মেয়েদের শিষ বাঁজানো যে অন্যরকম বিষয়

Print

কণ্ঠশিল্পী অবন্তী সিঁথি। ক্লোজআপ ওয়ানের এই শিল্পীর ‘কাপ সং’ ভাইরাল হয়েছে অনলাইন দুনিয়ায়। আগামীকাল ভারতীয় চ্যানেল জি-বাংলার ‘সা রে গা মা পা’ অনুষ্ঠানে সংগীত পরিবেশেন করবেন তিনি। অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ ও ক্যারিয়ার নিয়ে আমাদের সময়ের সঙ্গে অনেক কথাই বলেছেন তিনি। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন- তারেক আনন্দ
আপনি গান গাওয়ার আগে শিষ বাজান। শুরুটা কবে থেকে?

ছোটবেলা থেকে। দেখতাম ছেলেরা খুব সুন্দর করে শিষ বাজায়, আমারো ইচ্ছা হতো। পরবর্তীতে আমিও চেষ্টা করলাম। এক সময় শিষ বাজানো শিখে গেলাম।
শিষ বাঁজানো নিয়ে মজার কোনো অভিজ্ঞতা আছে?
মেয়েদের শিষ বাঁজানোটা যে অন্যরকম বিষয়, সেটা বুঝতে পারি ক্লোজআপ ওয়ানে আসার পর। সিলেকশন রাউন্ডে আইয়ুব বাচ্চুর ‘সেই তুমি’ গানটি শুরু করেছিলাম শিষ দিয়ে। বিচারক ছিলেন আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুল, ফাহমিদা নবী ও পার্থ বড়ুয়া দা। গান শেষ হওয়ার পর তারা আমাকে প্রশংসার জোয়ারে ভাসাচ্ছিলেন। ওই সময়ই আমাকে তিনবার শিষ বাজিয়ে শোনাতে হয়েছে। ক্লোজআপ ওয়ানের টাইটেল ট্র্যাকটিও শিষ বাজিয়ে করেছিলাম। তখন আমার নাম হয়ে যায় হুইসেল কুইন।
ক্লোজআপ ওয়ান প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করেছিলেন ২০১২ সালে। পেরিয়ে গেল চার বছর। এ সময়টাতে অর্জন কি?
নাথিং।
তাহলে প্রতিযোগিতায় এসে লাভ কি হলো?
আমাকে একটু হলেও মানুষ চিনতে শুরু করেছে। একজন গুনী শিল্পী হওয়ার জন্য চার বছর খুব বেশি সময় নয়। প্রতিনিয়ত চর্চা করছি, নতুন নতুন গান করছি। স্টেজ শো চলছে। অ্যালবামের কাজ করছি। এই তো। কিন্তু সংগীতের বিশাল পরিসরে এগুলো কিছুই না। আরও ভালো কিছু করতে হবে।
এখন পর্যন্ত কতগুলো মৌলিক গান প্রকাশ হয়েছে?
তোমার জন্যে’ ও ‘জলকনা’ শিরোনামে দুটি মিউজিক ভিডিও প্রকাশ হয়েছে। ১০-১২টি মিশ্র অ্যালবামে গান গেয়েছি। ৫-৬টি চলচ্চিত্রের গানে প্লেব্যাক করেছি। জিঙ্গেলে ভয়েস দিচ্ছি। এ বছর একক অ্যালবাম প্রকাশ করবো। এরমধ্যে ডিজে রাহাত ফিচারিং ‘সোনাবন্ধু’ কাভার সংটির বেশ ভালো সাড়া পেয়েছি।
এরমধ্যে আলোচিত গান কোনটি?
মৌলিকগানগুলি এখনো আলোচিত হয়নি। কিছু গান কাভার (অন্য শিল্পীর গান) করার পর শ্রোতাদের কাছ থেকে বেশ সাড়া পাচ্ছি। আমার করা কাভারগুলি ছিল ব্যতিক্রমধর্মী। অনেকগুলি কাভার সং করেছিলাম, তারমধ্যে ‘যেখানে সীমান্ত তোমার’ গানটি করি- কাপ, ফয়েল পেপার ও কয়েন দিয়ে। গানটি প্রকাশের পর অনলাইনে ভাইরাল হয়ে যায়।
কাপ, ফয়েল পেপার ও কয়েন দিয়ে গান কারার এই যে আইডিয়া, এটা এলো কিভাবে?
চার মাস আগে ইউটিউবে নিজের নামে চ্যানেল খুলি। চ্যানেলটির বিষয়বস্তুই ছিল ‘এনি থিং ক্যান বি অ্যান ইন্সট্রুমেন্ট’। ২০১২ সালে হলিউডে মিউজিক্যাল ছবি ‘পিচ পারফেক্ট’-এর একটি গানে কাপ ব্যবহার করে সংগীতায়োজন করা হয়েছিল। যেটা ইউটিউবে কাপ সং হিসেবে পাওয়া যায়। তখনই আইডিয়াটা মাথায় এলো। তারপর আমি নিজের মতো করে ‘যেখানে সীমান্ত’ গানটি করি।
আপনার করা ‘কাপ সং’টি নিয়ে জি-বাংলার ‘সা রে গা মা পা’ তে গিয়েছিলেন। সেই গল্পটা বলুন…
গানটি দুই বাংলাতেই ভাইরাল হয়ে যায়। জি-বাংলার গ্রুমার রথিজিৎ ভট্টাচার্য্য গানটি শুনে অনেক প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, তুমি কি এই গানটা লাইভ করেছো? আমি বললাম, হ্যাঁ। এরপর ‘সা রে গা মা পা’তে অংশগ্রহণ করার জন্য প্রস্তাব দেন। আমি সাহস দেখাইনি।
পরে?
দাদাই আমাকে সাহস দিয়েছেন। জি-বাংলার মঞ্চে গানগুলির এক্সপেরিমেন্ট দেখে আমি দাদাকে বললাম, একটা কাপ সং করা যায় কিনা? তখন তিনি বললেন, কলকাতায় এসে দেখা করো। কিছুদিন পর বেড়াতে গেলাম, দাদার সঙ্গে দেখাও হলো। তারপর আমি অনুষ্ঠানে অংশ নিলাম। আগামীকাল সারেগামাপায় আমার কাপ-পারকেশান ও হুইসেলিং শোনা যাবে।
কম্পোজিশনের প্রতি দুর্বলতা কি আগে থেকেই? সামনে কম্পোজিশনে দেখা যাবে?
রিদমের প্রতি দুর্বলতা ছোটবেলা থেকে। গান শেখার হাতেখড়ি ওস্তাদ সুশান্ত দেব কানুর কাছে হলেও রিদমে আমার প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা নেই। যে রিদমগুলো করছি, সেটা আরও ভালোভাবে করার জন্য শিখবো। সুযোগ পেলে প্রিয় কোনো গান নিয়ে এক্সপেরিমেন্ট করবো। পূর্ণাঙ্গ কম্পোজিশনে আসতেও পারি।
গানের বাইরে ভালো লাগা কি?
রান্না করতে ভালো লাগে। খাইও বেশি বেশি। সময় পেলেই বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা, ঘোরাঘুরি।
পড়াশোনা শেষ করেছেন?
শুধু শেষ করি নাই, এখন আমি একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের লেকচারার। কেমেস্ট্রি পড়াই। গানের পাশাপাশি এই পেশাটা আমার অনেক ভালো লাগে।
প্রিয় মানুষের দেখা পেয়েছেন?
থাকলেও বলবো কেন? সিক্রেট…

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 56 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ