মুক্তিযোদ্ধার নাম ভাঙ্গীয়ে নবাবগঞ্জে স্ত্রী’কে নির্যাতনের অভিযোগ

Print

মোঃ আসাদ মাহমুদ
ঢাকা জেলার নবাবগঞ্জ উপজেলায় বান্দুরা ইউনিয়নের ৬ নং ওয়ার্ড নিবাসী মোঃ শুকুর আলী (৫৫) এর বিরুদ্ধে তার স্ত্রী রানু বেগম (৪৫) কে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ পাওয়া গিয়েছে।

নবাবগঞ্জ উপজেলায় বান্দুরা ইউনিয়নের ৪ নং ওয়ার্ড নিবাসী মৃত আঃ কাদেরের মেয়ে রানু বেগমের সাথে গত ১২ (বার) বছর আগে একই গ্রামের নিবাসী মৃত নোয়াব আলীর ছেলে শুকুর আলীর সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। বিয়েটি ছিলো উভয়েরই দ্বিতীয় বিয়ে। তবে বিয়ের পর থেকে সাংসারিক কোলাহলে ঝগড়া বিবাদ ও শারীরিক নির্যাতনে অতিষ্ঠ রানু বেগম। তার স্বামী শুকুর আলী প্রতিরাতে তাকে মারধরসহ অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে বলে অভিযোগ স্ত্রী রানু বেগমের। কিন্তু কি জন্য আর কেনোই বা তার স্বামী তার উপর এমন নির্যাতন চালায় সে বিষয়ে জানতে চাইলে রানু বেগম জানান, শুকুর আলী বিগত ১৫ (পনের) বছর আগে বান্দুরা ইউনিয়নের ৬ (ছয়) নং ওয়ার্ডের মেম্বর ছিলেন। এরপর গত ১২ (বার)বছর আগে নানা রকম প্রলোভন দেখিয়ে শুকুর আলী তাকে জোড় পূর্বক বিয়ে করে। বিয়ের পর রানু বেগমের কোনোরকম ভরণ পোষণ, সাংসারিক খরচ সহ তার কোনো দেখাশোনা না করে পূর্ব জমাকৃত টাকা, তার পৈতৃক ও তার ব্যাক্তিগত অর্থায়নে করা জমিসহ বাড়িঘর নিজের নামে লিখে দিতে বলেন। কিন্তু তার এমন অযৌক্তিক প্রস্তাবে রাজী না হওয়ায় সে প্রতি রাতে নেশাগ্রস্ত অবস্তায় অমানুষিক নির্যাতন করে।
ইউ পি চেয়ারম্যান মোঃ হেলাল কে এ বিষয়ে অবগত করলে তিনি গত ৩ (তিন) বছর যাবত সামাজিকভাবে এমন পরিস্থিতির সুরাহা করবেন বলে আশা দিলেও তার কোনো নজির নেই বলে জানান রানু বেগম। পরে নবাবগঞ্জ থানা পুলিশের শরণাপন্ন হয়ে বেশ কয়েকবার জিডি ও অভিযোগ করা হয়। যেখানে জিডি নং ৫২৭/১৭, ৬৪৮/১৭ ও ১১৩৯/১৭ বাকি জিডি বা অভিযোগ পত্রে কোনো রকম সিল সাক্ষর না দিয়েই জিডি কপি দিয়ে অবস্থার সুরাহা করবে বলে নবাবগঞ্জ থানা পুলিশ থেকে বারংবার আশ্বাষ দেওয়া হয় বলে জানান রানু বেগম। তবে এই আশ্বাসেরও কোনো নজির দেখেনি তিনি। পাশাপাশি জিডি করে তা সম্বন্ধে কেনো কোনো রকম অগ্রগতি হয়নি ? তা জানতে চাইলে কোনো পুলিশ অফিসাররাই সদোওর দিতে পারেননি। এ বিষয়ে অভিযুক্ত শুকুর আলী’কে তার স্ত্রীর সকল অভিযাগের বিষয়ে জানতে চাইলে সর্বপ্রথমে তিনি একজন মুক্তিযোদ্ধা বলে দাবী করেন।

দ্বিতীয় স্ত্রী রানু বেগমের সব অভিযোগ মিথ্যা বলে দাবী করেন তিনি। তিনি বলেন তার সস্ত্রীর মাথা খারাপ তাই উল্টা-পাল্টা কথা বলে।পাশাপাশি মাঝেমাধ্যে হালকা-পাতলা নেশা করেন বলে স্বীকারোক্তি দেন শুকুর আলী। তবে কেনোই বা তার সস্ত্রী তার বিরুদ্ধে এমন সব অভিযোগ ও থানায় জিডি করেন সে বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না এবং তিনি একজন মুক্তিযোদ্ধা সুতরাং তার মতো একজন মুক্তিযোদ্ধা দ্বারা এমন অমানুষিক কাজ হতে পারে না বলে জানান তিনি।

অন্যদিকে ইউপি চেয়ারম্যান হেলালের কাছে গেলে তিনি রানু বেগমের সব অভিযোগ সত্য বলে স্বীকার করেন। এমনকি বেশ কয়েকবার রানু বেগমকে মারধরতো অবস্থায় তিনি শুকুর আলীকে বাধা দিয়েছেন বলে জানান তিনি। এ নিয়ে গত ১১ (এগার) অক্টোবর বুধবার দুপুর ১২:০০ টার সময় তাদের স্বামী-স্ত্রী উভয়কে নিয়ে একটি সমাধানের ব্যাবস্থা গ্রহন করার কথা বললেও চেয়ারম্যান ঢাকা গিয়ে তার এক ব্যাক্তিগত কাজে ব্যাস্ত রয়েছেন। পরে তার সাথে ফোনোলাপে কথা বলতে চাইলে ব্যস্ততা দেখিয়ে সে ফোনটি কেটে দেন। নাম না বলতে ইচ্ছুক এলাকার এক বাসিন্দা জানান, চেয়ারম্যান এই নিয়ে ৩ (তিন) বার নির্বাচিত হয়েছেন। তবে নির্বাচিত হওয়ার পর থেকেই প্রতিবার সে মাসে ২০/২৫ (বিশ/পঁচিশ) দিনের বেশি ঢাকায় গিয়ে থাকেন। এলাকায় কোনো বিপদ বা দুর্ঘটনা ঘটলে কখনোই তাকে আমাদের পাশে পাওয়া যায়না।পাশাপাশি ইউনিয়নের রাস্তা ঘাট চলাচলের অনুপযোগী তাতে তার কোনো পদক্ষেপ নেই। ইউনিয়নের জনগন চেয়ারম্যান কর্তৃক সকল প্রকার সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত।তবে সার্বিক পরিস্থিতি শেষে স্বামী কর্তৃক নির্যাতিত রানু বেগম এমন পরিস্থিতি থেকে প্রশাসনের নিকট আইনি ভাবে একটি সমাধানের জোরালো দাবি জানান।

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 154 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ