রোগটি মেরালজিয়া প্যারেস্থেটিকা

Print

রোগটিতে উরুতে ব্যথা হয়। অনেক সময় অসাড় হয়ে যায়। তবে পুরো উরুজুড়ে নয়। বাইরের দিকে এমন হয়। কোন আঘাত ছাড়াই এমন হয়। উরুর বাইরের দিকে যে স্নায়ু থাকে সেখানে ক্ষতিগ্রস্ত হলে মেরালজিয়া প্যারেসথেটিকা দেখা যায়। মেরালজিয়া প্যারেসথেটিকা একটি দীর্ঘমেয়াদী অসুখ। ‘ল্যাটেরাল কিউটেনিয়াম নার্ভ অব থাই’ স্নায়ুতে সমস্যা হয়। অসুখটির আরো কিছু নাম আছে। বার্নহাউট-রথ সিনড্রোম এবং ল্যাটেরাল ফিমোরাল কিউটেনিয়াস নিউরোপ্যাথি। নামগুলো জটিল। তবে মেরালজিয়া প্যারেসথেটিকা নামটিও কিন্তু কম বিদঘুটে নয়। অসুখটিতে বিভিন্ন উপসর্গ দেখা যায়। যেমন- ১। উরুর বাইরের দিকে ব্যথা হয়। অনেক সময় হাঁটুর বাইরের দিকেও ব্যথা হতে পারে। ২। মৌমাছি কামড়ালে যেমন ব্যথা হয়, সে রকম ব্যথার অনুভূতি হতে পারে। ৩। সামান্য একটু তাপের প্রভাবে অনেক বেশি ব্যথা হয়। ৪। গোসলের সময় গরম পানির প্রভাবে এমন হতে পারে। ৪। কিছু ক্ষেত্রে ব্যথা এবং অসাড়তা ছাড়াও চুলকানি এবং কষ্টদায়ক অনভূতি হতে পারে। মেরালজিয়া প্যারেসথেটিকা ডায়াগনসিসের জন্য খুব ভালোভাবে ইতিহাস নিতে হবে। নিতম্বের অস্থিতে কোন আঘাত, ডায়াবেটিস, দুর্ঘটনা ইত্যাদির ইতিহাস সতর্কভাবে নিতে হবে। পেটের এবং পেটের নিচের দিকে কোন সমস্যা আছে কিনা দেখতে হবে। একেবারে নিশ্চিত হবার জন্য ইলেকট্রোমায়োগ্রাফি এবং নার্ভ কন্ডাকশন স্টাডি করা হয়। খুব কম ক্ষেত্রে সিটিস্ক্যান, এমআরআই লাগে। তবে মাথার সিটিস্ক্যান বা এমআরআই এক্ষেত্রে ডায়াগনসিসে সাহায্য করে না। মেরালজিয়া প্যারেসথেটিকাতে একেক জনের জন্য একেক চিকিৎসা দেখা হয়। তবে চাপ পড়ে যদি এমন হয় সেক্ষেত্রে চাপ দূর করলে রোগটি ভালো হয়ে যায়। ব্যথা কমানোর জন্য ব্যথানাশক ওষুধ দেয়া হয়। তীব্র ব্যথা হলে বিশ্রামের পরামর্শ দেয়া হয়। অ্যামিট্রিপটাইলিন, কার্বামাজেপিন এবং গাবাপেন্টিন জাতীয় ওষুধও ব্যবহার করা হয়। তবে সব ক্ষেত্রে যে ভাল কাজ হয় তাও নয়। বিরল ক্ষেত্রে সার্জারি করা হয়। কিন্তু তখন চিরদিনের জন্য উরুর বাইরের অংশ অসাড় হয়ে যায়।

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 57 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ