মেয়রের শটগানের গুলিতেই সাংবাদিক শিমুল গুলিবিদ্ধের ভিডিও ফাঁস

Print

সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর পৌরসভার মেয়র হালিমুল হক মিরু পুলিশের উপস্থিতিতেই প্রকাশ্যে গুলি করেছিলেন। এমন একটি চাঞ্চল্যকর ভিডিও ফাঁস হয়ে গেছে।
ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, বৃহস্পতিবার শাহজাদপুর আওয়ামী লীগের দুই পক্ষের সংঘর্ষ চলাকালে অন্তত ছয় রাউন্ড গুলি করেন মেয়র। আত্মরক্ষার্থে ফাঁকা গুলি নয়, বরং প্রতিপক্ষকে আক্রমণ করতেই তিনি প্রকাশ্যে জনতার উদ্দেশ্যে গুলি করেন।

প্রতক্ষ্যদর্শী ও ভিডিও ধারণকারী এই প্রতিবেদককে জানান, মেয়রের শটগানের গুলিতেই গুলিবিদ্ধ হন সাংবাদিক আবদুল হাকিম শিমুল। ২ মিনিট ১৫ সেকেন্ডের ভিডিওটি মোবাইল ফোনে ধারণ করেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় ওই ব্যক্তি।

ভিডিওতে দেখা গেছে, বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মিরা ঘেরাওয়ের সময় মেয়রের বাড়ির সামনেই বেশ কয়েকজন পুলিশ ছিল। পুলিশ সদস্যরা ভিপি রহিমের সমর্থকদের ঠেলে মেয়রের বাড়ির সামনে থেকে সরিয়ে দিচ্ছে। এ সময় অন্তত চার থেকে রাউন্ড গুলির শব্দ শোনা যায়।
পুলিশ ভিপি রহিমের সমর্থকদের সরিয়ে দেওয়ার পর মেয়রের সমর্থকরা পিন্টুর নেতৃত্বে গলি থেকে লাঠি হাতে বেরিয়ে এসে তাদের ধাওয়া করে। এসময় সাদা গেঞ্জি ও লুঙি পরিহিত মেয়রও শর্টগান হাতে বেরিয়ে এসে ভিপি রহিমের সমর্থকদের ধাওয়া করেন। এসময় দুই রাউন্ড গুলির শব্দ শোনা যায়। ৪৫ সেকেন্ড পর মেয়র আবার নিজ বাসভবনের গলিতে ফিরে আসেন। তার হাতে ছিল অস্ত্র।
ঘটনার পরপর মেয়র মিরু দাবি করেছিলেন, তিনি আত্মরক্ষার্থে লাইসেন্স করা শর্টগান দিয়ে এক রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুড়েছেন। কিন্তু ভিডিওতে অন্তত ছয় রাউন্ড গুলির শব্দ শোনা গেছে। মেয়র ফাঁকা গুলি ছুড়েছেন এমন কোনো দৃশ্যও দেখা যায়নি। তাকে দৌড়ে যেতে দেখা যায়। এর দুই সেকেন্ড পরেই শোনা যায় গুলির শব্দ।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ও ভিডিও ধারণকারী জানিয়েছেন, মেয়র মিরু দৌড়ে যাওয়ার পর যে গুলির শব্দ শোনা গেছে তাতেই গুলিবিদ্ধ হন সাংবাদিক শিমুল। গুলি বর্ষণের পরপরই রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়েন শিমুল। ঘটনাস্থলে পুলিশ উপস্থিত থাকলেও মেয়রের সমর্থকদের হামলা ঠেকানোর চেষ্টা করেনি। বরং পুলিশের উপস্থিতিতেই গলি থেকেই বেরিয়ে গুলি করে, আবারো বাড়ির গলিতে ফিরে যান মেয়র মিরু।
প্রসঙ্গত, বৃহস্পতিবার দুপুরে সিরাজগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও শাহজাদপুর পৌরসভার মেয়র হালিমুল হক মিরুর ছোট ভাই পিন্টু শাহজাদপুর সরকারি কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি বিজয় মাহমুদকে মারধর করে হাত পা ভেঙে দেন। বিজয় শাহজাদপুর পৌর আওয়ামী লীগের বহিষ্কৃত সভাপতি ভিপি রহিমের শ্যালক। বিজয়ের ওপর হামলার প্রতিবাদে ভিপি রহিমের সমর্থকরা লাঠি হাতে হালিমুল হক মিরুর মনিরামপুর মহল্লার বাড়ি ঘেরাও করে। ওই সময়ই মেয়রের শটগানের গুলিতে গুলিবিদ্ধ হন সাংবাদিক শিমুল।
আহত শিমুলকে প্রথমে শাহজাদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হয়। পরে তাকে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজে ভর্তির পর ঢাকা নেওয়ার পথে শুক্রবার দুপুরে তিনি মারা যায়।
শুক্রবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে সিরাজগঞ্জ সদর হাসপাতালে শিমুলের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়। এদিকে সংঘর্ষের ঘটনায় শাহজাদপুর থানা পুলিশ পৌর মেয়র হালিমুল হক মিরুর শর্টগান জব্দ ও তার দুই ভাই পিন্টু ও মিন্টুকে গ্রেপ্তার করেছে।
সিভিল সার্জন ডা. শেখ মনজুর রহমান জানিয়েছেন, গুলিতেই সাংবাদিক শিমুলের মৃত্যু হয়েছে। ময়না তদন্তে শিমুলের মাথায় গুলি পাওয়া গেছে।
সিভিল সার্জন ডা. শেখ মনজুর রহমান বলেন, তিন সদস্যের একটি চিকিৎসক দল রাতে ময়না তদন্ত সম্পন্ন করেন। আমি নিজেই ময়না তদন্তের সময় উপস্থিত ছিলাম। এ সময় শিমুলের মাথার ভেতর থেকে একটি গুলি পাওয়া যায়।
সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. আকরামুজ্জামান জানান, ময়না তদন্ত শেষে মরদেহ শাহজাদপুরে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।
শাহাজাদপুর থানার ওসি রেজাউল হক জানান, শিমুল নিহত হওয়ার ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে তার স্ত্রী নুরুন নাহার বেগম বাদী হয়ে পৌর মেয়রসহ ১৮ জনের বিরুদ্ধে রাতে একটি হত্যা মামলা করেছেন।

সাংবাদিক শিমুলের ছোট ভাই মো. আজাদ জানিয়েছেন, শনিবার সকাল ১০টায় শাহজাদপুর পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ে সাংবাদিক শিমুলের প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। দ্বিতীয় জানাজা তার নিজ গ্রাম পোতাজিয়া ইউনিয়নের মাদলা গ্রামে অনুষ্ঠিত হবে এবং মাদলা কবরস্থানে দাফন সম্পন্ন হবে।

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 133 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ