মেহেদীর উজ্জ্বল রঙের জন্য যা করতে হবে!

Print
এখন বিয়ের মৌসুম, মেহেদী ছাড়া বিয়ে তো কল্পনাও করা যায় না। তাছাড়া সময়ের পরিবর্তনের সাথে সাথে পাল্টে গিয়েছে মেহেদীর ধরন। এখন আর কষ্ট করে বাটতে হয় না, ঘরের পাশের দোকানেই পাওয়া যাচ্ছে টিউব মেহেদী। প্রাকৃতিক কিংবা বাজারের তৈরি মেহেদী যেটাই হোক না কেন মেহেদীর রং নিয়ে সবসময় অনেক চিন্তা, ভয় কাজ করে। যতো সুন্দর ডিজাইনই করা হোক না কেনো, রং না হলে সব কষ্টই বৃথা হয়ে যায়।

আমাদের কালচারে মেহেদী একটা বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আর তা বোঝা যায় ঈদ বা কোন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে। এছাড়া বারো মাসে তেরো পার্বণে তো কথাই নেই। মেহেদি দেয়া খুবই ধৈর্য্যের এক শিল্প। আর আজকাল মেহেদি শিল্পীদের কাছ থেকে নজরকাড়া ডিজাইনের জন্য সবাই কম অর্থ ব্যয় করেন না। আর মেহেদীর রঙ কতটা গাঢ় হল তা নিয়েও আছে নানা সংস্কার, কৌতুক। কিন্তু, এত শখের মেহেদিতে যদি ঠিক মত রঙ না হয় তবে তা জানাতে অর্থসূচক।

মেহেদি দেয়া খুবই ধৈর্য্যের এক শিল্প।

কিছু প্রয়োজনীয় কথা –

  • এক ঢিলে দুই পাখি মারার আশায় নামী-বেনামী ক্যামিকেলের ডিব্বা ব্যবহার করলে নিজের ঝুঁকিতে করবেন। কিন্তু বাচ্চাদের হাতে ঈদের আগের রাতে এগুলো দেবেন না।
  • প্রথমে আপনার পছন্দের ডিজাইন সিলেক্ট করুন। আর্টিস্টের কাছে গেলেও তাকে ভালোভাবে বুঝিয়ে বলুন, আপনি বিশেষ দিনটির জন্য কী চাচ্ছেন। ছবির মাধ্যমেও বুঝাতে পারেন। কমিউনিকেশন গ্যাপ হয়ে গেলে আর্টিস্ট যত সুন্দর করেই কাজ করুক না কেন আপনার পছন্দ নাও হতে পারে।
  • চেষ্টা করুন ন্যাচারাল মেহেদী ব্যবহার করতে। এখন প্রায় সব আর্টিস্ট নিজের হাতে বানানো মেহেদী কোন ব্যবহার করে আবার বিক্রিও করে। বাজারে খুঁজে না পেলে তাদের কাছ থেকে কিনতে পারেন।
মেহেদির মধ্যে কচি পেয়ারা পাতা, লেবুর রস, চা ইত্যাদি ব্যবহার করলে রঙ অনেক গাঢ় হয়

হাত রাঙানোর আগে-

হাতের আর পায়ের যে অংশে মেহেদী দেবেন তা ভালো ভাবে সাবান দিয়ে ধুয়ে নিন। সাবান দিয়ে না ধুলে চামড়ায় রঙ বসে না। একটা পুরনো কাপড় (কোথাও ভুল হয়ে গেলে তাড়াতাড়ি মোছার জন্য), একটা সুঁই (কোনের নজেল বন্ধ হয়ে গেলে পরিষ্কারের জন্য) আগে থেকে কাছে নিয়ে বসুন। মেহেদী দেবার ঠিক আগে আগে ওয়াক্সিং, ম্যানিকিওর, পেডিকিওর করাবেন না। দেখা গেছে, এসবের ঠিক পর পর মেহেদি দিলে রঙটা পানশে বাদামি হয়ে যায়। বেশ ভালো আলো আছে এমন জায়গায় বসুন। এতে ভুল কম হবে। আর আর্টিস্টের কাছে দিলে বারবার নড়াচড়া করবেন না। এতে ডিজাইন নষ্ট হয় আর্টিস্টও বিরক্ত হয়। মেহেদীর মধ্যে কচি পেয়ারা পাতা, লেবুর রস, চা ইত্যাদি ব্যবহার করলে রঙ অনেক গাঢ় হয় কারণ এগুলো মেহেদীর কালারিং প্রপার্টি একটিভেট করে। নিজে বানালে একটু করে মিশিয়ে নিতে পারেন। আর্টিস্টকেও বলতে পারেন যাতে এগুলো ব্যবহার করে।

 

গাঢ়, লাল রাঙ্গা হাতের জন্য-

  • গাঢ় রঙ পেতে চাইলে অবশ্যই বিশেষ দিনের অন্তত ২৪ ঘণ্টা বা ১ দিন আগে হাতে মেহেদী দেবেন। ভালো ন্যাচারাল মেহেদীর আসল রঙ ২৪ ঘণ্টা পর দেখা যায়।
  • ন্যাচারাল মেহেদী হাতে যতক্ষণ রাখতে পারেন তত ভালো। ৬ ঘণ্টা মেহেদী হাতে রাখতে পারলে ভালো
  • মেহেদি শুকানোর পর উঠানোর জন্য পানি দিয়ে ধোবেন না যেন। অন্তত ১২ ঘণ্টা মেহেদী দেয়া জায়গায় পানি লাগাবেন না। নরমাল তেল, বা আচারের তেল দিয়ে মেহেদী উঠাবেন। ধুয়ে ফেললে রঙ ২-৩ শেড হালকা হয়ে যায়।
    mehedi-pata1
  • একটা প্যানে কয়েকটা লবঙ্গ দিন, এবার ধোঁয়া বেরনো শুরু করলে এর উপরে দুই হাতের তালু ধরে রাখুন। ১০ সেকেন্ড পর হাত সরিয়ে একটু লেবুর রসে চিনি মেশান, মেহেদী শুকানোর পর উঠে গেলে হাতে এই মিশ্রণ লাগান।
  • অতিরিক্ত লেবু-চিনি দিয়ে ঘষাঘষি শুরু করবেন না যেন। এতে পানি দিয়ে ধুলে যা হয় তাই হবে, ডিজাইন হালকা হয়ে নষ্ট হয়ে যাবে। কয়েক ফোঁটাই যথেষ্ট।

আশা করি টিপসগুলো উৎসবের দিনে কাজে লাগবে। আগে সবাই এই ট্রিক গুলো জানত, কিন্তু এখন কেমিকেল মেহেদীর যুগে আস্তে আস্তে এর চল উঠেই যাচ্ছে। মনে রাখবেন, ন্যাচারাল উপায় যত সময়সাপেক্ষ হোক না কেন, সবসময়ই সম্পূর্ণ নিরাপদ। বড় বা ছোট সবার জন্য। নিশ্চয়ই আপনি চান না মেহেদীর মত আমাদের সংস্কৃতির এত সুন্দর একটা অংশের অপব্যবহার করে বিশেষ দিনটিকে নষ্ট করতে।

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 716 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ
error: ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি