মা দিবস হোক প্রতিটি দিন  

Print

গাজীপুরের মেয়ে মাইশা কলি রিমি  পরেন গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসী বিভাগে ,সে কারণেই মাকে ছেড়ে দূরে থাকতে হয় । কিন্তু সে দূরত্ব শুধু শরীরের ,মন পড়ে থাকে মায়ের কাছেই । তার মতে, মায়ের সঙ্গে সন্তানের গভীরতম সম্পর্কের কাছে সব সম্পর্কই যেন গৌণ। যে সম্পর্কের সঙ্গে আর কোনো তুলনা হয় না।

 

মায়ের তুলনা মা নিজেই। একটি আশ্রয়ের নাম ‘মা’।  ছোট এই শব্দটি আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় মায়ের স্নেহ-মমতা আর গভীর ভালোবাসার কথা। জীবনের গভীর সংকটে প্রথম যাকে স্মরণ করি তিনি হচ্ছেন পরম মমতাময়ী মা। তাই মায়ের চেয়ে বড় কিছু পৃথিবীতে নেই। মা শাশ্বত, চিরন্তন। মা তো মাই। মা আছেন, থাকবেন। মা দিবস হোক প্রতিদিন ।  আসিফ আল আজাদ পরেন সোনারগাঁ বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের মাস্টার্স শেষ সেমিস্টারে , বাড়ি ঝিনাইদহ জেলায় হলেও পড়ালেখার প্রয়োজনে মাকে ছেড়ে  থাকতে হয় সাভারে । তিনি মনে করেন, সম্ভবত পৃথিবীর সবচেয়ে প্রিয় মানুষ আমাদের মা, আর প্রিয় শব্দ সুমধুর মা ডাক।পৃথিবীর সবচেয়ে দৃঢ় সম্পর্কের নাম ‘মা’।জগতে মায়ের মতো এমন আপনজন আর কে আছেন!  শুধুমাত্র মায়ের ভালবাসাই পারে তার আদরের সন্তানটাকে বিশ্বের দরবারে সম্মানের সাথে মাথা তুলে দাঁড়াবার সাহস ও শক্তি দিতে।  মাকে ভালোবাসি  প্রতিটি মুহূর্তে।

 

রিমি এবং আসিফের মত  প্রতিটি মুহূর্তে মাকে ভালবাসলেও  পৃথিবীর সব মায়েদের প্রতি সম্মান জানাতে কয়েক যুগ ধরে পালিত হয়ে আসছে বিশ্ব মা দিবস। প্রতি বছর এই দিনটি স্মরণ করিয়ে দেয় প্রিয় মমতাময়ী মায়ের মর্যাদার কথা। ৮ মে (রোববার) বিশ্ব মা দিবস। প্রতিবছর মে মাসের দ্বিতীয় রোববার বিশ্বব্যাপী এ দিনটি পালিত হয়। মা দিবস (ইংরেজি: Mother’s Day) হল একটি সম্মান প্রদর্শন জনক অনুষ্ঠান যা মায়ের সন্মানে এবং মাতৃত্ব, মাতৃক ঋণপত্র, এবং সমাজে মায়েদের প্রভাবের জন্য উদযাপন করা হয়। এটি বিশ্বের অনেক অঞ্চলে বিভিন্ন দিনে, সাধারণত মার্চ, এপ্রিল বা মে উদযাপন করা হয়।

 

এ গুলোর অনেকই প্রাচীন উৎসবের সামান্য প্রামাণিক সাক্ষ্য, যেমন,সিবেল গ্রিক ধর্মানুষ্ঠান, হিলারিয়ার রোমান উত্সব যা গ্রিকের সিবেল থেকে আসে, অথবা সিবেল এবং হিলারিয়া থেকে আসা খ্রিস্টান মাদারিং সানডে অনুষ্ঠান উদযাপন। কিন্তু, আধুনিক ছুটির দিন হল একটি আমেরিকান উদ্ভাবন যা সরাসরি সেই সব অনুষ্ঠান থেকে আসেনি।

 

তা সত্ত্বেও, কিছু দেশসমূহে মা দিবস সেই সব পুরোনো ঐতিহ্যের সমার্থক হয়ে গেছে।  বিশ্ব মা দিবসের ইতিহাস শতবর্ষের পুরনো। যুক্তরাষ্ট্রে আনা জারভিস নামের এক নারী মায়েদের অনুপ্রাণিত করার মাধ্যমে দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে স্বাস্থ্য সচেতন করে তুলতে উদ্যোগী হয়েছিলেন। ১৯০৫ সালে আনা জারভিস মারা গেলে তার মেয়ে আনা মারিয়া রিভস জারভিস মায়ের কাজকে স্মরণীয় করে রাখার জন্য সচেষ্ট হন। ওই বছর তিনি তার সান ডে স্কুলে প্রথম এ দিনটি মাতৃদিবস হিসেবে পালন করেন।

 

১৯০৭ সালের এক রোববার আনা মারিয়া স্কুলের বক্তব্যে মায়ের জন্য একটি দিবসের গুরুত্ব ব্যাখ্যা করেন। এরপর তিনি  রাজনীতিবিদ, ব্যবসায়ী, ও সমাজের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ন ব্যক্তিদের কাছে এই দিনকে মা দিবস হিসেবে পালন করার জন্য ও সরকারীভাবে ঘোষনা করার জন্য চিঠি লিখতে শুরু করেন ।  ১৯১৪ সালের ৮ মে উড্রো উইলশন নামের আমেরিকান প্রেসিডেন্ট মে মাসের দ্বিতীয় রোববারকে মা দিবস হিসেবে ঘোষণা করে। এভাবেই শুরু হয় মা দিবসের যাত্রা।   তাই আজকের এইদিনে বলতে চাই, মা দিবস হোক প্রতিদিন, সকল মায়ের প্রতি রইল শ্রদ্ধা আর ভালবাসা।

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 30 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ