মেয়াদোত্তীর্ণ যন্ত্রপাতিঃ ঝুঁকিতে নাটোরের দুইটি সুগার মিল

Print

 

নাটোর প্রতিনিধিঃ
জোড়াতালি দেওয়া মেয়াদোত্তীর্ণ মেশিনগুলো নাটোর সুগার মিলে কমরত শ্রমিক ও চিনিশিল্পের জন্য ঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ১৭ টি চিনিকলের ২টি নাটোরে স্থাপিত হওয়ায় গুরুত্ব রয়েছে নাটোর থেকে উৎপাদিত চিনির। দেশব্যপী চিনির মোট চাহিদার একটি বড় অংশের যোগান দিলেও উৎপাদন প্রক্রিয়ায় আধুনিকতার ন্যূনতম ছোঁয়াটুকু লাগেনি, বরং কারখানার যন্ত্রগুলো প্রতি মৌসুমে জোড়াতালি দিয়ে ব্যবহার করা হচ্ছে।
মিল সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রতিষ্ঠার পর থেকে দৃশ্যমান উন্নয়ন বা সংস্কার – কোনটিই হয়নি নাটোরের দুই সুগার মিলে। আধুনিকায়নে লাভজনক হবে চিনিকল এমনটি মনে করা হলেও নাটোর চিনিকল এখনো আধুনিকতার লেশমাত্র লাগেনি।
বুধবার সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, নাটোর সুগার মিলের ভিতর অর্ধশতাধিক শ্রমিক কাজ করছেন। তারা জোড়াতালি দেয়া মেশিনগুলোই অপারেট করছেন। জানতে চাইলে কয়েকজন শ্রমিক জানান, মিলটির অর্ধেকেরও বেশি মেশিন মেয়াদোত্তীর্ণ। উপায় না থাকায় মেয়াদোত্তীর্ণ মেশিনেই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করছেন তারা। এভাবে চলতে থাকলে যেকোনো সময় বড় ধরনের দূর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন শ্রমিকরা। অপরদিকে, পুরাতন ও মেয়াদোত্তীর্ণ মেশিন ব্যবহারের কারণে কমছে উৎপাদনের পরিমাণ। উৎপাদনশীলতার সঙ্গে লাভের সম্পর্কের কারণে স্বাভাবিকভাবেই উৎপাদনের পরিমাণ কমার কারণে দিন দিন লোকসানের দিকে যাচ্ছে মিলটি। উৎপাদনশীলতা হ্রাসের পরিমাণকে লোকসানের প্রধান কারণ বলে মনে করে খোদ কর্তৃপক্ষ।

মিলটির কয়েকজন কর্মকর্তার সাথে কথা বলে জানা যায়, ১৯৮২ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে এখন পর্যন্ত বড় কোনো মেরামত কাজ হয়নি এই মিলে। প্রতিবছর মাড়াই মৌসুমের আগে শুধুমাত্র জোড়াতালি দিয়ে কোন রকমে মেরামত করে মৌসুম শুরু করে কর্তৃপক্ষ। বেশ কয়েকজন শ্রমিক অভিযোগ করেন, একটি মেশিনের মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়ার কিছুদিন পর ২০০৬-০৭ অর্থবছরে মিলে বয়লার বিস্ফোরণে বেশ কয়েকজন শ্রমিক আহত হয়েছিল। এভাবে মিলের মেয়াদ উত্তীর্ণ যন্ত্রপাতি দিয়ে কাজ করতে শ্রমিকদের প্রতি মূহূর্ত কাটে আতঙ্কে। আবারও বয়লার বিস্ফোরণের মতো কোন দূর্ঘটনা ঘটলে হতে পারে ব্যপক প্রাণহানি। সাইফুল ইসলাম নামে অপর এক শ্রমিক দাবি করেন, মিলটি চালুর সময় মেশিনের মেয়াদ ছিল ২০ বছর। কিন্তু মেয়াদের পর আরো এক যুগ পেরিয়ে গেলেও তার দিকে নজর নেই কর্তৃপক্ষের। নিজেদের জীবন ও শিল্প বাঁচাতে এখনই মেশিনসহ বিভিন্ন যন্ত্রপাতির মেরামত করা প্রয়োজন।

এদিকে মেয়াদোত্তীর্ণ মেশিনের পরিমাণ ও তার প্রতিস্থাপনে প্রয়োজনীয় বরাদ্দ আছে কি না জানতে সুগার মিলের মহা-ব্যবস্থাপক (কারখানা) প্রকৌশলী মাধব চন্দ্র মন্ডলের অফিসে যাওয়া হলে তাকে পাওয়া যায়নি। তবে মিলটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক শহিদ উল্লাহ্ উৎপাদন কাজে ব্যবহৃত মেশিনগুলো এখনো ভালো ও কার্যোপযোগী উল্লেখ করে জানান, ইতোমধ্যে শ্রমিকদের নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় নেয়া হয়েছে। উল্লেখ্য, ১৯৮২ সালে পৌরশহর এলাকায় ৫০ একর জমির উপর নির্মাণকাজ শুরু হয় এই সুগার মিলের। প্রতিদিন ১ হাজার ৫০০ মেট্রিক টন ক্ষমতাসম্পন্ন এই সুগার মিলে ১৯৮৪-৮৫ অর্থবছরে আনুষ্ঠানিকভাবে আখ মাড়াই শুরু করা হয়। মিলটিতে বর্তমানে সহস্রিিধক শ্রমিক-কর্মচারী কাজ করেন।

 

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 74 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ