মেডিকেল লাইব্রেরী: কি কি হয় সেখানে

Print

 

ডা. সাঈদ সুজন
____________________________

মেডিকেলে কাউকে যদি জিজ্ঞাসা করি -“লাইব্রেরী তে পড়তে যায় কিনা”? আমারে বলে ওইটা তো জুটিদের প্রেম করার জায়গা। ওখানে পড়া হয় না,শুধু প্রেম লীলা চলে । ওই খানে গেলে দুই দিনেই প্রেম হয়ে যায় । ওই সব দেখলে আর পড়া হয় না তাই রুমে বসেই পড়ি।অনেকের তো চক্ষু হেফাজতে সমস্যা হয়। “স্টাডি পার্টনার রূপ নেয় লাইফ পার্টনারে”।

কিন্তু স্টাডি পার্টনার কি জিনিস ?এর কি গুরুত্ব ? সেটা সবারই জানা দরকার । সবাই ডাক্তার হতে চায়। শুধু তাই না- “সবাই ভালো ডাক্তার হতে চায়”!!

পার্টনারশীপ স্টাডি এর মূল থিম হলো Study Feedback .. এক জনে একটা পড়া পড়ে অপরজনকে তার ফিডব্যাক দেয়া । তাকে নিজে কি বুঝলো সেটা বলা। অপর জনও একি ভাবে তার পড়া গুলো শেয়ার করে। এতে অল্প সময়ে অনেক গুলো পড়া দুজনের মধ্যে exchange হয়ে যায়। কিন্তু মূল ভাগ থেকে যায় নিজের কাছেই। কাউকে কিছু শিখানো যেনো কোনো দ্রুত গতির বুমেরাং এর মতো ।

আমরা জানি কিছু কথ্য সংলাপ জানি, যদিও তার ভিত্তি কারো জানা নাই । তবুও প্রচলিত আইনে তা সত্যি । তা হলো- পড়লে নাকি মনে থাকে ২০-৩০%, যেখানে লিখলে প্রায় ৫০% কিন্তু শুনলে মনে থাকে প্রায় ৮০ থেকে ৯০% । শোনার এতো গুরুত্ব বলেই – “প্রফেসররা এতো ঢাকঢোল পিটিয়ে লেকচার নেয় । নয়তো বইতে সব লেখাই ছিল” । ।

আর পড়াশুনার পরিবেশ লাইব্রেরীতে বসে পড়ার ফজিলতও আগেই বলেছি। স্টাডি পার্টনারশীপের বড় একটা সুবিধা হল – প্রতিদিন নিত্য নতুন কিছু মেডিকেল শব্দ শেখা । প্রতি দিন ৫টা করে শিখলেই বছরে তা ১৬০০ হয়ে যাবে। আর মেডিকেলে কে কবে কোন সামান্য শব্দের উত্তর বলার কারিশমায় আপনি ভালো স্টুডেন্ট খেতাব পেয়ে যাবেন, সেটা কেউ বলতে পারে না।

আমার মেডিকেলের ৫ বছরের স্টাডি পার্টনার ” Shovan Rahman ” । সে অনেক মেধাবী ছাত্র। আমাদের ক্লাসের সবাই এক বাক্যে স্বীকার করে সেটা । তার সাথে পড়াশুনা করে এটাই বুঝতে পেরেছি । স্টাডি পার্টনারশীপ দ্বিমুখী অস্ত্রের মতো যাকে মেডিকেলের ভাষায় “ডাবল এজড সোর্ড” বলে । আপনি বললেও শিখবেন। আপনি শুনলেও শিখবেন। আর কোন দিন কোন শেখা গুলো নিজের কাছে রেসিডুয়াল নলেজ হিসেবে থেকে যাবে -তা নিজে টেরও পাবেন না।
আর আগেই বলেছি – “ডাক্তারি বিদ্যা সাপ লুডু খেলার মতো । এখানে বিদ্যার জোরের সাথে ভাগ্যের জোরও থাকতে হবে । তাইলেই খুব তাড়াতাড়ি মসৃন সিড়ি পেয়ে যাবেন ভালো কিছু হওয়ার । ক্রেডিট গড়িয়ে পড়বে। ধরতে ইচ্ছাও করবে না”।

_____________________________

লেখক ডা. সাঈদ সুজন । সুলেখক।

Director , Endeavour Orientation

Studies MS Urology at Bangabandhu Sheikh Mujib Medical University

-drprotidin

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 362 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ