মির্জা আলমগীর লাফালাফি করছেন কেন

Print

ষোড়শ সংশোধনী বাতিল করে দেয়া সুপ্রিম কোর্টের রায় নিয়ে বিএনপি ষড়যন্ত্র করছে বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।তিনি বলেন, এই ষড়যন্ত্র প্রতিহত করতে সাংগঠনিক ও রাজনৈতিকভাবে প্রস্তুত থাকতে হবে।আজ শনিবার জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ছাত্রলীগ আয়োজিত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ওবায়দুল এই মন্তব্য করেন।অনুষ্ঠানে ছাত্রলীগ সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ, সাধারণ সম্পাদক এস এম জাকির হোসাইনসহ সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
বিএনপির উদ্দেশে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, আজকে যারা শেখ হাসিনার উন্নয়নকে সহ্য করতে পারছে না, তারা সুপ্রিম কোর্টের একটি রায়কে কেন্দ্র করে নতুন ষড়যন্ত্রে মেতে উঠেছে। এ ষড়যন্ত্রের জাল ছিন্ন করে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আমাদের এগিয়ে যেতে হবে।বিএনপির মহাসচিবকে উদ্দেশ্য্ করে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘মির্জা আলমগীর আপনি এত লাফালাফি করছেন কেন? কারণটা কি? আট বছরে আট মিনিটের জন্যও আন্দোলন করতে পারেননি। জনগণ আপনাদের সঙ্গে ছিল না।কাদের বলেন, এত দিন যারা আন্দোলনের ডাক দিয়ে ঘরে বসে হিন্দি সিরিয়াল দেখে দেখে তাদের কাটত, এখন ঘর থেকে বেরিয়ে এসে আনন্দে মাতোয়ারা হয়ে উঠছে; যেন আদালত তাদের ক্ষমতায় বসিয়ে দেবে। এরা এতদিন বিদেশিদের কাছে নালিশ করেছে, যেন বিদেশিরা তাদের ক্ষমতায় বসিয়ে দেবে।

বিএনপির মন্তব্য করে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘তারা (বিএনপি) আন্দোলন করতে ব্যর্থ। নির্বাচনে হেরে যাবে বলে তারা অংশ নেয়নি। তারা আন্দোলন করতে ব্যর্থ হয়ে ষড়যন্ত্রের জাল পেতেছে। সরকার হটাতে নতুন নতুন ইস্যু খুঁজে বেড়াচ্ছে। সুপ্রিম কোর্টের রায়ে বাংলাদেশের রাজনীতির অঘটন ঘটিয়ে ডিগবাজির চ্যাম্পিয়ন মওদুদ আহমেদ আনন্দে মেতে উঠেছে।’ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আমি বলতে চাই, মির্জা আলমগীর সাহেবকে, আওয়ামী লীগ কখনো পেছনের দরজা দিয়ে ক্ষমতায় আসেনি। বিএনপির জন্ম হয়েছে বন্দুকের নল দিয়ে; পেছনের দরজা দিয়ে বিএনপি ক্ষমতায় এসেছে। অন্ধকার আর ষড়যন্ত্রের পথ দিয়েই তারা এগিয়ে যাচ্ছে। সেভাবেই ২০০১-এর ষড়যন্ত্রমূলক নির্বাচন করেছিলেন।
আপনি আবার মনে করছেন সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পর সেই ষড়যন্ত্রমূলক নির্বাচন হবে, সেই রঙিন খোয়াব কর্পূরের মতো উড়ে যাবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাহেব।’তিনি বলেন, ‘এই মওদুদ সাহেব জিয়াউর রহমানের সরকার থেকে পদত্যাগ করেছিলেন। কারণ জিয়াউর রহমান ইংরেজি জানেন না এই বলে। ভুলে গেছেন বিএনপির লোকেরা? বন্যাদুর্গত এলাকায় যাওয়ার সময় চট্টগ্রামে সড়ক দুর্ঘটনায় আহত বেগম জিয়া যখন কুমিল্লা হাসপাতালে, তখন মওদুদ সাহেব তাঁকে হাসপাতালে রেখে জেনারেল এরশাদের সরকারে যোগ দিয়েছেন।
এই মওদুদ সাহেব একবার বিএনপি, একবার জাতীয় পার্টি, আবার বিএনপি। কী করে তাঁর পরামর্শ নেন খালেদা জিয়া?’
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদের উদ্দেশে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘মওদুদ আহমদরা অবৈধভাবে দখল করা বাড়ির মামলায় হেরে গেলে বলেন বিচারবিভাগ স্বাধীন নয়; আবার বেগম জিয়ার বাড়ির মামলা হেরে গেলেও বিচারবিভাগ স্বাধীন নয়। ষোড়শ সংশোধনী নিয়ে সুপ্রিম কোর্ট যখন রায় দিল, তখন মওদুদ আহমেদ বলছেন, বিচারবিভাগ স্বাধীন। এই হচ্ছে এ দলের অবস্থা।’
দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আমাদের কঠিন চ্যালেঞ্জ অতিক্রম করতে হবে। এই ষড়যন্ত্রের খুঁটি কোথায় কোথায় আছে, তা আমরা জানি। এই খুঁটি তারা আঁকড়ে ধরে আছে। জনগণের মাঝে তাদের কোনো অবস্থান নেই। তাই তারা নতুন নতুন ষড়যন্ত্রের ইস্যু খুঁজে।’
ছাত্রলীগের উদ্দেশে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘সংগঠনের সুনামের ধারা বজায় রাখতে হবে। দল ভারি করার জন্য ছাত্রলীগে খারাপে লোক নেবে না। অনুপ্রবেকারীদের ছাত্রলীগে স্থান নেই। আগাছামুক্ত, পরগাছামুক্ত ছাত্রলীগ গড়তে হবে। গুটিকয়েক খারাপ লোকের জন্য ছাত্রলীগের দুর্নাম হতে পারে না। খারাপদের বের করে দাও, এদের আমাদের প্রয়োজন নেই।

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 129 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ
error: ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি