মুস্তাফিজকে ভেবেই বেছে নেওয়া হয়েছিল হায়দরাবাদ

Print

ভারতের বিপক্ষে আসন্ন ‘ঐতিহাসিক’ টেস্ট ম্যাচের জন্য বুধবার ঘোষিত বাংলাদেশ দলে জায়গা হয়নি তারকা বোলার মুস্তাফিজুর রহমানের। নির্বাচকরা জানিয়েছেন, টেস্ট ক্রিকেটে লম্বা স্পেলে বোলিং করার মতো এখনও ফিট নন তিনি।
অথচ মুস্তাফিজ দলে থাকলে কিছুটা হলেও মাঠের দর্শকের সমর্থন মিলবে, এটা ভেবেই বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) ভেন্যু হিসাবে হায়দরাবাদকে বেছে নিয়েছিল।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, হায়দরাবাদের উপ্পলে রাজীব গান্ধী আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে ঐতিহাসিক টেস্ট ম্যাচটি আয়োজন করতে চায়নি ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই)। তারা চেয়েছিল কলকাতার ইডেন গার্ডেন্স অথবা দিল্লির ফিরোজ শাহ কোটলায় ম্যাচটি আয়োজন করতে।
কিন্তু কলকাতা বা দিল্লি না হয়ে কেন ভারতের মাটিতে বাংলাদেশের প্রথম টেস্টের ভেন্যু হতে যাচ্ছে হায়দরাবাদ?
উত্তরটা খুব সহজ। গত বছরের মার্চে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে কলকাতার দর্শকের একাংশ যেভাবে বাংলাদেশের বিপক্ষে পাকিস্তানকে সমর্থন দিয়েছিল, তা নিয়ে এখনও বাংলাদেশের ক্রিকেট কর্মকর্তাদের মনে অভিমান।
কলকাতার বুকে ১১ জন বাঙালির দলকে সমর্থন না করে ভারতেরই কিছু ক্রিকেট দর্শক পাকিস্তানের জন্য চেঁচাবেন, এটা তারা বিশ্বাসই করতে পারেননি। সেজন্যই এই টেস্টের ভেন্যু হিসেবে যখন কলকাতার নাম প্রস্তাব করা হয়, তখন তারা একবাক্যে তা খারিজ করে দেন।
অথচ বিসিসিআই এর একটি সূত্র জানিয়েছে, ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন অব বেঙ্গল বা সিএবি’র সভাপতি সৌরভ গাঙ্গুলী ও সচিব অভিষেক ডালমিয়া ভীষণভাবে চেয়েছিলেন স্মরণীয় ম্যাচটা ইডেন গার্ডেন্সেই হোক।
২০০০ সালে আইসিসির পূর্ণ সদস্য হওয়ার পর বাংলাদেশ ঢাকার বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে অভিষেক টেস্ট খেলেছিল। সেই টেস্টে তাদের প্রতিপক্ষ ভারতের অধিনায়ক ছিলেন সৌরভ গাঙ্গুলী। অন্যদিকে বাংলাদেশের টেস্ট স্ট্যাটাস পাওয়ার ক্ষেত্রে অভিষেকের বাবা, স্বনামধন্য ক্রিকেট প্রশাসক জগমোহন ডালমিয়ার অবদান কারও অজানা নয়। কিন্তু সৌরভ-অভিষেক দুজনে মিলেও ভারতের মাটিতে বাংলাদেশের ‘ঐতিহাসিক’ টেস্ট কলকাতায় নিয়ে আসতে পারেননি।
দিল্লির ফিরোজ শাহ কোটলা নিয়ে বিসিবির আপত্তির কারণ ছিল দিল্লি ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনকে (ডিসিএ) ঘিরে আইনি জটিলতা। অতীতে ডিসিএ’র আর্থিক দুর্নীতি ও আরও নানা অভিযোগের কারণে দিল্লিতে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ম্যাচ আয়োজন করা যাবে কিনা, তা নিয়ে একাধিকবার সংশয় তৈরি হয়েছিল। এ কারণেই বাংলাদেশ কোনও অনিশ্চয়তার মধ্যে ঢুকতে চায়নি। তাই তারা কলকাতা ও দিল্লি দুটো ভেন্যুকেই খারিজ করে দিয়েছে।
গত আগস্টে যখন দুই বোর্ডের মধ্যে এই সিরিজ নিয়ে আলোচনা চলছিল, তখন বিসিসিআই বিকল্প ভেন্যু হিসেবে হায়দরাবাদের নাম প্রস্তাব করে। আর সঙ্গে সঙ্গেই তা লুফে নেন বাংলাদেশের ক্রিকেট কর্মকর্তারা।
তার একমাত্র কারণ মুস্তাফিজুর রহমান। বাংলাদেশের ‘কাটার মাস্টার’ ততদিনে সানরাইজার্স হায়দরাবাদের ‘ঘরের ছেলে’ হয়ে উঠেছেন, ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ বা আইপিএলে প্রথম খেলতে নেমেই হায়দরাবাদকে এনে দিয়েছেন আরাধ্য শিরোপা। সানরাইজার্সের ফেসবুক পেজে মুস্তাফিজকে নিয়ে তখন মাতামাতি চলছিল। মুখচোরা হলেও এবং তেমন ইংরেজি না জানলেও তেলুগু ভাষাভাষী হায়দরাবাদের মানুষের মন জিতে নিয়েছিলেন ‘দ্য ফিজ’।
বিসিবি কর্মকর্তারা তাই ধারণা করেছিলেন, হায়দরাবাদে খেলতে নামলে মুস্তাফিজের কারণে কিছুটা সমর্থন নিশ্চয়ই তারা পাবেন। কলকাতায় টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ম্যাচ খেলতে গিয়ে বাংলাদেশকে যে রকম ‘হোস্টাইল ক্রাউড’ বা বিদ্বেষপূর্ণ দর্শক সামলাতে হয়েছে, সেটা অন্তত হায়দরাবাদে হবে না।
আসলে পাকিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচের অভিজ্ঞতা থেকেই বাংলাদেশ প্রবল অভিমানে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছিল কলকাতার ইডেন গার্ডেন্স থেকে। পাশাপাশি মুস্তাফিজ তার বোলিং রান-আপে গিয়ে দাঁড়ালে হায়দরাবাদের কিছু মানুষ প্রিয় তারকার জন্য হাততালি দেবেন, এমন অনুমান করেই ভেন্যু হিসেবে তারা বেছে নিয়েছিলেন রাজীব গান্ধী আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামকে।
অথচ সেই মুস্তাফিজই শেষ পর্যন্ত ‘ঐতিহাসিক’ টেস্টটি খেলার মতো ফিট নন। বাংলাদেশকে তাই হায়দরাবাদের আইপিএল জয়ের অন্যতম নায়ককে ছাড়াই নামতে হচ্ছে উপ্পলে।

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 119 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ