মুঠোফোনে সামাজিক মাধ্যম ব্যবহারকারী ২ কোটি

Print

বাংলাদেশে ফেসবুক, ইউটিউব, হোয়াটস অ্যাপের মতো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিয়মিত ব্যবহার করেন দুই কোটি লোক। এমন হিসাব দিয়ে মুঠোফোন অপারেটরদের বৈশ্বিক সংগঠন জিএসএমএ বলছে, দেশটির মোট জনসংখ্যার ১৩ শতাংশ এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয়। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের গড় হার ৩৪ শতাংশ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে বাংলাদেশ প্রতিবেশীদের তুলনায় অনেকটাই পিছিয়ে আছে।
এমন তথ্য তুলে ধরা হয়েছে জিএসএমএ প্রকাশিত ‘দ্য মোবাইল ইকোনমি এশিয়া প্যাসিফিক ২০১৭’ শীর্ষক এক গবেষণায়। এতে বলা হয়েছে, ভারত ও বাংলাদেশে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ব্যবহার এ অঞ্চলের গড় অবস্থানের চেয়ে অনেক কম। নিজস্ব ভাষার বিষয়বস্তুর স্বল্পতা এই কম ব্যবহারের সবচেয়ে বড় কারণ।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ সম্পর্কে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশটিতে সবচেয়ে বেশি ব্যবহার হওয়া ১০০ মুঠোফোন অ্যাপ্লিকেশন বা অ্যাপের মধ্যে ২৫ শতাংশ বাংলা ভাষায় তৈরি। মাতৃভাষায় তৈরি ওয়েবসাইট খুব বেশি না থাকায় অনেক মুঠোফোন ব্যবহারকারী ইন্টারনেট ব্যবহারে আগ্রহী হন না। এ কারণে বাংলাদেশে ইন্টারনেটের ব্যবহার প্রত্যাশা অনুযায়ী বাড়ছে না বলে মনে করে জিএসএমএ।
সরকারের তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশে প্রায় ২ কোটি ৩৩ লাখ মানুষ ফেসবুক ব্যবহার করছেন। দেশে যত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহৃত হচ্ছে, এর মধ্যে ৯৯ শতাংশই ফেসবুক। বাংলাদেশে ফেসবুক ব্যবহারকারীদের মধ্যে ১ কোটি ৭০ লাখ পুরুষ আর ৬৩ লাখ নারী।
মুঠোফোন অপারেটর গ্রামীণফোনের প্রধান করপোরেট অ্যাফেয়ার্স কর্মকর্তা মাহমুদ হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, একজন মানুষ ইন্টারনেট কেন ব্যবহার করবেন, তার কিছু সুনির্দিষ্ট কারণ থাকতে হবে। ইন্টারনেটে স্থানীয় ভাষার বিষয়বস্তু বৃদ্ধিতে নিজস্ব উদ্যোগের পাশাপাশি যাঁরা এসব নিয়ে কাজ করছেন, তাঁদের নানাভাবে সহযোগিতা করছে গ্রামীণফোন।
প্রতিবেদনে এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলে ইন্টারনেট-বঞ্চিত জনগোষ্ঠী ২০০ কোটি বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে ৮৫ শতাংশ বা ১৭০ কোটি লোকের অবস্থান মাত্র পাঁচটি দেশে। এই পাঁচটি দেশের একটি হলো বাংলাদেশ। এখানে ইন্টারনেট-বঞ্চিত লোকের সংখ্যা প্রায় ১১ কোটি। বাকি চারটি দেশ হলো চীন, ভারত, ইন্দোনেশিয়া ও পাকিস্তান। এর মধ্যে ভারতে ৮৭ কোটি, চীনে ৪৫ কোটি, ইন্দোনেশিয়ায় ১৬ কোটি ও পাকিস্তানে ১৩ কোটি ইন্টারনেট-বঞ্চিত লোক রয়েছে।
জনগোষ্ঠীর হিসাবে সবচেয়ে বেশি ইন্টারনেট-বঞ্চিত এই পাঁচ দেশের মুঠোফোন ব্যবহারের অগ্রগতি নিয়ে একটি তুলনামূলক সূচক তুলে ধরা হয়েছে প্রতিবেদনে। এই সূচকের নাম দেওয়া হয়েছে ‘মোবাইল কানেকটিভিটি ইনডেক্স’। চারটি বিষয়ের ভিত্তিতে এই সূচক তৈরি করা হয়েছে। এগুলো হলো মুঠোফোনভিত্তিক অবকাঠামো, ক্রয়ক্ষমতা, গ্রাহকদের সেবা নেওয়ার দক্ষতা ও বিষয়বস্তু। এতে বাংলাদেশের সার্বিক স্কোর ৪১। চারটি সূচকের মধ্যে নিজস্ব ভাষার বিষয়বস্তু সূচকে বাংলাদেশ সবচেয়ে কম নম্বর পেয়েছে। এই সূচকে বাংলাদেশের নম্বর ৩০। আর অবকাঠামোর মানে দেশটির নম্বর ৩৩। তবে ক্রয়ক্ষমতা ও গ্রাহকের সেবা নেওয়ার ক্ষমতা সূচকে বাংলাদেশ পেয়েছে যথাক্রমে ৫৬ ও ৫২। অর্থাৎ মুঠোফোনভিত্তিক ইন্টারনেট-সেবা ব্যবহারের জন্য বাংলাদেশের মানুষ তৈরি। কিন্তু দুর্বল অবকাঠামো ও বাংলা বিষয়বস্তুর অভাবের কারণে ইন্টারনেটের ব্যবহার প্রত্যাশিত হারে বাড়ছে না এ দেশে।
দ্রুত বর্ধনশীল ইন্টারনেট বাজার হিসেবে এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের সম্ভাবনার বিষয়টিও প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। এ বিষয়ে বলা হয়েছে, এই অঞ্চলে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা এখন ২০০ কোটি, যা মোট জনসংখ্যার ৪৮ শতাংশ। ২০২০ সালে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা দাঁড়াবে ২৬০ কোটি। অর্থাৎ নতুন করে আরও ৬০ কোটি লোক ইন্টারনেট ব্যবহার করবেন আগামী চার বছরে। গত পাঁচ বছরে এই অঞ্চলে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা দ্বিগুণ বেড়েছে।
২০১৬ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলে ইন্টারনেট ডেটা বৃদ্ধির হার চার গুণ বাড়বে। এখন এই অঞ্চলে জনপ্রতি গড়ে ইন্টারনেট ডেটার ব্যবহার হয় ১ দশমিক ৪ গিগাবাইট। এটি ২০২০ সালে হবে ৬ গিগাবাইট। স্মার্টফোনের ব্যবহার বৃদ্ধির কারণে ডেটা ব্যবহারে এই অগ্রগতি হবে। আগামী চার বছরে স্মার্টফোন ব্যবহারের প্রবৃদ্ধি শীর্ষ তিনটি দেশের একটি হবে বাংলাদেশ।
ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর পাশাপাশি মুঠোফোনের বাজার বৃদ্ধিতেও এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের এগিয়ে থাকার বিষয়টি উঠে এসেছে প্রতিবেদনে। এ বিষয়ে বলা হয়েছে, ২০২০ সাল পর্যন্ত যে ১০টি দেশে মুঠোফোনের একক ব্যবহারকারীর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি বাড়বে, তার পাঁচটি দেশই এই অঞ্চলের। এই পাঁচটি দেশ হলো ভারত, চীন, ইন্দোনেশিয়া, বাংলাদেশ ও পাকিস্তান। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ২০ কোটি ৬০ লাখ নতুন গ্রাহক যোগ হবে ভারত থেকে। বাংলাদেশে একই সময়ে যোগ হবে ১ কোটি লাখ মুঠোফোন গ্রাহক। বাংলাদেশে মোট জনসংখ্যার ৫৩ শতাংশ বা সাড়ে ৮ কোটি মানুষ মুঠোফোনের একক ব্যবহারকারী। আর এখানে সক্রিয় সিম কার্ডের সংখ্যা এখন ১৩ কোটির বেশি।

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 61 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ