তু ওই সিনেমার পর তাদের আর কোনো সিনেমায় একসঙ্গে দেখা যায়নি।
ঘড়ির কাটায় সময় দুপুর ১টা। ‘দুই নয়নের আলো’ খ্যাত পরিচালক মোস্তাফিজুর রহমান মানিক তখন মাহি ও সাইমনকে একটি রোমান্টিক গানের দৃশ্য বুঝিয়ে দিচ্ছেন। শর্টটা হলো সাইমন তার বাইসাইকেলের সামনে মাহিকে বলিয়ে রসুন খেতের আইলের উপর দিয়ে যেতে থাকবেন। আর মাহি তখন দুই হাত মেলে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করবেন। কিন্তু আইলের প্রশস্তা এতটাই কম ছিল যে এই সাইকেল করে নায়িকাকে নিয়ে নায়কের শর্টটি দেয়া কঠিনই ছিল। তবে এ যাত্রায় ভালোই ভালোই উতরে গেলেন সাইমন। শর্টটি শেষ হতেই পরিচালক মানিক বলে উঠলেন শাবাশ দারুণ শর্ট!
আর এই শর্টটি শেষ হতেই মাহিকে সঙ্গে নিয়ে এগিয়ে এলেন সাইমন। কখন এসেছি জানতে চাইলেন। বললেন, ‘অদেখা নিয়মে অচেনা এ জীবনে’ এমন মিষ্টি কথার রোমান্টিক একটি গানের শুটিং করছি। সুদীপ কুমার দ্বীপের কথায় গানটি গেয়েছেন আরেফিন রুমি ও পাপড়ি।
মাহি বললেন, গানটি হ্যালোসিনেশন নির্ভর। জানেন এই গানটি যখন কল্পনা করি ঠিক তখন নায়ক জেলে থাকেন। পোড়ামন’র পর একসঙ্গে কাজ করছি। আমাদের প্রথম সিনেমাটি ব্যবসা সফল ছিল। আশা করছি জান্নাত দর্শকদের ভালো লাগবে। আর হ্যাঁ হ্যাঁ ডিরেক্টরের কথা তো বলাই হয়নি। আমার ফিল্ম ক্যারিয়ারে এত ভদ্র ডিরেক্টর দেখিনি। সবসময় চুপচাপ থাকেন। কারো সঙ্গে কথা বলছি এমনটা দেখলে শর্টের সময় হলেও ডাকেন না যে শর্ট দিতে হবে। তাই আমিও খুব সিরিয়াস থাকি যেন আমার কারণে ইউনিটের কোনো সমস্যা না হয়।
এ ব্যাপারে পরিচালকের কাছে জানতে চাইলে বললেন, ভালো দু’জন শিল্পী পেয়েছি। যাদের পরিশ্রমের ফলে ১ তারিখ থেকে শুটিং শুরু করে আজ (শুক্রবার) মাত্র ১০ দিনের মধ্যে ৬০ ভাগ কাজ শেষ করতে পেরেছি। এরই মধ্যে মাহির অংশের শুটিং শেষ পর্যায়ে। এরপর তার মাত্র দুটি গান বাকি থাকবে। গানগুলোর শুটিং হবে রাজশাহীতে।
মাহিকে কোলে নিয়ে এই রোমান্টিক গানের দৃশ্যধারনের সময় সাইমন নাকি নায়িকাকে ফেলে দিয়েছিলেন। প্রশ্ন করতেই জবাবে তিনি বলেন, না, না। তেমন কিছুই ঘটেনি! আসলে আইলটা ভেজা ছিল। মাহিকে কোলে নিয়ে সামনের দিকে যেতেই পা পিছলে যায়। পা পিছলে গেলেও মাটিতে পড়তে দেইনি, মাহি আমার কোলেই ছিল!
নায়ক-নায়িকা ও পরিচালকের কথার মালা যেন শেষ হতে চায় না। ডাক আসে নতুন শর্ট রেডি। মানিক, মাহি ও সাইমন বিদায় নিয়ে চললেন কাজে। শর্ট শুরু হয়েছে, পুরনো এক বট গাছের নিচে দোলনায় মাহি। আর দোল দিচ্ছেন সাইমন। বক্সে বাজছে গান। সন্ধ্যা নামছে। তবুও গ্রামের মানুষের ঘরে ফেরার তাড়া নেই। তবে এ যাত্রায় আমাদের ফিরতে হবে। জান্নাতের জন্য শুভ কামনা। এবার ফেরার পালা গুডবাই মানিকগঞ্জ।

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 196 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ